০২:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনের দাম নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর লক্ষ্মীপুরে ৮৬ হাজার ৪১০ টন সয়াবিন উৎপাদিত হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও বৃষ্টির কারণে আড়তদাররা সয়াবিন ক্রয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে কৃষক সয়াবিন বিক্রিও করতে পারছেন না। সেইসঙ্গে এবার ন্যায্য দাম না পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের মধ্যে লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত হয় প্রায় ৮০ ভাগ। জেলার পাঁচ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৪৫ হাজার ৪৯০ হেক্টর আবাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪৮ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ছয় হাজার ৫৬০ হেক্টরের বিপরীতে ৯ হাজার হেক্টর, রায়পুর উপজেলায় ছয় হাজার ১০৫ হেক্টরের বিপরীতে সাত হাজার হেক্টর, রামগঞ্জ উপজেলায় ৮৫ হেক্টরের বিপরীতে ৩৫ হেক্টর, রামগতি উপজেলায় ১৮ হাজার ১৯০ হেক্টরের বিপরীতে ১৭ হাজার ৭০০ হেক্টর এবং কমলনগর উপজেলায় ১৪ হাজার ৫৫০ হেক্টরের বিপরীতে ১৪ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদ করা হয়েছে। অর্থাৎ চলতি মৌসুমে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থেকে তিন হাজার ৫৫ হেক্টর বেশি জমিতে সয়াবিন আবাদ হয়েছে।

জানা গেছে, পৌষ মাসের শুরু থেকে ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সয়াবিন বীজ বপন করার উপযুক্ত সময়। প্রতি একর সয়াবিন উৎপাদনে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়, যার বিক্রয় মূল্য ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। অল্প পুঁজিতে কম সময়ে অধিক টাকার ফলন পাওয়ায় সয়াবিনকে সোনার ফসল হিসেবে চেনেন লক্ষ্মীপুরের সয়াবিনচাষিরা। কিন্তু এ বছর সয়াবিনের ফলন ভালো হলেও বর্ষার কারণে সয়াবিন তেমন বিক্রি হচ্ছে না। বর্তমান বাজারে প্রতি মণ সয়াবিনের দাম এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার ১০০ টাকা। তাই একাধিক সয়াবিন চাষি এবার কাক্সিক্ষত দাম না পাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেন।সদর উপজেলার টুমচর গ্রামের সয়াবিনচাষি আবদুল মান্নান জানান, চলতি মৌসুমে ১২০ শতাংশ জমিতে সয়াবিন আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হলেও দাম নিয়ে সন্তুষ্ট নন তিনি।

রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী গ্রামের সয়াবিনচাষি ইউসুফ মোল্লা জানান, তিনি ৮০ শতক জমিতে সয়াবিন আবাদ করেছেন। ভালো ফলনের আশায় জমিতে চাষ, মাড়াই, ভালো মানের সয়াবিন বীজ, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যাসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি মণ সয়াবিন ফলাতে খরচ হয়েছে এক হাজার টাকা। কিন্তু বাজারে তিনি প্রতি মণ সয়াবিনের দাম পাচ্ছেন এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার ১০০ টাকা। অথচ গত বছর শ্রাবণ মাসের শুরুতে প্রতি মণ সয়াবিন বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৪০০ টাকায়।

সদর উপজেলার তেয়ারিগঞ্জ ইউনিয়নের সয়াবিনচাষি কামাল মিয়া জানান, তিনি এ বছর তিন একর জমিতে সয়াবিন চাষ করেন। ফসল ঘরে আনা পর্যন্ত তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার টাকা। তিন একর জমিতে মোট ৪৫ মণ সয়াবিন উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাজারে ৪৫ মণ সয়াবিনের দাম পাওয়া যাবে ৪৫ হাজার থেকে ৪৬ হাজার টাকা।

তবে কমলনগর উপজেলার সয়াবিনের কয়েকজন পাইকার ও আড়তদার জানান, প্রতি বছর এ সময়ে সয়াবিন তেল ও পোলট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সয়াবিন সংগ্রহ শুরু করে। কিন্তু এখনও এসব প্রতিষ্ঠান সয়াবিন কেনা শুরু করেনি। ফলে গত বছরের চেয়ে এবার প্রতি মণ সয়াবিনের দাম প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কম। তবে চলতি সপ্তাহে বেচাকেনা বাড়লে মণপ্রতি দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়বে বলে তারা মনে করেন।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বেলাল হোসেন খান জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনের বাম্পার ফলন হয়েছে। সয়াবিনের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

 

বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সিআইডি প্রধানের জরুরী ব্রিফিং

লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনের দাম নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা

প্রকাশিত : ০৯:১১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অগাস্ট ২০১৯

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর লক্ষ্মীপুরে ৮৬ হাজার ৪১০ টন সয়াবিন উৎপাদিত হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও বৃষ্টির কারণে আড়তদাররা সয়াবিন ক্রয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে কৃষক সয়াবিন বিক্রিও করতে পারছেন না। সেইসঙ্গে এবার ন্যায্য দাম না পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের মধ্যে লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত হয় প্রায় ৮০ ভাগ। জেলার পাঁচ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৪৫ হাজার ৪৯০ হেক্টর আবাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪৮ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ছয় হাজার ৫৬০ হেক্টরের বিপরীতে ৯ হাজার হেক্টর, রায়পুর উপজেলায় ছয় হাজার ১০৫ হেক্টরের বিপরীতে সাত হাজার হেক্টর, রামগঞ্জ উপজেলায় ৮৫ হেক্টরের বিপরীতে ৩৫ হেক্টর, রামগতি উপজেলায় ১৮ হাজার ১৯০ হেক্টরের বিপরীতে ১৭ হাজার ৭০০ হেক্টর এবং কমলনগর উপজেলায় ১৪ হাজার ৫৫০ হেক্টরের বিপরীতে ১৪ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদ করা হয়েছে। অর্থাৎ চলতি মৌসুমে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থেকে তিন হাজার ৫৫ হেক্টর বেশি জমিতে সয়াবিন আবাদ হয়েছে।

জানা গেছে, পৌষ মাসের শুরু থেকে ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সয়াবিন বীজ বপন করার উপযুক্ত সময়। প্রতি একর সয়াবিন উৎপাদনে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়, যার বিক্রয় মূল্য ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। অল্প পুঁজিতে কম সময়ে অধিক টাকার ফলন পাওয়ায় সয়াবিনকে সোনার ফসল হিসেবে চেনেন লক্ষ্মীপুরের সয়াবিনচাষিরা। কিন্তু এ বছর সয়াবিনের ফলন ভালো হলেও বর্ষার কারণে সয়াবিন তেমন বিক্রি হচ্ছে না। বর্তমান বাজারে প্রতি মণ সয়াবিনের দাম এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার ১০০ টাকা। তাই একাধিক সয়াবিন চাষি এবার কাক্সিক্ষত দাম না পাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেন।সদর উপজেলার টুমচর গ্রামের সয়াবিনচাষি আবদুল মান্নান জানান, চলতি মৌসুমে ১২০ শতাংশ জমিতে সয়াবিন আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হলেও দাম নিয়ে সন্তুষ্ট নন তিনি।

রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী গ্রামের সয়াবিনচাষি ইউসুফ মোল্লা জানান, তিনি ৮০ শতক জমিতে সয়াবিন আবাদ করেছেন। ভালো ফলনের আশায় জমিতে চাষ, মাড়াই, ভালো মানের সয়াবিন বীজ, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যাসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি মণ সয়াবিন ফলাতে খরচ হয়েছে এক হাজার টাকা। কিন্তু বাজারে তিনি প্রতি মণ সয়াবিনের দাম পাচ্ছেন এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার ১০০ টাকা। অথচ গত বছর শ্রাবণ মাসের শুরুতে প্রতি মণ সয়াবিন বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৪০০ টাকায়।

সদর উপজেলার তেয়ারিগঞ্জ ইউনিয়নের সয়াবিনচাষি কামাল মিয়া জানান, তিনি এ বছর তিন একর জমিতে সয়াবিন চাষ করেন। ফসল ঘরে আনা পর্যন্ত তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার টাকা। তিন একর জমিতে মোট ৪৫ মণ সয়াবিন উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাজারে ৪৫ মণ সয়াবিনের দাম পাওয়া যাবে ৪৫ হাজার থেকে ৪৬ হাজার টাকা।

তবে কমলনগর উপজেলার সয়াবিনের কয়েকজন পাইকার ও আড়তদার জানান, প্রতি বছর এ সময়ে সয়াবিন তেল ও পোলট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সয়াবিন সংগ্রহ শুরু করে। কিন্তু এখনও এসব প্রতিষ্ঠান সয়াবিন কেনা শুরু করেনি। ফলে গত বছরের চেয়ে এবার প্রতি মণ সয়াবিনের দাম প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কম। তবে চলতি সপ্তাহে বেচাকেনা বাড়লে মণপ্রতি দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়বে বলে তারা মনে করেন।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বেলাল হোসেন খান জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনের বাম্পার ফলন হয়েছে। সয়াবিনের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

 

বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম