দশম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশন শুরু হয়েছে গতকাল রবিবার থেকে। চলবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। মাত্র ৫ কার্যদিবসের স্বল্পকালীন এ শেষ অধিবেশনেই ১৫টি বিল উত্থাপন ও পাস করা হবে। এর মধ্যে প্রথম দিনেই ছয়টি বিল উত্থাপন করা হয়। ‘বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট বিল-২০১৮’ নামে একটি বিল গতকালই পাস হয়। সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে গতকালই সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে সরকারি চাকরি আইন-২০১৮।
গতকাল উত্থাপন করা বিলগুলো হলো বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন বিল-২০১৮, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি বিল-২০১৮, বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধন) বিল-২০১৮, মৎস্য সঙ্গনিরোধ বিল-২০১৮, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট বিল-২০১৮ ও সরকারি চাকরি বিল-২০১৮। গতকাল উত্থাপিত শ্রম আইনসহ অধিকাংশ বিলই ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংসদীয় কমিটিতে প্রেরণ করে চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশের জন্য পরের দিন উত্থাপন করা হবে বলে সংসদে জানানো হয়।
এ ছাড়াও যে বিলগুলো উত্থাপন করা হবে সেগুলো হলো-ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড বিল-২০১৮, মানসিক স্বাস্থ্য বিল-২০১৮, হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট বিল-২০১৮, সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) বিল-২০১৮, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বিল-২০১৮ এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট বিল-২০১৮। এ ছাড়া আরো কয়েকটি বিল আসতে পারে বলে জানা গেছে। আলোচনায় না থাকলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করতে চাইলে সে ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের বিলটিও এই অধিবেশনেই উত্থাপন করতে হবে।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে : সরকারি চাকরিতে জনবল নিয়োগ হবে মেধা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে। তবে সংবিধানের উদ্দেশ্য পূরণ করতে সরকার ‘পদ সংরক্ষণ’ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। এমন বিধান রেখে সংসদে উত্থাপিত হয়েছে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ বিল। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের ২৩তম অধিবেশনের প্রথম দিন গতকাল রবিবার বিলটি উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক। পরে বিলটি অধিকতর পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
কোটাপ্রথা বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তকে আইনগত ভিত্তি দিতে সংসদে উত্থাপিত প্রস্তাবিত আইনে সরকারকে, সরকারি গেজেট আদেশ দ্বারা প্রজাতন্ত্রের যে কোনো কর্ম বা কর্ম বিভাগ সৃজন, সংযুক্তকরণ, একীকরণ, বিলুপ্তিকরণসহ অন্য যে কোনোভাবে পুনর্গঠন করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, জারিকৃত আদেশ দ্বারা নিয়োজিত সরকারি কর্মচারীর কর্মের শর্তাবলির তারতম্য বা রদ করা যাবে।
এমনকি আদেশের ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেয়া যাবে। এ ছাড়া প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিতদের নিয়োগ ও কর্ম সম্পর্কিত যে কোনো শর্ত নির্ধারণ করতে পারবে। একই সঙ্গে চাকরির দায় ও এখতিয়ার নির্ধারণ ও পরিবর্তন করতে এবং জনস্বার্থে আইনানুগ যে কোনো কর্মে বা দায়িত্বে নিয়োজিত করতে পারবে।
আইনে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন বিষয়ে বলা হয়েছে, এই আইনের আওতাভুক্ত কোনো কর্ম বা কর্ম বিভাগে সরাসরি জনবল নিয়োগের ভিত্তি হবে মেধা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা। তবে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৯(৩) এর উদ্দেশ্য পূরণ কল্পে পদ সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। পদোন্নতির ভিত্তি হবে, সততা, মেধা, দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা, প্রশিক্ষণ ও সন্তোষজনক চাকরি।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৩৬ অনুচ্ছেদে আইনের দ্বারা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তির কর্মের শর্তাবলির তারতম্য ও রদ করার বিধান, ১৩৩ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে কর্মচারীদের নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলি নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের বিধান এবং ২১ অনুচ্ছেদে সব সময় জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলির বিভিন্ন বিষয়ে প্রণীত ভিন্ন ভিন্ন আইন, প্রয়োজন অনুযায়ী ১৩৩ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত বিধি ও সরকারি অনুশাসন দ্বারা সরকারি কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হচ্ছে। সামগ্রিক বিষয়সমূহ বিবেচনায় নিয়ে সরকারি চাকরি সংক্রান্ত একটি সমন্বিত আইন প্রণয়নে প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন থেকে অনুভ‚ত হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। আইনটি মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।
বিবি/রেআ
























