০৭:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

জাতীয় জাদুঘরে প্রাচীন মুদ্রণ শিল্প প্রদশর্নী

জাতীয় জাদুঘরে প্রাচীন মুদ্রণ শিল্প প্রদশর্নী

মুদ্রণশিল্পের ইতিহাসের ওপর এক প্রদশর্নী জাতীয় জাদুঘরে চলছে। ‘অক্ষরযোজনার মাধ্যমে বাংলার প্রচীন মুদ্রণকৌশল’ শীর্ষক প্রদর্শনী চলবে আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দশণার্থী প্রদর্শনী উপভোগ করছেন। প্রদর্শনীতে প্রাচীন আমল থেকে সত্তর দশক পর্যন্ত মুদ্রণ ও মুদ্রণ শিল্পের ইতিহাস প্রদর্শিত হচ্ছে। কিভাবে অক্ষর সংযোজন করে প্লেট বানিয়ে ট্রেডেল মেশিন দিয়ে ছাপার কাজ অতীতে হতো তা প্রদর্শিত হচ্ছে। কিভাবে নিউজপ্রিন্ট ভিজিয়ে কালি দিয়ে অক্ষর তুলে লেখার প্রæফ দেখা হতো তাও দেখানো হচ্ছে দর্শণার্থীদের। এ ছাড়াও দেশ-বিদেশে মুদ্রণ ও মুদ্রণযন্ত্রের ইতিহাস সম্পর্কে দর্শকদেরধারণা দেয়া হচ্ছে মুদ্রণযন্ত্রের ইতিহাস প্রদর্শনের মাধ্যমে। বর্তমান প্রজন্মের যুবক ও শিশু-কিশোররা প্রদশর্নী থেকে দেশের মুদ্রণশিল্পের ইতিহাস সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে পারছেন। জাদুঘরের প্রধান লবিতে প্রদশর্নীতে গিয়ে দেখা যায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষনের কপি ট্রেডল মেশিনে ছাপিয়ে দর্শকদের মধ্যে বিলি করা হচ্ছে। এই প্রজন্মের মানুষ, যারা ট্রেডল মেশিন দেখেনি,তারা এই মুদ্রণকৌশল প্রত্যক্ষ করে নিজেদের মেধাকে পরিপুষ্ট করছে। কেরানীগঞ্জ থেকে আসা পনের বছরের কিশোর মোহাম্মদ হানিফ বলেন, এই মেশিনটা প্রথম দেখলাম। ছাপার জগতে একদিন আমাদের দেশে এই মুদ্রণযন্ত্র ছিল,তা দেখতে পেরে ভাল লাগছে। সে জানায় এই মুদ্রণযন্ত্রটি নাকি একশ’বছরের পুরনো। যা জাদুঘরে রাখা হয়েছে। এমন মুদ্রণের প্রেস এ দেশে ছিলো,তাতে বুঝা যায়,কত কষ্ট করে আগে বই ছাপা হতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাবিভাগের ছাত্র আরমান সিদ্দিকী জানায়,এখন তো কত সহজে সবকিছু ছাপা হচ্ছে। আমাদের দেশে মুদ্রণশিল্পের প্রাচীন যুগের ওপর এই প্রদশর্নী করে জাদুঘর একটা দারুন ভাল কাজ করলো। এখনকার মানুষ তো জানেই না-আগে কি মেশিন দিয়ে ছাপার কাজ হতো। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি শিল্পী হাসেম খান বাসসকে বলেন, বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে আমাদের মুদ্রণশিল্পের ইতিহাস হারিয়ে যাচ্ছে । পঞ্চাশ ও ষাট দশকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সাথে প্রকাশনা ও মুদ্রণশিল্পের ইতিহাস একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় । জাদুঘরের এই প্রদর্শনী নতুন প্রজম্মের মানুষের কাছে একটি অসাধারন বিষয়। তারা জানতে পারছে কিভাবে অতীতে আমাদের মুদ্রণশিল্পে ছাপার কাজ হয়েছে। বিশিষ্ট লেখক আলী ইমাম বলেন, সভ্যতার সূত্রপাত ঘটে লিপির মধ্যদিয়ে। লিপি থেকে অক্ষর,এইভাবে সভ্যতার বিকাশ ঘটে। লিপি থেকেই মুদ্রণশিল্পের বিকাশ ঘটে। ১৮৪০ ’এ বর্ণ পরিচয় ছাপা হলো ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কল্যাণে। বাংলা টাইপোগ্রাফি দৃঢতা পেলো। বাংলা টউিপের সুশোভন রুপ দেয়ার ক্ষেত্রে সত্যজিৎ রায়েরও গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রয়েছে বলে তিনি জানান। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর থেকে জানানো হয়, জাদুঘর কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেছে। সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথকে কেন্দ্র করে প্রাচীন মুদ্রণযন্ত্রে বাংলা মুদ্রণের একটি ইতিহাস এ জাদুঘরে রুপায়িত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় জাদুঘর এই প্রদশর্নীর ব্যবস্থা করেছে। জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন,লেটার প্রেস এখন মুদ্রণশিল্পের ইতিহাস। ভুরুঙ্গামারিতে আঠার শতকের মধ্যভাগ থেকে এই লেটার প্রেসটি চালু রয়েছে। সমকালীন সভ্যতাকে ধারণ করার জন্য যে সমস্ত উপাদান এখনো টিকে আছে তার মধ্যে মুদ্রণযন্ত্রটি অন্যতম। জাদুঘর থেকে জানান হয়, প্রদর্শনীটি আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। জাদুঘরের সময়সূচি অনুযায়ি প্রতিদিন দর্শকদের জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

জাতীয় জাদুঘরে প্রাচীন মুদ্রণ শিল্প প্রদশর্নী

প্রকাশিত : ১২:৫০:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০১৭

জাতীয় জাদুঘরে প্রাচীন মুদ্রণ শিল্প প্রদশর্নী

মুদ্রণশিল্পের ইতিহাসের ওপর এক প্রদশর্নী জাতীয় জাদুঘরে চলছে। ‘অক্ষরযোজনার মাধ্যমে বাংলার প্রচীন মুদ্রণকৌশল’ শীর্ষক প্রদর্শনী চলবে আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দশণার্থী প্রদর্শনী উপভোগ করছেন। প্রদর্শনীতে প্রাচীন আমল থেকে সত্তর দশক পর্যন্ত মুদ্রণ ও মুদ্রণ শিল্পের ইতিহাস প্রদর্শিত হচ্ছে। কিভাবে অক্ষর সংযোজন করে প্লেট বানিয়ে ট্রেডেল মেশিন দিয়ে ছাপার কাজ অতীতে হতো তা প্রদর্শিত হচ্ছে। কিভাবে নিউজপ্রিন্ট ভিজিয়ে কালি দিয়ে অক্ষর তুলে লেখার প্রæফ দেখা হতো তাও দেখানো হচ্ছে দর্শণার্থীদের। এ ছাড়াও দেশ-বিদেশে মুদ্রণ ও মুদ্রণযন্ত্রের ইতিহাস সম্পর্কে দর্শকদেরধারণা দেয়া হচ্ছে মুদ্রণযন্ত্রের ইতিহাস প্রদর্শনের মাধ্যমে। বর্তমান প্রজন্মের যুবক ও শিশু-কিশোররা প্রদশর্নী থেকে দেশের মুদ্রণশিল্পের ইতিহাস সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে পারছেন। জাদুঘরের প্রধান লবিতে প্রদশর্নীতে গিয়ে দেখা যায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষনের কপি ট্রেডল মেশিনে ছাপিয়ে দর্শকদের মধ্যে বিলি করা হচ্ছে। এই প্রজন্মের মানুষ, যারা ট্রেডল মেশিন দেখেনি,তারা এই মুদ্রণকৌশল প্রত্যক্ষ করে নিজেদের মেধাকে পরিপুষ্ট করছে। কেরানীগঞ্জ থেকে আসা পনের বছরের কিশোর মোহাম্মদ হানিফ বলেন, এই মেশিনটা প্রথম দেখলাম। ছাপার জগতে একদিন আমাদের দেশে এই মুদ্রণযন্ত্র ছিল,তা দেখতে পেরে ভাল লাগছে। সে জানায় এই মুদ্রণযন্ত্রটি নাকি একশ’বছরের পুরনো। যা জাদুঘরে রাখা হয়েছে। এমন মুদ্রণের প্রেস এ দেশে ছিলো,তাতে বুঝা যায়,কত কষ্ট করে আগে বই ছাপা হতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাবিভাগের ছাত্র আরমান সিদ্দিকী জানায়,এখন তো কত সহজে সবকিছু ছাপা হচ্ছে। আমাদের দেশে মুদ্রণশিল্পের প্রাচীন যুগের ওপর এই প্রদশর্নী করে জাদুঘর একটা দারুন ভাল কাজ করলো। এখনকার মানুষ তো জানেই না-আগে কি মেশিন দিয়ে ছাপার কাজ হতো। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি শিল্পী হাসেম খান বাসসকে বলেন, বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে আমাদের মুদ্রণশিল্পের ইতিহাস হারিয়ে যাচ্ছে । পঞ্চাশ ও ষাট দশকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সাথে প্রকাশনা ও মুদ্রণশিল্পের ইতিহাস একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় । জাদুঘরের এই প্রদর্শনী নতুন প্রজম্মের মানুষের কাছে একটি অসাধারন বিষয়। তারা জানতে পারছে কিভাবে অতীতে আমাদের মুদ্রণশিল্পে ছাপার কাজ হয়েছে। বিশিষ্ট লেখক আলী ইমাম বলেন, সভ্যতার সূত্রপাত ঘটে লিপির মধ্যদিয়ে। লিপি থেকে অক্ষর,এইভাবে সভ্যতার বিকাশ ঘটে। লিপি থেকেই মুদ্রণশিল্পের বিকাশ ঘটে। ১৮৪০ ’এ বর্ণ পরিচয় ছাপা হলো ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কল্যাণে। বাংলা টাইপোগ্রাফি দৃঢতা পেলো। বাংলা টউিপের সুশোভন রুপ দেয়ার ক্ষেত্রে সত্যজিৎ রায়েরও গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রয়েছে বলে তিনি জানান। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর থেকে জানানো হয়, জাদুঘর কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেছে। সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথকে কেন্দ্র করে প্রাচীন মুদ্রণযন্ত্রে বাংলা মুদ্রণের একটি ইতিহাস এ জাদুঘরে রুপায়িত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় জাদুঘর এই প্রদশর্নীর ব্যবস্থা করেছে। জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন,লেটার প্রেস এখন মুদ্রণশিল্পের ইতিহাস। ভুরুঙ্গামারিতে আঠার শতকের মধ্যভাগ থেকে এই লেটার প্রেসটি চালু রয়েছে। সমকালীন সভ্যতাকে ধারণ করার জন্য যে সমস্ত উপাদান এখনো টিকে আছে তার মধ্যে মুদ্রণযন্ত্রটি অন্যতম। জাদুঘর থেকে জানান হয়, প্রদর্শনীটি আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। জাদুঘরের সময়সূচি অনুযায়ি প্রতিদিন দর্শকদের জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে।