পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নে একই পরিবারের তিন বোনের পুকুরে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হচ্ছে, কোলাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া আকতার (৭), প্রাক প্রাথমিক ছাত্রী মুন্তাহিন (৫) ও মায়েশা আকতার (৩)। এই তিন বোন কোলাগাঁও ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আলাউদ্দিন দফাদারের বাড়ির বন্দর শ্রমিক কফিল উদ্দিনের মেয়ে।
নিহতদের চাচা মোহাম্মদ সেলিম জানান, প্রতিদিনের মত স্কুল থেকে এসে দুপুরে খাবার পর বিকেলে বাড়ির আঙ্গিনায় খেলতে যায় তিনবোন। এ সময় সবার ছোট মায়েশা আকতার খেলার একপর্যায়ে বাড়ির পাশে ছোট পুকুর ঘাটে নামলে সে পুকুরে পড়ে যায়। এ সময় তার অন্য দুইবোন তাকে উদ্ধারের জন্য পুকুরে নামলে তারাও পুকুর থেকে আর উঠেতে পারেনি। পরে তারা তিনবোনের পুকুরে ডুবে মমার্ন্তিক মৃত্যু হয়।
তাদের মা তাদেরকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির পর পুকুরে গিয়ে দেখেন তার তিন মেয়ে পুকুরে ভেসে উঠেছে। এ সময় তাদের মায়ের আÍচিৎকারে আশেপাশের লোকজন পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার করে। এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
কফিল উদ্দীনের চার মেয়ের মধ্যে বর্তমানে কফিল উদ্দিনের এক মেয়ে সামিয়া আকতার (১১) বেঁচে আছে। সে চরকানাই হাইস্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণি’র ছাত্রী। তিন বোনকে হারিয়ে সেও শোকে মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে। সামিয়া আকতার সবার বড়। সাদিয়া আকতার প্রথম শ্রেণি এবং মুমতাহিনা আকতার শিশু শ্রেণিতে পড়ত।
কোলাগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ নুর বলেন, বন্দর শ্রমিক কফিল উদ্দীন তার পুরাতন বাড়ি থেকে কিছু দূরে গিয়ে একটি নতুন বাড়ি তৈরি করছিল। ওই নতুন বাড়ির ডোবায় তার তিন মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। প্রথমে মুমতাহিনা ডোবায় পড়ে গেলে অন্য দুই বোন তাকে বাঁচাতে গেলে একসাথে সবার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
সোমবার রাত ৯:৩০ টায় জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে।
বিবি/ ইএম




















