ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের হলভিত্তিক প্রথম খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বুধবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তালিকা প্রকাশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।
যদিও মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, বুধবার ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এই তালিকাকে ‘ডাকসু নির্বাচনের জন্য খসড়া ভোটার তালিকা’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বুধবার উদ্বোধনের সময় উপাচার্য বলেন, এটিকে ডাকসু নির্বাচনের ভোটার তালিকা বলা কঠিন, বলা যায় হলভিত্তিক শিক্ষার্থী তালিকা। ডাকসু নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হলে ডাকসুর সংবিধানের আলোকে এখান থেকে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হবে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ ও সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীরা ভোটার হতে পারবে কিনা- এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
প্রকাশিত তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি আবাসিক হলের সঙ্গে সংযুক্ত ও আবাসিক মিলিয়ে মোট ৩৮ হাজার ৪৯৩ শিক্ষার্থীর তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৫০৯ নারী শিক্ষার্থী ও ২৩ হাজার ৯৮৪ পুরুষ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের প্রথম খসড়া তালিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (ducsu.du.ac.bd) দেখা যাবে। খসড়া তালিকার সংশোধনীর (সংযোজন, বিয়োজন বা পরিমার্জন) জন্য আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট হল প্রাধ্যক্ষ অফিসে লিখিতভাবে জানাতে হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আমরা শিক্ষার্থীদের হলভিত্তিক একটি ডাটাবেস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। যেহেতু প্রথমবার, এতে ভুলভ্রান্তি রয়ে গেছে। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সেগুলো সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। হল অফিসগুলোয় তালিকার হার্ডকপি সংরক্ষিত থাকবে। সংশোধন, পরিমার্জন ও বিয়োজনের জন্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট হল প্রাধ্যক্ষের অফিসে লিখিতভাবে জানাতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের এই ডাটাবেসের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, হল প্রাধ্যক্ষ ও বিভাগের চেয়ারম্যানদের সুবিধা হবে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের দ্রুত চিনতে পারবেন। ফলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ডে গতি আসবে।
ডেটাবেস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি আবাসিক হলের প্রাধ্যক্ষরা।
এর আগে আগামী বছরের ৩০ মার্চ ডাকসু নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আর সেজন্য গত ১৬ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগ, ছাত্রদলসহ ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনসমূহের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের প্রাধ্যক্ষ এবং অনুষদের ডিনদের নিয়ে বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেখানে ডাকসু নির্বাচনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ এবং ছাত্র সংগঠনসমূহের সহাবস্থানের বিষয়গুলোও উঠে আসে আলোচনায়।
প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৪ সালে। ১৯২৪-২৫ সালে প্রথম ডাকসুর ভিপি মনোনীত করা হয়। ডাকসুর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৩ সালে। এর আগে ভিপি মনোনীত ছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ডাকসু গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়।
ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালে। সে বছর ৬ জুন ডাকসু ও ১৮টি আবাসিক হল সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দীর্ঘ ২৮ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠনসহ সব সংগঠনের নিয়মিত নির্বাচন হলেও ডাকসু নির্বাচন দেয়া হয়নি।
বিবি/এসআর























