প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কে এখন স্বস্তির বদলে ভোগান্তিই যেন নিত্যসঙ্গী। সড়ক পুনর্নির্মাণের কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় এবং সংস্কারের নামে পুরো পথ খুঁড়ে রাখায় বর্ষার বৃষ্টিতে কাদা-পানিতে বেহাল হয়ে পড়েছে পার্কের ভেতরের সড়ক। এতে পাহাড়, সবুজ আর প্রকৃতির টানে আসা পর্যটকদের আনন্দ ম্লান হয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের পাড়ি দিতে হচ্ছে কাদা-মাটির দুর্গম পথ, ফলে একসময়ের আকর্ষণীয় এই পর্যটনকেন্দ্রটি এখন পরিণত হয়েছে চরম দুর্ভোগের স্থানে।
সরজমিনে দেখা যায়, পাহাড়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া ইট-মাটির মূল রাস্তাটির বেহাল দশা। বৃষ্টির পানি ও কাদায় রাস্তাটি যেন ছোটখাটো খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। গাড়ির চাকার গভীর দাগ আর জমাট কাদা-পানির কারণে কোন যান চলাচলের উপায় নেই। এর মধ্যেই কাঠের লাঠিতে ভর দিয়ে দীর্ঘ কাদার পথ পায়ে হেঁটে পার হচ্ছেন পর্যটকেরা। রাস্তার একপাশে ইটের স্তূপ ও খোঁড়া মাটি ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের জরাজীর্ণ সড়ক ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে ২০২৫ সালের মে মাসে ‘তৌহিদ অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬ মাস পরেও কাজের কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। কার্যাদেশ পাওয়ার পরপরই ঠিকাদার পুরো রাস্তাটি খুঁড়ে ফেলে রাখায় পার্কের ভেতরের দীর্ঘ সোয়া ৫ কিলোমিটার পথ এখন সম্পূর্ণ যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। কার, মাইক্রোবাস বা বাস নিয়ে আসা পর্যটকদের পার্কের প্রবেশপথেই গাড়ি রেখে দীর্ঘ পথ হেঁটে পাহাড়ে উঠতে হচ্ছে।
কুমিল্লা, রাজশাহীসহ দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, চারপাশের সবুজ পরিবেশ ও পাহাড়ি সৌন্দর্য মন কাড়লেও কাদায় মাখামাখি এই ধ্বংসাত্মক রাস্তার কারণে ভ্রমণ আনন্দ বিষাদে পরিণত হচ্ছে।
ধীরগতির কারণে পর্যটন ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানান ইকোপার্কের ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ইকবাল হোসেন ও হাসান তারেক। অন্যদিকে, সীমানা প্রাচীর ও রাস্তার বাকি কাজ দ্রুত শেষ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন।
কাজের বিলম্ব প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী আলমগীর বাদশা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোঃ কবির হোসেন জানান, গত বছরের বর্ষায় কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে বৃষ্টি কমে আসায় আগামী আড়াই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার আশ্বাস দেন ঠিকাদার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফখরুল ইসলাম বলেন, পুরো বিষয়টি এলজিইডি তদারকি করছে এবং দ্রুত এর খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএস./



















