০৬:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু কিশোরের পাসে ছাবেরা ফাউন্ডেশন

অটিজম কোনো প্রতিবন্ধিতা নয়, এটি একটি বর্ধনমূলক বৈকল্য, যা শুধু শিশুদেরই হয়ে থাকে। অটিজম সমস্যাটি মস্তিষ্কজাত, যা একটি শিশু জন্মের সময়ই বহন করে নিয়ে আসে, যেটি তার শৈশবকালীন বিকাশকে নানাদিক থেকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করে। তবে বেশি বয়সে সন্তান ধারণ, প্রবল চাপমূলক জীবন, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি কতিপয় পারিপার্শ্বিক পরিবেশমূলক উপাদানকে এ সমস্যাটির উদ্ভবের জন্য দায়ী করা হয়।

সারা দেশে সরকারি ও ব্যাক্তি উদ্যোগে অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূলধারায় একীভূত করার জন্য অটিজম বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অন্যতম পূর্বশর্ত। অটিজম বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য দেশের সব ক্ষেত্রের সব পেশার মানুষের দায়িত্বশীল হতে হবে। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৩০ মার্চ) নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন উত্তর কলাবাগে হাসিনা অটিজম চাইল্ড কেয়ার এ সমাজের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু কিশোরদের মাঝে ছাবেরা ও ছাবিলা ফাউন্ডেশন এ-র যৌথ উদ্যোগে প্রতিবন্ধী শিশু কিশোর ও তাদের পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও পুরুস্কার বিতরনের আয়োজন করা হয়।

অটিজম সচেতনতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব (যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়) ও সাধারণ সম্পাদক ঢাকা অফিসের ক্লাব এবং ছাবেরা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জনাব মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘আগে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদেরকে অবহেলা ও অবজ্ঞার চোখে দেখা হতো, তাদেরকে নিয়ে সচেতনতার অভাব ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বিষয়ে সচেতনতা বেড়েছে। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বিষয়ে বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তাদের বিকাশের পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা শুধু বাইরে থেকে এ শিশুদের দেখি। কিন্তু একমাত্র পিতা-মাতার পক্ষেই তাদেরকে গভীরভাবে অনুভব করা সম্ভব।’ অটিজম আক্রান্ত সন্তানের বাবা-মার প্রতি অনুরোধ করে বলেন আপনারা আপনাদের সন্তানের প্রতি যত্নবান হবেন। তাদের কোন ভাবেই অবোহেলা করা যাবে না।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব বলেন, ‘সুস্থতায় বড়াই করার কিছু নেই। আমাদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যেই এ বিশেষ শিশুরা রয়েছে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এ শিশুদের সঠিক পরিচর্যা ও সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করাই সুস্থতার পরিচায়ক।’আর এই লক্ষ নিয়ে ফাউন্ডেশন এগিয়ে যাচ্ছে।

মেজবাহ উদ্দিন স্থানীয় জনসাধারণের প্রতি তিনি অনুরোধ করে আরো বলেন, সচেতনতায় আপনাদের এগিয়ে আসতে হবে, তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে, তিনি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবলকে এবং স্থানীয় সম্পদকে যথাযথ ব্যবহার ও প্রশিক্ষণ দিয়ে অটিস্টিক শিশুদের সবার সঙ্গে শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করলে অটিস্টিক শিশুরাও একদিন সামাজিক যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার দেওয়াল টপকাতে পারবে। এজন্য এ বিষয়ে গবেষণা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সমন্বিত সহযোগিতা থাকলে রাতারাতি সমাধান না হলেও এই সমস্যার ইতিবাচক প্রভাব আনা সম্ভব।

উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন জনাব শাহ আলম, (যুগ্ম সচিব) ও ব্যবস্থাপনা পরিচাল, নিউরো ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্দী সুরক্ষা ট্রাস্ট। আরো উপস্থিত ছিলেন বন্দর থানার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব এ এস এম মুহাইমিন। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাসিনা অটিজম চাইল্ড কেয়ার এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাসিনা বেগম।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

জনপ্রিয়

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু কিশোরের পাসে ছাবেরা ফাউন্ডেশন

প্রকাশিত : ০২:৪০:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪

অটিজম কোনো প্রতিবন্ধিতা নয়, এটি একটি বর্ধনমূলক বৈকল্য, যা শুধু শিশুদেরই হয়ে থাকে। অটিজম সমস্যাটি মস্তিষ্কজাত, যা একটি শিশু জন্মের সময়ই বহন করে নিয়ে আসে, যেটি তার শৈশবকালীন বিকাশকে নানাদিক থেকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করে। তবে বেশি বয়সে সন্তান ধারণ, প্রবল চাপমূলক জীবন, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি কতিপয় পারিপার্শ্বিক পরিবেশমূলক উপাদানকে এ সমস্যাটির উদ্ভবের জন্য দায়ী করা হয়।

সারা দেশে সরকারি ও ব্যাক্তি উদ্যোগে অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূলধারায় একীভূত করার জন্য অটিজম বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অন্যতম পূর্বশর্ত। অটিজম বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য দেশের সব ক্ষেত্রের সব পেশার মানুষের দায়িত্বশীল হতে হবে। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৩০ মার্চ) নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন উত্তর কলাবাগে হাসিনা অটিজম চাইল্ড কেয়ার এ সমাজের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু কিশোরদের মাঝে ছাবেরা ও ছাবিলা ফাউন্ডেশন এ-র যৌথ উদ্যোগে প্রতিবন্ধী শিশু কিশোর ও তাদের পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও পুরুস্কার বিতরনের আয়োজন করা হয়।

অটিজম সচেতনতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব (যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়) ও সাধারণ সম্পাদক ঢাকা অফিসের ক্লাব এবং ছাবেরা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জনাব মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘আগে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদেরকে অবহেলা ও অবজ্ঞার চোখে দেখা হতো, তাদেরকে নিয়ে সচেতনতার অভাব ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বিষয়ে সচেতনতা বেড়েছে। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বিষয়ে বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তাদের বিকাশের পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা শুধু বাইরে থেকে এ শিশুদের দেখি। কিন্তু একমাত্র পিতা-মাতার পক্ষেই তাদেরকে গভীরভাবে অনুভব করা সম্ভব।’ অটিজম আক্রান্ত সন্তানের বাবা-মার প্রতি অনুরোধ করে বলেন আপনারা আপনাদের সন্তানের প্রতি যত্নবান হবেন। তাদের কোন ভাবেই অবোহেলা করা যাবে না।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব বলেন, ‘সুস্থতায় বড়াই করার কিছু নেই। আমাদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যেই এ বিশেষ শিশুরা রয়েছে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এ শিশুদের সঠিক পরিচর্যা ও সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করাই সুস্থতার পরিচায়ক।’আর এই লক্ষ নিয়ে ফাউন্ডেশন এগিয়ে যাচ্ছে।

মেজবাহ উদ্দিন স্থানীয় জনসাধারণের প্রতি তিনি অনুরোধ করে আরো বলেন, সচেতনতায় আপনাদের এগিয়ে আসতে হবে, তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে, তিনি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবলকে এবং স্থানীয় সম্পদকে যথাযথ ব্যবহার ও প্রশিক্ষণ দিয়ে অটিস্টিক শিশুদের সবার সঙ্গে শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করলে অটিস্টিক শিশুরাও একদিন সামাজিক যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার দেওয়াল টপকাতে পারবে। এজন্য এ বিষয়ে গবেষণা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সমন্বিত সহযোগিতা থাকলে রাতারাতি সমাধান না হলেও এই সমস্যার ইতিবাচক প্রভাব আনা সম্ভব।

উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন জনাব শাহ আলম, (যুগ্ম সচিব) ও ব্যবস্থাপনা পরিচাল, নিউরো ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্দী সুরক্ষা ট্রাস্ট। আরো উপস্থিত ছিলেন বন্দর থানার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব এ এস এম মুহাইমিন। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাসিনা অটিজম চাইল্ড কেয়ার এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাসিনা বেগম।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে