সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে দেশে প্রথম বারের মতো দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরী করা হচ্ছে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ। যমুনা এবং হুরা সাগর নদী তীরবর্তী প্রায় সাড়ে ২১ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের স্লোপ সংরক্ষনের জন্য ব্লক এর পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবেশ বান্ধব জুট ম্যাট্রেস ও বিন্না ঘাস।
এই বাঁধ নির্মানের ফলে পাল্টে যাবে চলাঞ্চলের আর্থ সামাজিক অবস্থা। জুট ম্যাট্রেস দ্বারা পরীক্ষা মূলক ভাবে অধিক ঝুকিপূর্ণ্য স্থানে স্লোপ প্রটেকশনের পদ্বতি ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পটি প্রত্যান্ত এলাকায় হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিসহ জনসাধারনের আর্থ সামাজিক অবস্থারও ব্যাপক পরিবর্তন সাধন হবে।
পাবনার বেড়া উপজেলার কৈতলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা যায়,পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের ফ্লাড এ্যান্ড রিভার ব্যাংক ইরোশন রিস্ক ম্যানেজম্যান্ট ইনভেস্টম্যান্ট প্রোগ্রাম (ট্রান্স-১) এর আওয়াতায় বাঁধটি নির্মান করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ফসলি জমির ক্ষতি পরিহার করে নদী থেকে ড্রেজিং করে ড্রেজিংকৃত ম্যাটেরিয়াল দ্বারা বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের নির্মান কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ফলে একদিকে নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে অপর দিকে প্রকল্প এলাকায় বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার মাধ্যমে বন্যায় ঝুঁকি সহনীয় পর্যায়ে আনা সম্ভাব হবে। যমুনা এবং হুরা সাগর নদীর পাড় ঘেঁষে তৈরী হচ্ছে প্রায় সাড়ে ২১ কিলোমিটার পরিবেশ বান্ধব এই বাঁধ। এর বিস্তৃতি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার হাটপাচিল থেকে পাবনার বেড়া উপজেলার প্যাচাকোলা হয়ে সিরাজগঞ্জের আহমেদপুর পর্যন্ত।
নদীর ড্রেজিং এর মাধ্যমে তোলা বালু আর মাটি দিয়ে চলছে বাঁধের কাজ। এতে এক দিকে রক্ষা পাবে কৃষি জমি,সাশ্রয় হবে জমি অধিগ্রহনের জন্য মাটি বালু ও পরিবহন ব্যয়। অন্য দিকে দূর হবে নাব্যতা সংকট। এছাড়াও বাঁধ তৈরীতে ব্যবহার হচ্ছে দেশের তৈরী চটের সিমেন্ট ব্যাগ এবং জুট ম্যাট্রেস। বাঁধের দুপাশে বিন্না ঘাস দিয়ে বাড়ানো হবে মাটির ঘনত্ব।
বাঁধের ৪টি পয়েন্টে তৈরী করা হচ্ছে স্লুইস গেট। এমন দেশীয় প্রযুক্তিতে বাঁধ তৈরীতে লাগছে ১শ ৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রায়। ইতিমধ্যে বাঁধের ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এবাঁধ চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের আগেই শেষ হবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে। বাঁধটি তৈরী হলে পাবনা ও সিরাজগঞ্জের শতাধিক গ্রামের মানুষ বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে।
পাল্টে যাবে তাদের আর্থ সামাজিক অবস্থা। বাঁধটি হবে ৪০ ফিট চওড়া । অদূর ভবিষ্যতে বেড়া এলাকায় মহাসড়ক আর সেতু নির্মান হলে পাবনার সাথে ঢাকার পথ সাশ্রয় হবে প্রায় ৭০ কিলোমিটার।
শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোকসেদ আলম মকিম খান বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবী ছিলো বাঁধ নির্মান। সরকার আমাদের দাবী পূরন করেছেন। বাঁধ হওয়ার কারনে এই অঞ্চলের প্রায় ৮টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ এ সুবিধা ভোগ করবে। বিশাল ফসলি জমি বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে। আগে এসব জমিতে এক ফসলের চাষ হতো।
এখন তিন ফসলের চাষাবাদ করা যাবে। এ অঞ্চলে আগে ১ বিঘা জমি বিক্রি হতো ২০ হাজার টাকায়, আর এখন জমির দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। দিন দিন জমির দাম বেড়েই চলেছে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল বারী সরদার বলেন, এখন আর আমাদের ফসল নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে না। বাঁধটি পুরোপুরি নির্মান কাজ শেষ হলে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। ফসলের ন্যায্য দাম পাওয়া যাবে।
যমুনা নদীর প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। গো খাদ্যের অভাব দূর হবে । এই বাঁধ দিয়েই হাটপাচিল থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় কম সময়ে পৌছানো সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে পাবনার বেড়া উপজেলার কৈতলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন,প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ফসলি জমির ক্ষতি পরিহার করে নদী ড্রেজিং করে ড্রেজিংকৃত ম্যাটেরিয়াল দ্বারা বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ নির্মান কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন যমুনা নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে অপরদিকে প্রকল্প এলাকায় বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার মাধ্যমে বন্যায় ঝুঁকি সহনীয় পর্যায়ে আনা সম্ভব হবে।
বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ এবং নিস্কাশন অবকাঠামো নির্মানের ফলে প্রকল্প এলাকায় এক ফসলি চাষাবাদ থেকে তিন ফসলি চাষাবাদে উন্নীত করণ এবং অধিক ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করা যাবে। প্রকল্পটি প্রত্যান্ত অঞ্চলে হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিসহ জনসাধারনের আর্থ সামাজিক ব্যবস্থারও ব্যাপক উন্নতি সাধন হবে।
দেশে প্রথম বারের মত দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবেশ বান্ধব এবং স্বল্প খরচে জুট ম্যাট্রেস দ্বারা পরীক্ষা মূলকভাবে অধিক ঝুকিপূর্ণ স্থানে স্লোপ প্রটেকশন পদ্বতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। বাঁধের স্লোপ সংরক্ষণের জন্য স্বল্প খরচে পরিবেশ বান্ধব ও টেকসই বিন্না ঘাসের ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটি সফল ভাবে বাস্তবায়ন হলে অন্য প্রকল্পগুলোতেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে তিনি উল্লেখ্য করেন।
বিবি/রেআ




















