প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য আগামী শনিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কায়। মোট ১ কোটি ৫৯ লাখ ভোটার ভোট দিবেন এ নির্বাচনে। যাদের সিদ্ধান্তে নির্বাচিত হবে দেশটির নতুন নেতা।
এবারের নির্বাচনে রেকর্ড ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন দু’জন। শ্রীলঙ্কা পদুজনা পেরামুনা (এসএলপিপি)’র প্রার্থী সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব গোতাবায়া রাজপাকসে ও ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি)’র প্রার্থী সাজিথ প্রেমাদাসা। তারা দু’জনই শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিবার থেকে এসেছেন তবে প্রার্থী হিসেবে তারা দু’জনই ভিন্ন।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে গোতাবায়া রাজপাকসের ভাইয়েরা। শ্রীলঙ্কার ২০১৫ সালের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ১০ বছর ধরে দেশটির রাষ্ট্রপতি ছিলেন মাহিন্দা রাজাপাকসে। গোতাবায়া রাজপাকসে তার অধীনেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। শ্রীলঙ্কায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলি বৌদ্ধ ও সংখ্যা লঘু তামিলদের মধ্যকার রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটানোর কৃতিত্ব দেয়া হয় তাদের।
তবে কথিত আছে যে, সামরিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে গোতাবায়া রাজপাকসের অধীনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তার বিরুদ্ধে এখনও নির্যাতন, জালিয়াতি ও দুর্নীতি সম্পর্কিত একাধিক মামলা দায়ের করা আছে।
আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) শ্রীলঙ্কার প্রকল্প পরিচালক অ্যালান কিনান বলেন, ‘স্বভাবগত দিক থেকে রাজপাকসের সাত ভাইয়ের মধ্যে গোতাবায়া সবচেয়ে কঠোর, জাতীয়তাবাদী, নির্মম ও সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে কাছের ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।’
সাজিথ প্রেমাদাসা শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রধানমন্ত্রী রানাসিংহে প্রেমাদাসার ছেলে। রানা সিংহে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ও পরে ১৯৮৯ সাল থেকে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৯৩ সালে তামিল বিচ্ছিন্নবাদীদের মাধ্যমে তাকে গুপ্তহত্যা করা হয়।
শ্রীলঙ্কার আধুনিক ইতিহাসে তিনিই প্রথম নিম্ন বর্ণের রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। যদিও তিনি স্বৈরাচারী ছিলেন, তবে তার প্রগতিশীল নীতিমালার মাধ্যমে শ্রীলঙ্কাকে দারিদ্রতা থেকে দূরে সরিয়ে আনার কৃতিত্ব এখনও উদযাপিত হয়।
নির্বাচনী প্রচারণায় রাজনৈতিক আভিজাত্য নয় বরং জনগণের মানুষ হিসেবে কাজ করার জন্য পিতার কাজের পরস্পরা’কে নিজের মধ্যে ধারণ করছেন সাজিথ প্রেমাদাসা।
বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান
























