ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সহ বিভিন্ন উপজেলার ছোট বড় অনেক বাজারসহ আবাসিক এলাকায় যত্রতত্র লাইসেন্সবিহীন দোকানে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ও জ্বালানি তেল বিক্রির ধুম পড়েছে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ আশেপাশের লোকজন ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এসব এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কোন অনুমোদন না নিয়েই যত্রতত্র তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ফলে একদিকে যেমন সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব অন্যদিকে আবাসিক এলাকায় এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন সাধারণ মানুষ।
এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইতিপূর্বে অবৈধভাবে এলপি গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম জাতিয় তৈল বিক্রির কারণে শহরের টি এ রোড, কালিবাড়ী সংলগ্নে ও পাওয়ার হাউজ রোডে একাধিক দূর্ঘটনা ঘটে। এ দূর্ঘটনায় প্রানহানীসহ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে যায়। শুধু টি এ রোড কিংবা পাওয়ার হাউজ রোডেই নয় জেলার বিভিন্নস্থানে অনেকেই এমন দূর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।
জেলাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। কিন্তু প্রতিরোধে যেমন ব্যবহারকারীর মধ্যে কোন সচেতনতা নেই তেমনি নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ নিয়ে কোন ভাবনা। এতে করে জেলায় ব্যঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠছে একের পর এক এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
অভিযোগ উঠেছে, ৯টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা ও ১০১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় দোকানেই যত্রতত্র এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ও জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। ফলে এর ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারে নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বিগ্ন অনেকেই। এমনকি মুদি দোকান, প্লাস্টিক সামগ্রী, কসমেটিক্স, জুতার দোকান, ফার্নিচার ও ফোন-ফ্যাক্সের দোকানেও অবাধে বিক্রি হচ্ছে এটি।
এছাড়া অধিকাংশ দোকানে বিভিন্ন সাইজের এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ও জ্বালানী তেলের মূল্য তালিকাও নেই। এসব মৌসুমি দোকানীদের এলপি গ্যাস ব্যবহারের নিয়ম কানুনও ভালভাবে জানা নেই। চলছে বিভিন্ন দোকানে সস্তায় নিম্নমানের রেগুলেটর, গ্যাস সরবরাহ পাইপ ও অনুমোদনহীন বিভিন্ন কোম্পানীর ঝুঁকিপূর্ণ চুলা বিক্রির হিড়িক।
বিশেষ করে উপজেলাগুলোতে গ্যাস সংযোগ না দেওয়ায় বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসা-বাড়ি ও রেষ্টুরেন্টে এলপি গ্যাসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে এবং দামও রাখা হচ্ছে ইচ্ছেমতো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ সহকারী পরিচালক মো: শারফুল আহসান আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, নিরাপত্তাহীন ও লাইসেন্স বিহীন যত্রতত্র এলপি গ্যাস বাজারজাত ও সরবরাহ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আবাসিক এলাকায় এসব প্রতিষ্ঠান থাকা মানে বিপদকে সাথে নিয়ে ঘুরার মত।
তবে লাইসেন্স দেওয়ার দায়িত্ব হচ্ছে সহকারী পরিচালকের। এক্ষেত্রে লাইসেন্স প্রদানের পূর্বে ভালভাবে যাচাই বাছাই শেষে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দায়িত্ব হচ্ছে ওয়ার হাউজ ইন্সপেক্টরের।
এখন পর্যন্ত এসব এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির কয়টি লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে এবং কয়টি প্রতিবেদন জমা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওয়ার হাউজ ইন্সপেক্টরের কোন তদন্ত প্রতিবেদন আমি এখনও পাইনি। এছাড়া এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের কোন লাইসেন্সও কাউকে প্রদান করিনি।
তবে খুব শীঘ্রই তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে এ ব্যাপারে আলোচনা করে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করবেন বলে আশস্ত করেন।
বিবি/রেআ




















