ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানাধীন সোহাগীহদর গ্রামের মেহেদী হাসান গোলাপ (২৮) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে।বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল কালামের একমাত্র ছেলে মেহেদী হাসান গোলাপ (২৮) মোটর সাইকেল ভাড়ায় চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। কিছুদিন আগে সে একটি নতুন মটর সাইকেল কিনে।গত ২৩ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখ সন্ধ্যায় নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা থানাধীন হুগলা বাজার হতে ২ জন যাত্রী তারাকান্দা যাওয়ার কথা বলে তার মটর সাইকেল ভাড়া নেয়।যথারিতী হুগলা বাজার হতে রওনা হয়ে সন্ধ্যা ৭.৩৫ মিনিটে তারাকান্দা থানাধীন চিক বিল নামক হাওর এলাকার মাঝখানে যাওয়ার পর যাত্রীরা জোর পূর্বক মটর সাইকেল থামিয়ে ছিনতাই করার চেষ্টা করলে মেহেদী হাসান গোলাপ বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তারা তাকে পেটে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করলে, তার চিৎকারে লোকজন ছুটে আসে এবং ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়।তখন মটর সাইকেল চালককে মুমূর্ষ অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত (২৩জানুয়ারি) সে মারা যায়।
এ ঘটনায় তারাকান্দা থানায় এজাহার দায়ের করলে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে তারাকান্দা থানার মামলা নং-১৭,(২৫ জানুয়ারি),ধারা-৩৯৪/৩০২/৩৪ দঃবিঃ রুজু হয়।
ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার মোঃশাহ্ আবিদ হোসেন এই মামলাটির তদন্ত করতে দেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবিকে। তখন মামলাটির তদন্তভার এসআই(নিঃ) পরিমল চন্দ্র সরকার গ্রহণ করেন। পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় (ডিবি) ওসি মোঃ শাহ কামাল আকন্দ(পিপিএম) সহ অভিযান চালিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে মামলার রহস্য উদঘাটন করে ২৯ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখ রাতে মূল হত্যাকারী নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানাধীন কালডোয়ার দক্ষিণপাড়া গ্রামের মোঃসুরুজ মিয়ার ছেলে মোঃ ইমরান মিয়া (২৩) গ্রেফতার করা হয়।পরে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের বিস্তারিত স্বীকার করে। আসামীকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি এবং ভিকটিমের নিকট হতে ছিনতাইকৃত মোবাইলসেট উদ্ধার করা হয়।সে আরও জানায় ভিকটিমের ক্রয়কৃত নতুন মটর সাইকেলটি ছিনতাই করার জন্য সে এবং তার সহযোগী পূর্বেই পরিকল্পনা করেছিল।
বিবি/ ইএম


























