০৭:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

সাজছে রাজধানীর মণ্ডপগুলো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ। এখন রং করার প্রস্তুতি চলছে। ছবিটি সোমবার তোলা।
মাটি দিয়ে গড়া হয়েছে প্রতিমা। এখন তার গায়ে রং-তুলির কাজ বাকি। কোথাও কোথাও সে কাজও চলছে। বাঁশ-কাঠ-শোলায় সাজানো হচ্ছে মণ্ডপ। সর্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসবের আরও কদিন বাকি। এর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন মণ্ডপ।

রাজধানীর অন্যতম পুরোনো মন্দির ঢাকেশ্বরী। আজ দুপুরে সেখানে দেখা যায়, বাঁশ, চেয়ারের স্তূপ। নতুন একটি ভবনে কাজ চলছে। এক কোনায় টিনের ঘেরা দেওয়া একটি ছোট ঘরে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। বাইরে থেকে নোটিশ টানানো—‘প্রতিমার ছবি তোলা নিষেধ’। মন্দিরের অফিসে কথা হয় বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন কমিটির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব কুমার দের সঙ্গে। তিনি বলেন, এ মন্দিরে আরও একটি দুর্গা প্রতিমা আছে। যেটাকে ঢাকেশ্বরী বলা হয়। এই ঢাকেশ্বরী মূর্তি দুর্গার আরেক নাম। এ প্রতিমা সব সময়ই থাকে। মূল মন্দিরের ভেতরে থাকে সেটা। কিন্তু সর্বজনীন উৎসবের জন্য আরেকটি প্রতিমা বানানো হয়। যেটার কাজ প্রায় শেষ দিকে। তিনি আরও বলেন, ‘পুরো কাজ শেষ করা হয় না। একটু বাকি রেখে দেয়। সেটা হচ্ছে চোখ। ষষ্ঠীর আগে গিয়ে চোখ আঁকা হয়।’
লোকসমাগম সম্পর্কে বলেন, প্রচুর লোক হয়। তবে অষ্টমীতে অন্তত ৫০ হাজার লোক আসে। কারণ হিসেবে বললেন, ওই দিন অঞ্জলি হয়। ঢাকেশ্বরীতে এবার নতুন ভবনে পূজা হবে। তিনি আরও জানান, এবার ঢাকায় ২৩১টি মণ্ডপে দুর্গা পূজা হবে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরের শ্রীশ্রী কালীমন্দিরের প্রবেশমুখে বাঁশের তৈরি তোরণ দাঁড়িয়ে আছে। এখনো কাজ শেষ হয়নি। মূল মন্দিরের প্রবেশদ্বারেও তোরণ প্রস্তুত হচ্ছে। দুপুরের দিকে শ্রমিকেরা একটু জিরিয়ে নিচ্ছেন। কলাপসিবল গেটের আড়ালে মাটির তৈরি প্রতিমা দেখা গেল। রং করা বাকি। পুরোহিত কানাই চক্রবর্তী ভীষণ ব্যস্ত। কাজের ফাঁকেই বললেন, দেড় মাস আগে প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয়েছে। মাটির কাজ শেষ। এখন গয়না, রংসহ অল্প কিছু বাকি। আর চোখ আঁকা হবে শেষ মুহূর্তে। পুরোহিতরা মন্ত্র পড়ে মায়ের চোখ দান করেন।
কলাবাগান মাঠে বেশ জাঁকজমকভাবে সাজসজ্জা চলছে। রাজধানীতে দুর্গাপূজার জন্য বড় কয়েকটি মণ্ডপের একটি এই কলাবাগান। গোপালগঞ্জের রতন পাল এখানে প্রতিমা গড়ছেন। তিনি বলেন, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে তিনি প্রতিমা গড়া শুরু করেন। তাঁর গড়া প্রতিমার সংখ্যা প্রায় ৩০০। এবার কলাবাগান ছাড়াও তেজকুনিপাড়া, আজিমপুর সরকারি কলোনি, বংশাল ও রমনা কালীমন্দিরের প্রতিমাও তাঁর হাতে গড়া। পছন্দের প্রতিমার কথা জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘বরিশালে প্রতিমা গড়তে খুব ভালো লাগে। ওখানে সব মাটির কাজ হয়—গয়না, শাড়ি সব। কিন্তু ঢাকায় তো অনেক কিছু কেনা জিনিস দিয়ে করতে হয়। তখন তা আর পুরো নিজের কাজ মনে হয় না।’
কলাবাগান পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন পাল বলেন, ১১ বছর ধরে কলাবাগানে পূজা হয়। এবার ২০ দিন আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, এ উৎসব সর্বজনীন। আনন্দটাও সবার।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সাজছে রাজধানীর মণ্ডপগুলো

প্রকাশিত : ০৬:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ। এখন রং করার প্রস্তুতি চলছে। ছবিটি সোমবার তোলা।
মাটি দিয়ে গড়া হয়েছে প্রতিমা। এখন তার গায়ে রং-তুলির কাজ বাকি। কোথাও কোথাও সে কাজও চলছে। বাঁশ-কাঠ-শোলায় সাজানো হচ্ছে মণ্ডপ। সর্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসবের আরও কদিন বাকি। এর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন মণ্ডপ।

রাজধানীর অন্যতম পুরোনো মন্দির ঢাকেশ্বরী। আজ দুপুরে সেখানে দেখা যায়, বাঁশ, চেয়ারের স্তূপ। নতুন একটি ভবনে কাজ চলছে। এক কোনায় টিনের ঘেরা দেওয়া একটি ছোট ঘরে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। বাইরে থেকে নোটিশ টানানো—‘প্রতিমার ছবি তোলা নিষেধ’। মন্দিরের অফিসে কথা হয় বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন কমিটির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব কুমার দের সঙ্গে। তিনি বলেন, এ মন্দিরে আরও একটি দুর্গা প্রতিমা আছে। যেটাকে ঢাকেশ্বরী বলা হয়। এই ঢাকেশ্বরী মূর্তি দুর্গার আরেক নাম। এ প্রতিমা সব সময়ই থাকে। মূল মন্দিরের ভেতরে থাকে সেটা। কিন্তু সর্বজনীন উৎসবের জন্য আরেকটি প্রতিমা বানানো হয়। যেটার কাজ প্রায় শেষ দিকে। তিনি আরও বলেন, ‘পুরো কাজ শেষ করা হয় না। একটু বাকি রেখে দেয়। সেটা হচ্ছে চোখ। ষষ্ঠীর আগে গিয়ে চোখ আঁকা হয়।’
লোকসমাগম সম্পর্কে বলেন, প্রচুর লোক হয়। তবে অষ্টমীতে অন্তত ৫০ হাজার লোক আসে। কারণ হিসেবে বললেন, ওই দিন অঞ্জলি হয়। ঢাকেশ্বরীতে এবার নতুন ভবনে পূজা হবে। তিনি আরও জানান, এবার ঢাকায় ২৩১টি মণ্ডপে দুর্গা পূজা হবে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরের শ্রীশ্রী কালীমন্দিরের প্রবেশমুখে বাঁশের তৈরি তোরণ দাঁড়িয়ে আছে। এখনো কাজ শেষ হয়নি। মূল মন্দিরের প্রবেশদ্বারেও তোরণ প্রস্তুত হচ্ছে। দুপুরের দিকে শ্রমিকেরা একটু জিরিয়ে নিচ্ছেন। কলাপসিবল গেটের আড়ালে মাটির তৈরি প্রতিমা দেখা গেল। রং করা বাকি। পুরোহিত কানাই চক্রবর্তী ভীষণ ব্যস্ত। কাজের ফাঁকেই বললেন, দেড় মাস আগে প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয়েছে। মাটির কাজ শেষ। এখন গয়না, রংসহ অল্প কিছু বাকি। আর চোখ আঁকা হবে শেষ মুহূর্তে। পুরোহিতরা মন্ত্র পড়ে মায়ের চোখ দান করেন।
কলাবাগান মাঠে বেশ জাঁকজমকভাবে সাজসজ্জা চলছে। রাজধানীতে দুর্গাপূজার জন্য বড় কয়েকটি মণ্ডপের একটি এই কলাবাগান। গোপালগঞ্জের রতন পাল এখানে প্রতিমা গড়ছেন। তিনি বলেন, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে তিনি প্রতিমা গড়া শুরু করেন। তাঁর গড়া প্রতিমার সংখ্যা প্রায় ৩০০। এবার কলাবাগান ছাড়াও তেজকুনিপাড়া, আজিমপুর সরকারি কলোনি, বংশাল ও রমনা কালীমন্দিরের প্রতিমাও তাঁর হাতে গড়া। পছন্দের প্রতিমার কথা জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘বরিশালে প্রতিমা গড়তে খুব ভালো লাগে। ওখানে সব মাটির কাজ হয়—গয়না, শাড়ি সব। কিন্তু ঢাকায় তো অনেক কিছু কেনা জিনিস দিয়ে করতে হয়। তখন তা আর পুরো নিজের কাজ মনে হয় না।’
কলাবাগান পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন পাল বলেন, ১১ বছর ধরে কলাবাগানে পূজা হয়। এবার ২০ দিন আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, এ উৎসব সর্বজনীন। আনন্দটাও সবার।