০৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ইসরায়েলি বর্বরোচিত হামলায় দুই শিশুসহ ‘গর্ভবতী’ মা নিহত

ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় ফিলিস্তিনে এক গর্ভবতী মা এবং তার দুই সন্তান নিহত হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়া এলাকার একটি আবাসিক ভবনে চালানো হামলায় গর্ভবতী নারী ও তার দুই সন্তান নিহত হয়।

আনাদোলু এজেন্সির তথ্য মতে, নিহত নারীর স্বামী ও শিশুদের পিতা খালেদ আল-তানানি জানান, তারা ভেবেছিল ওই স্থানটি নিরাপদ (ইসরায়েলি হামলা থেকে)।

তিনি আরও বলেন, ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সময়েই এই হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলিদের এমন হামলা এ অঞ্চলে বেসামরিক মানুষের জন্য চলমান ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আল-শিফা হাসপাতালের সামনেই নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি হয়। তবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বহুবার চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে । গত ১৪ এপ্রিল গাজার মিডিয়া অফিস জানায়, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েল ২,৪০০ বারের বেশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, যার মধ্যে হত্যাকাণ্ড, গ্রেপ্তার, অবরোধ এবং অনাহারের মতো নীতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরে ৯৭২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২,২৩৫ জন আহত হয়েছেন।

২০০৭ সাল থেকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বর্তমানে তীব্র মানবিক সংকট চলছে। গাজায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে অবকাঠামো, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১৫ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ মৌলিক সেবা ও আশ্রয়ের অভাবে ভুগছেন।

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর অবৈধ হামলা এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৩২৮ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ১৮৪ জন যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইসরায়েলি বর্বরোচিত হামলায় দুই শিশুসহ ‘গর্ভবতী’ মা নিহত

ইসরায়েলি বর্বরোচিত হামলায় দুই শিশুসহ ‘গর্ভবতী’ মা নিহত

প্রকাশিত : ০৯:২৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় ফিলিস্তিনে এক গর্ভবতী মা এবং তার দুই সন্তান নিহত হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়া এলাকার একটি আবাসিক ভবনে চালানো হামলায় গর্ভবতী নারী ও তার দুই সন্তান নিহত হয়।

আনাদোলু এজেন্সির তথ্য মতে, নিহত নারীর স্বামী ও শিশুদের পিতা খালেদ আল-তানানি জানান, তারা ভেবেছিল ওই স্থানটি নিরাপদ (ইসরায়েলি হামলা থেকে)।

তিনি আরও বলেন, ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সময়েই এই হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলিদের এমন হামলা এ অঞ্চলে বেসামরিক মানুষের জন্য চলমান ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আল-শিফা হাসপাতালের সামনেই নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি হয়। তবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বহুবার চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে । গত ১৪ এপ্রিল গাজার মিডিয়া অফিস জানায়, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েল ২,৪০০ বারের বেশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, যার মধ্যে হত্যাকাণ্ড, গ্রেপ্তার, অবরোধ এবং অনাহারের মতো নীতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরে ৯৭২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২,২৩৫ জন আহত হয়েছেন।

২০০৭ সাল থেকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বর্তমানে তীব্র মানবিক সংকট চলছে। গাজায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে অবকাঠামো, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১৫ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ মৌলিক সেবা ও আশ্রয়ের অভাবে ভুগছেন।

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর অবৈধ হামলা এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৩২৮ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ১৮৪ জন যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।