০৮:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এমডিকে ‘শরবত’ খাওয়াতে এসেছেন জুরাইনবাসী

এমডিকে শরবত বানিয়ে খাওয়াতে ওয়াসা ভবনের সামনে অপেক্ষা করছেন রাজধানীর জুরাইনের বাসিন্দারা। এদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি।

‘ঢাকা ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়’- ২০ এপ্রিল সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান পুরান ঢাকার জুরাইনবাসী। এরই অংশ হিসেবে তারা মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টায় কারওয়ানবাজারে অবস্থিত ওয়াসা ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। ওয়াসার ‘শতভাগ বিশুদ্ধ’ পানির শরবত বানিয়ে এমডিকে খাওয়ানোর কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

জুরাইনবাসীর ব্যতিক্রমী এ কর্মসূচি ঘিরে ওয়াসা ভবনের সামনে লোকজনের জটলা তৈরি হয়েছে। জুরাইনবাসীর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন পথচারীরাও। এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেয়া মিজানুর রহমান তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে জগ বের করে জুরাইন এলাকার পানি বের করে গ্লাসে ঢেলেছেন। এই পানি দিয়ে শরবত বানিয়েছেন তিনি। এটি ওয়াসার এমডিকে খাওয়াতে চান তিনি।

মিজানুর রহমানের ভাষ্য, আমাদের এলাকায় ওয়াসার পানি ড্রেনের পানির মতো অপরিষ্কার। ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত এ পানি কাপড় কাচায়ও ব্যবহার করা যায় না। এটি তো খাওয়া দূরের কথা, গন্ধে হাতে নেয়াই দায়। এ অবস্থায় ওয়াসার এমডি কীভাবে বলেন- ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় ও বিশুদ্ধ! তাই আমরা এই ‘বিশুদ্ধ পানি’ দিয়ে শরবত বানিয়ে উনাকে খাওয়াতে এসেছি। দেখি উনি কী করেন।

মিজানুর রহমান আগেই জানিয়েছিলেন যে, তিনি ওয়াসার এমডিকে জুরাইন এলাকার পানি দিয়ে শরবত বানিয়ে খাওয়াবেন। সেই ঘোষণা মোতাবেক আজ তিনি জুরাইন এলাকার লোকজনসহ এই প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করতে ওয়াসা ভবনের সামনে এসে হাজির হন। এ বিষয়ে একটি রফা নিয়ে আজ এখান থেকে যেতে চান মিজানুর রহমান।

প্রতিবাদী মিজানুর বলেন, ২০১২ সালে আমরা জুরাইনের সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দা গণস্বাক্ষর নিয়ে ওয়াসার এমডি বরাবর একটি অভিযোগ করেছিলাম, যেখানে বলেছিলাম- এই পানি খাওয়া যায় না, ব্যবস্থা নিন। সেই অভিযোগে কোনো কাজ হয়নি। এখনও রোজ ময়লা পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এই পানি খাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে মসজিদের টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

কিংবা মিনারেল ওয়াটার কিনে পান করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ওয়াসার এমডির বক্তব্য আমাদের পীড়া দিয়েছে। তিনি বলেছেন- এই পানি শতভাগ সুপেয়। যদি সুপেয় পানি হয়, তবে তাকে এই পানির শরবত আমাদের সামনে খেতে হবে। আজ আমরা একটা সমাধান নিয়েই এখান থেকে যাব।

তিনি আরও বলেন, এমডির জন্য ওয়াসার বিভিন্ন কলের পানি নিয়ে এসেছি। যদি তার ডায়াবেটিস থাকে, তা হলে শুধু লেবু দিয়ে শরবত তৈরি করে খাওয়াব। তিনি খেয়ে বলবেন- পানি কতটুকু সুপেয়।

প্রসঙ্গত ১৭ এপ্রিল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পক্ষ থেকে ‘ঢাকা ওয়াসা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে ওয়াসায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি উল্লেখ করে টিআইবি।

এতে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার পানির নিম্নমানের কারণে ৯৩ শতাংশ গ্রাহক বিভিন্ন পদ্ধতিতে পানি পানের উপযোগী করেন। এর মধ্যে ৯১ শতাংশ গ্রাহকই পানি ফুটিয়ে বা সিদ্ধ করে পান করেন। গৃহস্থালি পর্যায়ে পানি ফুটিয়ে পানের উপযোগী করতে প্রতিবছর আনুমানিক ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাসের অপচয় হচ্ছে।

এ প্রতিবেদনের প্রতিবাদে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলন করে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান বলেন, ‘ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় ও বিশুদ্ধ। একে ফুটিয়ে খাওয়ার প্রয়োজন হয় না।’ এ ছাড়া টিআইবির এই প্রতিবেদনকে তিনি নিম্নমানের বলে উল্লেখ করেন।

তাকসিম এ খানের এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান পুরান ঢাকার বাসিন্দারা। তারা নিরাপদ পানির দাবি করে আসছেন।

বিবি/রেআ

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

এমডিকে ‘শরবত’ খাওয়াতে এসেছেন জুরাইনবাসী

প্রকাশিত : ০২:৩২:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯

এমডিকে শরবত বানিয়ে খাওয়াতে ওয়াসা ভবনের সামনে অপেক্ষা করছেন রাজধানীর জুরাইনের বাসিন্দারা। এদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি।

‘ঢাকা ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়’- ২০ এপ্রিল সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান পুরান ঢাকার জুরাইনবাসী। এরই অংশ হিসেবে তারা মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টায় কারওয়ানবাজারে অবস্থিত ওয়াসা ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। ওয়াসার ‘শতভাগ বিশুদ্ধ’ পানির শরবত বানিয়ে এমডিকে খাওয়ানোর কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

জুরাইনবাসীর ব্যতিক্রমী এ কর্মসূচি ঘিরে ওয়াসা ভবনের সামনে লোকজনের জটলা তৈরি হয়েছে। জুরাইনবাসীর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন পথচারীরাও। এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেয়া মিজানুর রহমান তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে জগ বের করে জুরাইন এলাকার পানি বের করে গ্লাসে ঢেলেছেন। এই পানি দিয়ে শরবত বানিয়েছেন তিনি। এটি ওয়াসার এমডিকে খাওয়াতে চান তিনি।

মিজানুর রহমানের ভাষ্য, আমাদের এলাকায় ওয়াসার পানি ড্রেনের পানির মতো অপরিষ্কার। ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত এ পানি কাপড় কাচায়ও ব্যবহার করা যায় না। এটি তো খাওয়া দূরের কথা, গন্ধে হাতে নেয়াই দায়। এ অবস্থায় ওয়াসার এমডি কীভাবে বলেন- ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় ও বিশুদ্ধ! তাই আমরা এই ‘বিশুদ্ধ পানি’ দিয়ে শরবত বানিয়ে উনাকে খাওয়াতে এসেছি। দেখি উনি কী করেন।

মিজানুর রহমান আগেই জানিয়েছিলেন যে, তিনি ওয়াসার এমডিকে জুরাইন এলাকার পানি দিয়ে শরবত বানিয়ে খাওয়াবেন। সেই ঘোষণা মোতাবেক আজ তিনি জুরাইন এলাকার লোকজনসহ এই প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করতে ওয়াসা ভবনের সামনে এসে হাজির হন। এ বিষয়ে একটি রফা নিয়ে আজ এখান থেকে যেতে চান মিজানুর রহমান।

প্রতিবাদী মিজানুর বলেন, ২০১২ সালে আমরা জুরাইনের সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দা গণস্বাক্ষর নিয়ে ওয়াসার এমডি বরাবর একটি অভিযোগ করেছিলাম, যেখানে বলেছিলাম- এই পানি খাওয়া যায় না, ব্যবস্থা নিন। সেই অভিযোগে কোনো কাজ হয়নি। এখনও রোজ ময়লা পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এই পানি খাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে মসজিদের টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

কিংবা মিনারেল ওয়াটার কিনে পান করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ওয়াসার এমডির বক্তব্য আমাদের পীড়া দিয়েছে। তিনি বলেছেন- এই পানি শতভাগ সুপেয়। যদি সুপেয় পানি হয়, তবে তাকে এই পানির শরবত আমাদের সামনে খেতে হবে। আজ আমরা একটা সমাধান নিয়েই এখান থেকে যাব।

তিনি আরও বলেন, এমডির জন্য ওয়াসার বিভিন্ন কলের পানি নিয়ে এসেছি। যদি তার ডায়াবেটিস থাকে, তা হলে শুধু লেবু দিয়ে শরবত তৈরি করে খাওয়াব। তিনি খেয়ে বলবেন- পানি কতটুকু সুপেয়।

প্রসঙ্গত ১৭ এপ্রিল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পক্ষ থেকে ‘ঢাকা ওয়াসা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে ওয়াসায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি উল্লেখ করে টিআইবি।

এতে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার পানির নিম্নমানের কারণে ৯৩ শতাংশ গ্রাহক বিভিন্ন পদ্ধতিতে পানি পানের উপযোগী করেন। এর মধ্যে ৯১ শতাংশ গ্রাহকই পানি ফুটিয়ে বা সিদ্ধ করে পান করেন। গৃহস্থালি পর্যায়ে পানি ফুটিয়ে পানের উপযোগী করতে প্রতিবছর আনুমানিক ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাসের অপচয় হচ্ছে।

এ প্রতিবেদনের প্রতিবাদে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলন করে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান বলেন, ‘ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় ও বিশুদ্ধ। একে ফুটিয়ে খাওয়ার প্রয়োজন হয় না।’ এ ছাড়া টিআইবির এই প্রতিবেদনকে তিনি নিম্নমানের বলে উল্লেখ করেন।

তাকসিম এ খানের এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান পুরান ঢাকার বাসিন্দারা। তারা নিরাপদ পানির দাবি করে আসছেন।

বিবি/রেআ