১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শুকরানা মাহফিল যোগ দিতে সোহরাওয়ার্দীতে আলেমদের ঢল

আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের আয়োজিত শোকরানা মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কওমি সনদের স্বীকৃতি দেয়ায় সংবর্ধনা দেয়া হবে। এ উপলক্ষে রবিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ সনদ দাওরায়ে হাদিসকে (তাকমিল) সাধারণ শিক্ষার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সমান স্বীকৃতি দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেবেন এ সেক্টরের আলেমরা।

অবশ্য তারা এ অনুষ্ঠানকে বলছেন- শোকরানা মাহফিল। এতে সারা দেশের ১০ লক্ষাধিক আলেমের সমাগম হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

এ উপলক্ষে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ শেষ। রবিবার সকাল ৭টা থেকেই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করছেন তারা। ফজরের নামাজের পর থেকেই আলেমরা আসতে শুরু করেছেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে জনস্রোত। সকাল ৯টার মধ্যেই অনেকটা জনসমুদ্রে পরিণত হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

জাতীয় দ্বীনী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ আগেই ঘোষণা দিয়েছেন শোকরানা মাহফিলে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের জন্য প্রস্তুতি রয়েছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। থানা পুলিশ, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), সাদা পোশাকের গোয়েন্দা পুলিশ ছাড়াও আয়োজক আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবীরা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও এর চারপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও এপিবিএনের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শাহবাগ ও টিএসসি মোড়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশের সাঁজোয়া যান।

সরেজমিন শাহবাগ, মৎস্যভবন, হাইকোর্টের সামনের এলাকা, দোয়েল চত্ত্বর, টিএসসি থেকে সোহরাওয়র্দী উদ্যানের প্রতিটি প্রবেশ পথে সতর্ক অবস্থা দেখা গেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের। এছাড়া প্রতিটি প্রবেশপথে বসানো হয়েছে আর্চওয়ে। মেটাল ডিটেক্টর ও হাতে তল্লাশির মধ্য দিয়ে সভাস্থলে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের কারণে রাজধানীর শাহবাগ মোড়, মৎসভবন, দোয়েল চত্বর এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে সবধরনের যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ভেতরে সীমিত আকারে যানচলাচল করছে।

রাজধানীর বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত বাস ভর্তি করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মধ্যরাতেই ঢাকায় পৌঁছেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠ ও বিভিন্ন রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করা হয়েছে।

মাহফিলে বেশ কিছু দাবিও তুলে ধরা হবে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, কাদিয়ানিদের সরকারিভাবে অমুসলিম ঘোষণা, ইসলামবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করা এবং আলেম, ইমাম ও ছাত্র-শিক্ষকদের বিরুদ্ধে হয়রানির মামলা প্রত্যাহার করা। বিশেষ করে হেফাজতের ৫ মে শাপলা চত্বরে সমাবেশকে কেন্দ্র করে হওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাইআতুল উলয়ার একাধিক নেতা।

বিবি/জেজে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শুকরানা মাহফিল যোগ দিতে সোহরাওয়ার্দীতে আলেমদের ঢল

প্রকাশিত : ০৯:৩২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ নভেম্বর ২০১৮

আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের আয়োজিত শোকরানা মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কওমি সনদের স্বীকৃতি দেয়ায় সংবর্ধনা দেয়া হবে। এ উপলক্ষে রবিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ সনদ দাওরায়ে হাদিসকে (তাকমিল) সাধারণ শিক্ষার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সমান স্বীকৃতি দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেবেন এ সেক্টরের আলেমরা।

অবশ্য তারা এ অনুষ্ঠানকে বলছেন- শোকরানা মাহফিল। এতে সারা দেশের ১০ লক্ষাধিক আলেমের সমাগম হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

এ উপলক্ষে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ শেষ। রবিবার সকাল ৭টা থেকেই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করছেন তারা। ফজরের নামাজের পর থেকেই আলেমরা আসতে শুরু করেছেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে জনস্রোত। সকাল ৯টার মধ্যেই অনেকটা জনসমুদ্রে পরিণত হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

জাতীয় দ্বীনী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ আগেই ঘোষণা দিয়েছেন শোকরানা মাহফিলে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের জন্য প্রস্তুতি রয়েছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। থানা পুলিশ, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), সাদা পোশাকের গোয়েন্দা পুলিশ ছাড়াও আয়োজক আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবীরা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও এর চারপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও এপিবিএনের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শাহবাগ ও টিএসসি মোড়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশের সাঁজোয়া যান।

সরেজমিন শাহবাগ, মৎস্যভবন, হাইকোর্টের সামনের এলাকা, দোয়েল চত্ত্বর, টিএসসি থেকে সোহরাওয়র্দী উদ্যানের প্রতিটি প্রবেশ পথে সতর্ক অবস্থা দেখা গেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের। এছাড়া প্রতিটি প্রবেশপথে বসানো হয়েছে আর্চওয়ে। মেটাল ডিটেক্টর ও হাতে তল্লাশির মধ্য দিয়ে সভাস্থলে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের কারণে রাজধানীর শাহবাগ মোড়, মৎসভবন, দোয়েল চত্বর এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে সবধরনের যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ভেতরে সীমিত আকারে যানচলাচল করছে।

রাজধানীর বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত বাস ভর্তি করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মধ্যরাতেই ঢাকায় পৌঁছেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠ ও বিভিন্ন রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করা হয়েছে।

মাহফিলে বেশ কিছু দাবিও তুলে ধরা হবে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, কাদিয়ানিদের সরকারিভাবে অমুসলিম ঘোষণা, ইসলামবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করা এবং আলেম, ইমাম ও ছাত্র-শিক্ষকদের বিরুদ্ধে হয়রানির মামলা প্রত্যাহার করা। বিশেষ করে হেফাজতের ৫ মে শাপলা চত্বরে সমাবেশকে কেন্দ্র করে হওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাইআতুল উলয়ার একাধিক নেতা।

বিবি/জেজে