০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

প্রথম উইকেট পাওয়া এত কষ্ট !

বাংলাদেশের জন্য কঠিন বৈকি! তা না হলে পচেফস্ট্রুমের প্রথম টেস্টে ডিন এলগার-এইডেন মারক্রাম ১৯৬ রানের ওপেনিং জুটি গড়তে পারেন না। দ্বিতীয় টেস্টে সেটি বাড়িয়ে নিতে পারেন না ২৪৩ পর্যন্ত ,ইনজুরির কারণে তামিম ইকবাল খেলছেন না ব্লুমফন্টেইন টেস্টে। খেললেই-বা কী হতো! দু-একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে ওপেনিং জুটিতে বাংলাদেশের দুর্দশা তো নিত্য ইনিংসের দৃশ্য! আবার এই প্রথম উইকেট পাওয়া প্রতিপক্ষের জন্য যত সহজ, বাংলাদেশের বোলারদের জন্য ওপেনিং জুটি ভাঙা ততই কঠিন। রেকর্ড অন্তত সে সাক্ষ্যই দিচ্ছে!

টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওপেনিং জুটিতে সেঞ্চুরি হয়েছে ২৮টি। সর্বোচ্চ ৪১৫ রানের জুটির সঙ্গে জড়িয়ে এই দক্ষিণ আফ্রিকার নামই। ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে নেইল ম্যাকেঞ্জি ও গ্রায়েম স্মিথ যার কারিগর। যাঁদের ব্যাটে লেখা হয়েছিল ওপেনিং জুটিতে সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ডও। পরিধিটা কমিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়ে আসার চেষ্টায় তা ধরা যাক ২০১৫ সাল থেকে। সে ক্ষেত্রে ব্লুমফন্টেইনে ১৬তম টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ। এর মধ্যেই বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রতিপক্ষের ওপেনারদের শতরানের জুটি চারটি।

আর সর্বোচ্চ রান বিবেচনায় ম্যাকেঞ্জি-স্মিথের পরের তিনটিই এ সময়ে। ২০১৫ সালে ফতুল্লায় শিখর ধাওয়ান ও মুরালি বিজয়ের ২৮৩, চলতি টেস্টে এলগার-মারক্রামের ২৪৩ এবং আগের টেস্টে তাঁদের ১৯৬ রান। অন্য শতরানের জুটিটি গত বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। চতুর্থ ইনিংসে ১০০ রান করে জয়ের পথে ভালোভাবেই রেখেছিলেন অ্যালিস্টার কুক ও বেন ডাকেট। পরে মেহেদী হাসান মিরাজের স্পিন-ভেলকিতে রক্ষা। অবিস্মরণীয় জয় পায় বাংলাদেশ। কিন্তু ওপেনিং জুটির বিপক্ষে পারফরম্যান্স স্মরণীয় নয় মোটেই। ২০১৫ থেকে ধরলে চারটি শতরানের জুটি ছাড়াও সাতটি পঞ্চাশ পেরোনো জুটি প্রতিপক্ষ ওপেনারদের।
জুটিরই যখন এই অবস্থা, ওপেনারদের রানের ফল্গুধারা বইয়ে দেওয়াই তো স্বাভাবিক। টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওপেনারদের সেঞ্চুরি রয়েছে ৪৫টি, যার মধ্যে ১২টিই ২০১৫ সালের পর। সর্বোচ্চ ২২৪ রান ২০১৫ সালে খুলনায় পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজের। ওই বছর ফতুল্লায় ভারতের শিখর ধাওয়ানের ১৭৩, মুরালি বিজয়ের ১৫০ রানের ইনিংসও বড্ড ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। আর এ বছর তো প্রতিপক্ষ ওপেনারদের সেঞ্চুরি হচ্ছে মুড়ি-মুড়কির মতো। ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের টম ল্যাথামের ১৭৭, হায়দরাবাদে ভারতের মুরালি বিজয়ের ১০৮, গলে শ্রীলঙ্কার উপুল থারাঙ্গার ১১৫, কলম্বোতে দিমুথ করুণারত্নের ১২৬, অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারের ঢাকায় ১১২, চট্টগ্রামে ১২৩, দক্ষিণ আফ্রিকার ডিন এলগারের পচেফস্ট্রুমে ১৯৯, ব্লুমফন্টেইনে তাঁর ১১৩-র সঙ্গে মারক্রামের ১৪৩ রানের ইনিংস। এ বছর খেলা বাংলাদেশের ৯ টেস্টে প্রতিপক্ষের ৯ ওপেনার পেয়েছেন সেঞ্চুরির স্বাদ। বাংলাদেশের বোলার-ফিল্ডারদের তেতো বিস্বাদ উপহার দিয়ে। ভাবা যায়!

বাংলাদেশের বোলার-ফিল্ডারদের কাঁধ ঝুলে যাওয়ার মতো আরেক পরিসংখ্যানও রয়েছে। সর্বশেষ এই তিন বছরে প্রতিপক্ষের ১৩ জন ওপেনার পঞ্চাশ পেরিয়েছেন, যার মধ্যে ৯ জনই দেখা পান সেঞ্চুরির। অর্থাৎ উইকেটে একবার থিতু হলে ওপেনাররা থেমেছেন বড় স্কোর করেই। কেবল চার ওপেনারকে পঞ্চাশ পেরোলেও তিন অঙ্কে পৌঁছার আগে থামাতে পেরেছেন বাংলাদেশের বোলাররা।

ব্লুমফন্টেইনের ম্যাচ ধরে সর্বশেষ ১৬ টেস্টে যে ২৬ বার প্রথম উইকেট পেয়েছে বাংলাদেশ, এর মধ্যে পেসাররা প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন ১৪ বার। এর বাইরে ১১ বার প্রথম উইকেটের জন্য স্পিনারদের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। সর্বোচ্চ সাতবার প্রথম ব্রেক থ্রু অফ স্পিনার মেহেদীর। এর বাইরে তিনবার করে মুস্তাফিজুর রহমান, কামরুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, দুইবার করে সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ শহীদ ও শুভাশীষ রায় এবং একবার করে তাইজুল ইসলাম, মাহমুদ উল্লাহ ও শফিউল ইসলামের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে অধিনায়ককে। আরেকবার তো গত টেস্টের সেই রান আউট।

পচেফস্ট্রুমের সেই ম্যাচে প্রথম উইকেট এনে দিতে পারেননি কোনো বোলার। ভুল-বোঝাবুঝিতে মারক্রাম রান আউট হওয়াতেই রক্ষা! সে তুলনায় কাল তো বাংলাদেশকে সফলই বলতে হয়। না হয় এবার এলগার-মারক্রামের জুটিতে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ৪৭ রান বেশি হয়েছে! তবু প্রথম উইকেট তো আর রান আউটের বদান্যতায় পেতে হয়নি!

যদিও এই ‘সান্ত্বনা’ বাংলাদেশের টেস্ট বোলিংকে বিদ্রূপ করে প্রবলভাবে!

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রথম উইকেট পাওয়া এত কষ্ট !

প্রকাশিত : ১২:৫৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ অক্টোবর ২০১৭

বাংলাদেশের জন্য কঠিন বৈকি! তা না হলে পচেফস্ট্রুমের প্রথম টেস্টে ডিন এলগার-এইডেন মারক্রাম ১৯৬ রানের ওপেনিং জুটি গড়তে পারেন না। দ্বিতীয় টেস্টে সেটি বাড়িয়ে নিতে পারেন না ২৪৩ পর্যন্ত ,ইনজুরির কারণে তামিম ইকবাল খেলছেন না ব্লুমফন্টেইন টেস্টে। খেললেই-বা কী হতো! দু-একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে ওপেনিং জুটিতে বাংলাদেশের দুর্দশা তো নিত্য ইনিংসের দৃশ্য! আবার এই প্রথম উইকেট পাওয়া প্রতিপক্ষের জন্য যত সহজ, বাংলাদেশের বোলারদের জন্য ওপেনিং জুটি ভাঙা ততই কঠিন। রেকর্ড অন্তত সে সাক্ষ্যই দিচ্ছে!

টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওপেনিং জুটিতে সেঞ্চুরি হয়েছে ২৮টি। সর্বোচ্চ ৪১৫ রানের জুটির সঙ্গে জড়িয়ে এই দক্ষিণ আফ্রিকার নামই। ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে নেইল ম্যাকেঞ্জি ও গ্রায়েম স্মিথ যার কারিগর। যাঁদের ব্যাটে লেখা হয়েছিল ওপেনিং জুটিতে সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ডও। পরিধিটা কমিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়ে আসার চেষ্টায় তা ধরা যাক ২০১৫ সাল থেকে। সে ক্ষেত্রে ব্লুমফন্টেইনে ১৬তম টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ। এর মধ্যেই বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রতিপক্ষের ওপেনারদের শতরানের জুটি চারটি।

আর সর্বোচ্চ রান বিবেচনায় ম্যাকেঞ্জি-স্মিথের পরের তিনটিই এ সময়ে। ২০১৫ সালে ফতুল্লায় শিখর ধাওয়ান ও মুরালি বিজয়ের ২৮৩, চলতি টেস্টে এলগার-মারক্রামের ২৪৩ এবং আগের টেস্টে তাঁদের ১৯৬ রান। অন্য শতরানের জুটিটি গত বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। চতুর্থ ইনিংসে ১০০ রান করে জয়ের পথে ভালোভাবেই রেখেছিলেন অ্যালিস্টার কুক ও বেন ডাকেট। পরে মেহেদী হাসান মিরাজের স্পিন-ভেলকিতে রক্ষা। অবিস্মরণীয় জয় পায় বাংলাদেশ। কিন্তু ওপেনিং জুটির বিপক্ষে পারফরম্যান্স স্মরণীয় নয় মোটেই। ২০১৫ থেকে ধরলে চারটি শতরানের জুটি ছাড়াও সাতটি পঞ্চাশ পেরোনো জুটি প্রতিপক্ষ ওপেনারদের।
জুটিরই যখন এই অবস্থা, ওপেনারদের রানের ফল্গুধারা বইয়ে দেওয়াই তো স্বাভাবিক। টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওপেনারদের সেঞ্চুরি রয়েছে ৪৫টি, যার মধ্যে ১২টিই ২০১৫ সালের পর। সর্বোচ্চ ২২৪ রান ২০১৫ সালে খুলনায় পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজের। ওই বছর ফতুল্লায় ভারতের শিখর ধাওয়ানের ১৭৩, মুরালি বিজয়ের ১৫০ রানের ইনিংসও বড্ড ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। আর এ বছর তো প্রতিপক্ষ ওপেনারদের সেঞ্চুরি হচ্ছে মুড়ি-মুড়কির মতো। ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের টম ল্যাথামের ১৭৭, হায়দরাবাদে ভারতের মুরালি বিজয়ের ১০৮, গলে শ্রীলঙ্কার উপুল থারাঙ্গার ১১৫, কলম্বোতে দিমুথ করুণারত্নের ১২৬, অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারের ঢাকায় ১১২, চট্টগ্রামে ১২৩, দক্ষিণ আফ্রিকার ডিন এলগারের পচেফস্ট্রুমে ১৯৯, ব্লুমফন্টেইনে তাঁর ১১৩-র সঙ্গে মারক্রামের ১৪৩ রানের ইনিংস। এ বছর খেলা বাংলাদেশের ৯ টেস্টে প্রতিপক্ষের ৯ ওপেনার পেয়েছেন সেঞ্চুরির স্বাদ। বাংলাদেশের বোলার-ফিল্ডারদের তেতো বিস্বাদ উপহার দিয়ে। ভাবা যায়!

বাংলাদেশের বোলার-ফিল্ডারদের কাঁধ ঝুলে যাওয়ার মতো আরেক পরিসংখ্যানও রয়েছে। সর্বশেষ এই তিন বছরে প্রতিপক্ষের ১৩ জন ওপেনার পঞ্চাশ পেরিয়েছেন, যার মধ্যে ৯ জনই দেখা পান সেঞ্চুরির। অর্থাৎ উইকেটে একবার থিতু হলে ওপেনাররা থেমেছেন বড় স্কোর করেই। কেবল চার ওপেনারকে পঞ্চাশ পেরোলেও তিন অঙ্কে পৌঁছার আগে থামাতে পেরেছেন বাংলাদেশের বোলাররা।

ব্লুমফন্টেইনের ম্যাচ ধরে সর্বশেষ ১৬ টেস্টে যে ২৬ বার প্রথম উইকেট পেয়েছে বাংলাদেশ, এর মধ্যে পেসাররা প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন ১৪ বার। এর বাইরে ১১ বার প্রথম উইকেটের জন্য স্পিনারদের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। সর্বোচ্চ সাতবার প্রথম ব্রেক থ্রু অফ স্পিনার মেহেদীর। এর বাইরে তিনবার করে মুস্তাফিজুর রহমান, কামরুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, দুইবার করে সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ শহীদ ও শুভাশীষ রায় এবং একবার করে তাইজুল ইসলাম, মাহমুদ উল্লাহ ও শফিউল ইসলামের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে অধিনায়ককে। আরেকবার তো গত টেস্টের সেই রান আউট।

পচেফস্ট্রুমের সেই ম্যাচে প্রথম উইকেট এনে দিতে পারেননি কোনো বোলার। ভুল-বোঝাবুঝিতে মারক্রাম রান আউট হওয়াতেই রক্ষা! সে তুলনায় কাল তো বাংলাদেশকে সফলই বলতে হয়। না হয় এবার এলগার-মারক্রামের জুটিতে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ৪৭ রান বেশি হয়েছে! তবু প্রথম উইকেট তো আর রান আউটের বদান্যতায় পেতে হয়নি!

যদিও এই ‘সান্ত্বনা’ বাংলাদেশের টেস্ট বোলিংকে বিদ্রূপ করে প্রবলভাবে!