ঢাকা সকাল ৮:৩৬, বুধবার, ৭ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ইরানে ভূমিকম্পের উদ্ধার কাজ শেষ, নিহত ৪৫০

ভূমিকম্পবিধ্বস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ শেষ বলে ঘোষণা করেছে ইরানী কর্তৃপক্ষ। দেশটির সরকারি টিভির খবরে বলা হয়, ইরান-ইরাক সীমান্তে শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পে অন্তত ৪৫০ জন নিহত ও সাত হাজারের বেশি আহত হয়েছে।

এর আগে গত রবিবার রাতে ইরান-ইরাক সীমান্তে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কেরমানশাহ প্রদেশের বেশকিছু গ্রাম, শহর ও পাহাড়ি এলাকা বিধ্বস্ত হয়। এ সময় সেখানে অনেকেই নিজ নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল। ভূমিকম্পে ইরানের কমপক্ষে ১৪টি প্রদেশে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, ভূমিকম্পের পরপরই উদ্ধার কর্মীরা গ্রামের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলেছে, এখন আর কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা শেষ।

ইরানের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা–বিষয়ক প্রধান পীর হোসেইন কুলিভান্দ সরকারি টিভিকে বলেন, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ কেরমানশাহে উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে।

ইরানী কর্মকর্তারা বলেছেন, দেশটির অন্তত ১৪টি প্রদেশে আঘাত হানা ভূমিকম্পে ৪৫০ জনের বেশি লোক নিহত এবং সাত হাজার ১৫৬ জন আহত হয়েছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, উদ্ধার দল প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছালে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, অস্থায়ী শিবিরে হাজার হাজার মানুষ গাদাগাদিভাবে রয়েছেন। তবে অনেকেই ভয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন। ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত ১৯৩ বার পরাঘাত অনুভূত হয়।

কেরমানশাহ প্রদেশের সারপোল-ই-জাহাব শহরের এক নারীর সরকারি টিভিকে বলেন, তাঁবুর সংখ্যা কম ছিল। তাই পরিবার নিয়ে আমাদের কনকনে শীতের মধ্যে রাত কাটাতে হয়েছে। আমাদের জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা প্রয়োজন। সরকারের উচিত আমাদের দ্রুত সহায়তা করা।

ইরানী রেড ক্রিসেন্টের প্রধান জানিয়েছেন, ৭০ হাজারের বেশি লোকের জরুরী আশ্রয় প্রয়োজন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।

সারপোল ই জাহাব শহরের প্রধান হাসপাতালটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে শত শত আহত মানুষকে চিকিৎসা দিতে রীতিমত লড়াই করতে হচ্ছে।

ভূমিকম্প দুর্গত কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

ভূমিকম্পে ইরাকের সুলামানিয়াহ প্রদেশে কমপক্ষে ছয়জন নিহত ও ৬৮ জন আহত হয়েছে। আর কুর্দি এলাকায় সাতজন নিহত ও ৩২৫ জন আহত হয়েছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেছেন, ভূমিকম্পে তার দেশের দুর্গত মানুষদের জন্য বিদেশি সাহায্য গ্রহণের সিদ্ধান্ত এখনো নেয়া হয়নি। তবে ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি প্রয়োজন মনে করেন তাহলে যথাসময়ে তা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সাহায্য আহ্বান করা হবে।

২০১২ সালের পর ইরানে রোববারের ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে। ২০০৩ সালে ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর বামে ভূমিকম্পে ২৬ হাজার লোকের প্রাণহানি হয়। সূত্র: এবিসি নিউজ

এ বিভাগের আরও সংবাদ