০৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং পারিবারিক বিরোধের জটিলতার করুণ পরিণতি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিহত হাবিবুর রহমানের ভাগনে সবুজ রানা, তাঁর ভগ্নিপতি শহীদুল ইসলাম এবং শহীদুল ইসলামের ছেলে শাহিন মণ্ডল। পুলিশ জানায়, এ হত্যাকাণ্ডে মোট ছয়জন জড়িত ছিল। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।

পুলিশ সুপার জানান, পারিবারিক জমিজমা বণ্টনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। হাবিবুর রহমানের বাবা জীবদ্দশায় তাঁর ছেলেকে প্রায় ১৩ বিঘা জমি প্রদান করেন এবং মেয়েদের তুলনামূলক কম জমি লিখে দেওয়ায় অসন্তোষ তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে এই বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে এবং শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দুই দিন আগে সবুজ রানা ও শহীদুল ইসলাম একটি নির্জন স্থানে বসে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার রাতে সবুজ রানা আগে থেকেই হাবিবুর রহমানের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গভীর রাতে তিনি দরজা খুলে দিলে অন্য সহযোগীরা ঘরে প্রবেশ করে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১টার মধ্যে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে হাবিবুর রহমান, তাঁর স্ত্রী পপি, ছেলে পারভেজ ও মেয়ে সাদিয়াকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে। গ্রেপ্তার হওয়া সবুজ রানা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত হাসুয়া ও ছোরা উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে শহীদুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে শাহিন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তে সহায়ক হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা এমন নৃশংস ঘটনায় বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পারিবারিক বিরোধ যে কখনও কখনও কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এ ঘটনায় এলাকায় চরম শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

প্রকাশিত : ০৫:৪৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং পারিবারিক বিরোধের জটিলতার করুণ পরিণতি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিহত হাবিবুর রহমানের ভাগনে সবুজ রানা, তাঁর ভগ্নিপতি শহীদুল ইসলাম এবং শহীদুল ইসলামের ছেলে শাহিন মণ্ডল। পুলিশ জানায়, এ হত্যাকাণ্ডে মোট ছয়জন জড়িত ছিল। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।

পুলিশ সুপার জানান, পারিবারিক জমিজমা বণ্টনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। হাবিবুর রহমানের বাবা জীবদ্দশায় তাঁর ছেলেকে প্রায় ১৩ বিঘা জমি প্রদান করেন এবং মেয়েদের তুলনামূলক কম জমি লিখে দেওয়ায় অসন্তোষ তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে এই বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে এবং শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দুই দিন আগে সবুজ রানা ও শহীদুল ইসলাম একটি নির্জন স্থানে বসে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার রাতে সবুজ রানা আগে থেকেই হাবিবুর রহমানের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গভীর রাতে তিনি দরজা খুলে দিলে অন্য সহযোগীরা ঘরে প্রবেশ করে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১টার মধ্যে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে হাবিবুর রহমান, তাঁর স্ত্রী পপি, ছেলে পারভেজ ও মেয়ে সাদিয়াকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে। গ্রেপ্তার হওয়া সবুজ রানা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত হাসুয়া ও ছোরা উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে শহীদুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে শাহিন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তে সহায়ক হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা এমন নৃশংস ঘটনায় বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পারিবারিক বিরোধ যে কখনও কখনও কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এ ঘটনায় এলাকায় চরম শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ডিএস./