০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

৩ বছরে শিনীল তিলওয়ানির কোটিপতি হওয়ার গল্প

ইঞ্জিনিয়ার বাবার ইচ্ছা ছিল মেয়ে বড় চাকরি করবে। এজন্য মুম্বাইয়ের নামকরা এমবিএ কলেজে মেয়েকে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মেয়ের ইচ্ছা ছিল অন্য। পরিবারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে এমবিএ’র ভালো বেতনের চাকরি ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করে আজ তিনি কোটিপতি। বলছিলাম, মুম্বাইয়ের বাসিন্দা শিনীল তিলওয়ানির কথা।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা শিনীল তিলওয়ানির কোটিপতি হওয়ার গল্প জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে মুম্বাইয়ের নার্সি মনজি ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজে পড়ার সময় থেকেই নিজের ব্যবসা শুরু করেছিলেন শিনীল। বিভিন্ন স্কিন কেয়ার এবং বিউটি কেয়ার প্রোডাক্ট বিক্রি করতেন তিনি। ইচ্ছা ছিল-এটা নিয়েই এগিয়ে যাবেন জীবনে। কিন্তু মা-বাবা তার ব্যবসায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এমবিএ পাশ করার পর ২০১৫ সালে আমদাবাদের অরবিন্দ লিমিটেডের একটি কাপড় উৎপাদনকারী কোম্পানিতে যোগ দেন শিনীল। ভালো কাজের পুরস্কার হিসেবে খুব তাড়াতাড়ি তিনি প্রমোশনও পেয়ে যান। এতে করে শিনীলের মা-বাবা তাকে নিয়ে ভীষণ গর্বিত ছিলেন।

কিন্তু শিনীল একেবারেই কাজ নিয়ে খুশি ছিলেন না। তার বিউটি প্রোডাক্ট বিক্রির ব্যবসাও ডুবতে শুরু করেছিল তত দিনে। পরে শিনীল সিদ্ধান্ত নেন, চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি ব্যবসায় মন দেবেন। হাতে তার চার মাসের খরচ চালানোর মতো টাকা ছিল।

কিন্তু মা-বাবা কিছুতেই তার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। অবশেষে তাদের বিরুদ্ধে গিয়ে চাকরি ছেড়ে পুরোদমে পুরোনো বিউটি প্রোডাক্টের ব্যবসাই শুরু করেন শিনীল। প্রথম দিকে তার ব্যবসা একদমই ভালো যাচ্ছিল না। তবে ধীরে ধীরে শিনীলের পরিশ্রমে ব্যবসার প্রসার ঘটতে শুরু করে।

মুম্বাইয়ের এক বিখ্যাত ধনী পরিবার তার প্রোডাক্টের নমুনা দেখতে আগ্রহী হয়। নমুনা ব্যবহার করে ভীষণ খুশি হয়ে শিনীলের থেকে অনেক প্রোডাক্ট কিনে নেন তারা। এভাবেই ছড়িয়ে পড়ে তার প্রোডাক্টের সুখ্যাতি।

এ রকম আরও ১০-১২টি পরিবার তার গ্রাহক হয়ে যায়। ভালোই চলছিল তার ব্যবসা। কিন্তু এই ব্যবসা নিয়েও শিনীল অতটা খুশি ছিলেন না।

তার অন্য কিছু করার ইচ্ছা করছিল। মুম্বাই বিমানবন্দরে একটি আর্টস অ্যান্ড ক্রাফ্টসের দোকান তার ভাগ্য বদলে দিলো। ওই দোকানে একটি কাঠের হাতি ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করছিল দোকানকার।

এই একই হাতি শিনীল দেখেছিলেন তার ব্যবসায় সহযোগী এক ব্যক্তির বাড়িতে। ওই ব্যক্তি শিনীলের প্রোডাক্টের জন্য প্যাকিং বাক্স বানাতেন। তিনি এ রকম হাতিও বানাতেন। প্রতি হাতির দাম নিতেন মাত্র ২২ টাকা।

ব্যবসায়িক বুদ্ধি বোধহয় একেই বলে। সঙ্গে সঙ্গে শিনীল তার ব্যবসার পরবর্তী ধাপটা চিনে ফেললেন। ওই ব্যক্তির কাছেই অর্ডার দিয়ে এ রকম ঘর সাজানোর নানা জিনিস তৈরি করিয়ে বিক্রি শুরু করেন।

২০১৬ সালে তার দোকান হাউস অফ আর্টিসনস খুলে ফেলেন। মাত্র ১২ হাজার টাকায় শুরু করা সেই ব্যবসা এই কয়েক বছরেই ২ কোটি টাকার ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সিআইডি প্রধানের জরুরী ব্রিফিং

৩ বছরে শিনীল তিলওয়ানির কোটিপতি হওয়ার গল্প

প্রকাশিত : ০৩:৩৬:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৯

ইঞ্জিনিয়ার বাবার ইচ্ছা ছিল মেয়ে বড় চাকরি করবে। এজন্য মুম্বাইয়ের নামকরা এমবিএ কলেজে মেয়েকে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মেয়ের ইচ্ছা ছিল অন্য। পরিবারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে এমবিএ’র ভালো বেতনের চাকরি ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করে আজ তিনি কোটিপতি। বলছিলাম, মুম্বাইয়ের বাসিন্দা শিনীল তিলওয়ানির কথা।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা শিনীল তিলওয়ানির কোটিপতি হওয়ার গল্প জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে মুম্বাইয়ের নার্সি মনজি ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজে পড়ার সময় থেকেই নিজের ব্যবসা শুরু করেছিলেন শিনীল। বিভিন্ন স্কিন কেয়ার এবং বিউটি কেয়ার প্রোডাক্ট বিক্রি করতেন তিনি। ইচ্ছা ছিল-এটা নিয়েই এগিয়ে যাবেন জীবনে। কিন্তু মা-বাবা তার ব্যবসায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এমবিএ পাশ করার পর ২০১৫ সালে আমদাবাদের অরবিন্দ লিমিটেডের একটি কাপড় উৎপাদনকারী কোম্পানিতে যোগ দেন শিনীল। ভালো কাজের পুরস্কার হিসেবে খুব তাড়াতাড়ি তিনি প্রমোশনও পেয়ে যান। এতে করে শিনীলের মা-বাবা তাকে নিয়ে ভীষণ গর্বিত ছিলেন।

কিন্তু শিনীল একেবারেই কাজ নিয়ে খুশি ছিলেন না। তার বিউটি প্রোডাক্ট বিক্রির ব্যবসাও ডুবতে শুরু করেছিল তত দিনে। পরে শিনীল সিদ্ধান্ত নেন, চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি ব্যবসায় মন দেবেন। হাতে তার চার মাসের খরচ চালানোর মতো টাকা ছিল।

কিন্তু মা-বাবা কিছুতেই তার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। অবশেষে তাদের বিরুদ্ধে গিয়ে চাকরি ছেড়ে পুরোদমে পুরোনো বিউটি প্রোডাক্টের ব্যবসাই শুরু করেন শিনীল। প্রথম দিকে তার ব্যবসা একদমই ভালো যাচ্ছিল না। তবে ধীরে ধীরে শিনীলের পরিশ্রমে ব্যবসার প্রসার ঘটতে শুরু করে।

মুম্বাইয়ের এক বিখ্যাত ধনী পরিবার তার প্রোডাক্টের নমুনা দেখতে আগ্রহী হয়। নমুনা ব্যবহার করে ভীষণ খুশি হয়ে শিনীলের থেকে অনেক প্রোডাক্ট কিনে নেন তারা। এভাবেই ছড়িয়ে পড়ে তার প্রোডাক্টের সুখ্যাতি।

এ রকম আরও ১০-১২টি পরিবার তার গ্রাহক হয়ে যায়। ভালোই চলছিল তার ব্যবসা। কিন্তু এই ব্যবসা নিয়েও শিনীল অতটা খুশি ছিলেন না।

তার অন্য কিছু করার ইচ্ছা করছিল। মুম্বাই বিমানবন্দরে একটি আর্টস অ্যান্ড ক্রাফ্টসের দোকান তার ভাগ্য বদলে দিলো। ওই দোকানে একটি কাঠের হাতি ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করছিল দোকানকার।

এই একই হাতি শিনীল দেখেছিলেন তার ব্যবসায় সহযোগী এক ব্যক্তির বাড়িতে। ওই ব্যক্তি শিনীলের প্রোডাক্টের জন্য প্যাকিং বাক্স বানাতেন। তিনি এ রকম হাতিও বানাতেন। প্রতি হাতির দাম নিতেন মাত্র ২২ টাকা।

ব্যবসায়িক বুদ্ধি বোধহয় একেই বলে। সঙ্গে সঙ্গে শিনীল তার ব্যবসার পরবর্তী ধাপটা চিনে ফেললেন। ওই ব্যক্তির কাছেই অর্ডার দিয়ে এ রকম ঘর সাজানোর নানা জিনিস তৈরি করিয়ে বিক্রি শুরু করেন।

২০১৬ সালে তার দোকান হাউস অফ আর্টিসনস খুলে ফেলেন। মাত্র ১২ হাজার টাকায় শুরু করা সেই ব্যবসা এই কয়েক বছরেই ২ কোটি টাকার ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ