১২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ভারতে ‘হল অব ফেইম’ ভুষিত পাবনার সোহানী হোসেন

ভারতের ব্যবসায়ীদের সবোর্চ্চ সম্মান ‘হল অব ফেইম, এ ভুষিত হয়েছেন পাবনার ইউনিভার্সাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোটারিয়ান সোহানী হোসেন।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীর জে.ডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলে ‘ষষ্ঠ স্মল বিজনেস অ্যাওয়ার্ড’ ২০১৯ এর আড়ম্বরপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে তাকে এই এওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

পুরুস্কার পাওয়ায় পাবনা চেম্বারসহ বিভিন্ন সংগঠন তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ১৯৬৭ সালের ২২শে জুন নাটোর জেলা সদরে এক সম্ভ্রভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। পিতা আবু সাঈদ ভূঁইয়া ও মাতার নাম লুৎফন নাহার। ১৯৭১ সালে নাটোর কানাইখালী স্টেডিয়ামে পাক বাহিনী ক্যাম্প তৈরি করে। স্টেডিয়াম সংলগ্ন সোহানী হোসেনের বাবার বাড়ি। তখন ছিল এলাকা পুরুষ শূন্য। প্রতিদিন রাতে ক্যাম্পে চলে অমানবিক নির্যাতন। কোন সময় পুরুষ কোন সময় যুবতী নারীর আর্তচিৎকার। সোহানী হোসেনের বাবা মা আদর তাকে করে ডাকতেন সোনা। ছোট কোমলমতি সোনার মনেও পাক সেনাদের বিরুদ্ধে জাগে বিদ্রোহের আগুন। একদিন সকালে হাঁটতে হাঁটতে ক্যাম্পের ভেতর ঢুকে পড়েন সোনা। দেখে রাতভর অত্যাচারিত রক্তাক্ত মানুষের করুন চেহারা। এক পাকিস্থানী মেজর তাকে আদর করার চেষ্টা করলে ছোটমনি সোনা তখন তার দুই গালে চড় বসিয়ে দেয়। মেজর তাকে ক্ষোভে বলতে থাকে ‘তুম মুক্তি হ্যায় মুক্তি’। সেই থেকে তাকে অনেকেই ছোট মুক্তিযোদ্ধা বলে ডাকতো এখনো ডাকে।

১৯৮৯ সালে পাবনার বিশিষ্ট শিল্পপতি এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শ্যুটার আলহাজ মোবারক হোসেন রতনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সংসার জীবনে তিনি ৫ কন্যা সন্তানের সফল মাতা। স্বামী দীর্ঘদিন দুরারোগ্য ক্যান্সারে অসুস্থ থাকায় তার দেয়া দায়িত্ব পেয়ে তাকে ব্যবসার হাল ধরতে হয়। স্বামীর মৃত্যুর পরে তিনি সফলভাবে স্বামীর দেয়া দায়িত্ব পালন করেন এবং মহিলা শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে দেশে ও বিদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি পাবনার ইউনিভার্সাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।

এই পুরুস্কার পাওয়ায় পাবনা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. সাইফুল আলম স্বপন চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি আলী মর্তুজা বিশ্বাস সনি, সহসভাপতি ফোরকান রেজা বাদশা বিশ্বাসসহ চেম্বারের সকল পরিচালক এবং ইউনিভার্সাল গ্রুপের কর্মকর্তা কর্মচারীরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সোহানী হোসেন এ প্রতিবেদক কে বলেন, নারীরা সমাজে আর দশ জনের মত মাথা উচু করে সমাজে বাস করতে পারেন এবং নারীরা যে শুধু ঘরের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে সে ধারণা ভেঙে দিতে তিনি কাজ করছেন।

বিবি/জেজে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাসভাড়া কত বাড়বে জানা যাবে বৃহস্পতিবার

ভারতে ‘হল অব ফেইম’ ভুষিত পাবনার সোহানী হোসেন

প্রকাশিত : ০৬:৫৫:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

ভারতের ব্যবসায়ীদের সবোর্চ্চ সম্মান ‘হল অব ফেইম, এ ভুষিত হয়েছেন পাবনার ইউনিভার্সাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোটারিয়ান সোহানী হোসেন।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীর জে.ডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলে ‘ষষ্ঠ স্মল বিজনেস অ্যাওয়ার্ড’ ২০১৯ এর আড়ম্বরপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে তাকে এই এওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

পুরুস্কার পাওয়ায় পাবনা চেম্বারসহ বিভিন্ন সংগঠন তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ১৯৬৭ সালের ২২শে জুন নাটোর জেলা সদরে এক সম্ভ্রভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। পিতা আবু সাঈদ ভূঁইয়া ও মাতার নাম লুৎফন নাহার। ১৯৭১ সালে নাটোর কানাইখালী স্টেডিয়ামে পাক বাহিনী ক্যাম্প তৈরি করে। স্টেডিয়াম সংলগ্ন সোহানী হোসেনের বাবার বাড়ি। তখন ছিল এলাকা পুরুষ শূন্য। প্রতিদিন রাতে ক্যাম্পে চলে অমানবিক নির্যাতন। কোন সময় পুরুষ কোন সময় যুবতী নারীর আর্তচিৎকার। সোহানী হোসেনের বাবা মা আদর তাকে করে ডাকতেন সোনা। ছোট কোমলমতি সোনার মনেও পাক সেনাদের বিরুদ্ধে জাগে বিদ্রোহের আগুন। একদিন সকালে হাঁটতে হাঁটতে ক্যাম্পের ভেতর ঢুকে পড়েন সোনা। দেখে রাতভর অত্যাচারিত রক্তাক্ত মানুষের করুন চেহারা। এক পাকিস্থানী মেজর তাকে আদর করার চেষ্টা করলে ছোটমনি সোনা তখন তার দুই গালে চড় বসিয়ে দেয়। মেজর তাকে ক্ষোভে বলতে থাকে ‘তুম মুক্তি হ্যায় মুক্তি’। সেই থেকে তাকে অনেকেই ছোট মুক্তিযোদ্ধা বলে ডাকতো এখনো ডাকে।

১৯৮৯ সালে পাবনার বিশিষ্ট শিল্পপতি এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শ্যুটার আলহাজ মোবারক হোসেন রতনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সংসার জীবনে তিনি ৫ কন্যা সন্তানের সফল মাতা। স্বামী দীর্ঘদিন দুরারোগ্য ক্যান্সারে অসুস্থ থাকায় তার দেয়া দায়িত্ব পেয়ে তাকে ব্যবসার হাল ধরতে হয়। স্বামীর মৃত্যুর পরে তিনি সফলভাবে স্বামীর দেয়া দায়িত্ব পালন করেন এবং মহিলা শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে দেশে ও বিদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি পাবনার ইউনিভার্সাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।

এই পুরুস্কার পাওয়ায় পাবনা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. সাইফুল আলম স্বপন চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি আলী মর্তুজা বিশ্বাস সনি, সহসভাপতি ফোরকান রেজা বাদশা বিশ্বাসসহ চেম্বারের সকল পরিচালক এবং ইউনিভার্সাল গ্রুপের কর্মকর্তা কর্মচারীরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সোহানী হোসেন এ প্রতিবেদক কে বলেন, নারীরা সমাজে আর দশ জনের মত মাথা উচু করে সমাজে বাস করতে পারেন এবং নারীরা যে শুধু ঘরের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে সে ধারণা ভেঙে দিতে তিনি কাজ করছেন।

বিবি/জেজে