০৫:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: মীর হেলাল

নাগরিকদের দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন, এমপি।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সঠিক ও কার্যকর ভূমি জোনিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে ভূমি খাতে দুর্নীতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এ লক্ষ্যে সরকার সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

২২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) রাতে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু অডিটোরিয়ামে ‘চট্টগ্রাম বিল্ড এক্সপো-২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। নাগরিকরা যেন রাষ্ট্রের সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা অনুভব করতে পারেন, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। জনগণের জন্য সরকারি সেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

এক্সপোতে প্রদর্শিত পরিবেশবান্ধব ইটের প্রশংসা করে মীর হেলাল বলেন, দেশের পরিবেশ ও মাটির উর্বরতা রক্ষায় নির্মাণ খাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। নিয়মনীতি না মেনে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলো দেশের উপরিভাগের উর্বর মাটি বা টপ সয়েল ধ্বংস করছে। এভাবে মাটির উর্বরতা নষ্ট হতে থাকলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।

তিনি বলেন, সীমিত আয়তনের দেশে জনসংখ্যার চাপের কারণে কৃষিজমি রক্ষা বর্তমানে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তাই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার সময় পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষিজমি নষ্ট করে অপরিকল্পিতভাবে অবকাঠামো নির্মাণ থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।

নির্মাণশিল্পের উদ্যোক্তাদের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টেকসই ও আধুনিক নির্মাণপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য বাংলাদেশ নিশ্চিত করা যাবে।

ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মীর হেলাল বলেন, ব্যবসার মূল লক্ষ্য মুনাফা অর্জন হলেও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে উদ্যোক্তাদের ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিকল্পিত ও আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে স্থপতি ও প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, উন্নয়ন শুধু ইট-পাথরের অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উন্নয়ন হতে হবে পরিকল্পিত, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সবার। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশকে আরও আধুনিক, সমৃদ্ধ ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য সরকার, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, স্থপতি, প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

চট্টগ্রামে ‘চট্টগ্রাম বিল্ড এক্সপো-২০২৬’-এর মতো তথ্যবহুল ও যুগোপযোগী আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান মীর হেলাল। এ ধরনের প্রদর্শনী নির্মাণ খাতে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নির্মাণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের নেতৃবৃন্দ, খ্যাতনামা স্থপতি ও প্রকৌশলী, উদীয়মান স্থপতি-প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিএস./

ট্যাগ :

মাদকমুক্ত চট্টগ্রাম গড়তে সম্মিলিত অঙ্গীকার, জেলা পুলিশের সুধী সমাবেশ ও র‍্যালি

দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: মীর হেলাল

প্রকাশিত : ০৪:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

নাগরিকদের দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন, এমপি।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সঠিক ও কার্যকর ভূমি জোনিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে ভূমি খাতে দুর্নীতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এ লক্ষ্যে সরকার সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

২২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) রাতে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু অডিটোরিয়ামে ‘চট্টগ্রাম বিল্ড এক্সপো-২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। নাগরিকরা যেন রাষ্ট্রের সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা অনুভব করতে পারেন, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। জনগণের জন্য সরকারি সেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

এক্সপোতে প্রদর্শিত পরিবেশবান্ধব ইটের প্রশংসা করে মীর হেলাল বলেন, দেশের পরিবেশ ও মাটির উর্বরতা রক্ষায় নির্মাণ খাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। নিয়মনীতি না মেনে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলো দেশের উপরিভাগের উর্বর মাটি বা টপ সয়েল ধ্বংস করছে। এভাবে মাটির উর্বরতা নষ্ট হতে থাকলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।

তিনি বলেন, সীমিত আয়তনের দেশে জনসংখ্যার চাপের কারণে কৃষিজমি রক্ষা বর্তমানে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তাই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার সময় পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষিজমি নষ্ট করে অপরিকল্পিতভাবে অবকাঠামো নির্মাণ থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।

নির্মাণশিল্পের উদ্যোক্তাদের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টেকসই ও আধুনিক নির্মাণপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য বাংলাদেশ নিশ্চিত করা যাবে।

ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মীর হেলাল বলেন, ব্যবসার মূল লক্ষ্য মুনাফা অর্জন হলেও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে উদ্যোক্তাদের ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিকল্পিত ও আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে স্থপতি ও প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, উন্নয়ন শুধু ইট-পাথরের অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উন্নয়ন হতে হবে পরিকল্পিত, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সবার। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশকে আরও আধুনিক, সমৃদ্ধ ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য সরকার, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, স্থপতি, প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

চট্টগ্রামে ‘চট্টগ্রাম বিল্ড এক্সপো-২০২৬’-এর মতো তথ্যবহুল ও যুগোপযোগী আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান মীর হেলাল। এ ধরনের প্রদর্শনী নির্মাণ খাতে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নির্মাণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের নেতৃবৃন্দ, খ্যাতনামা স্থপতি ও প্রকৌশলী, উদীয়মান স্থপতি-প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিএস./