০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪
স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক !

১০ মাদক গডফাদারের সম্পত্তি ক্রোক

তরুণ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর বিষয় হচ্ছে মাদক আসক্তি। মাদকের ভয়াবহতা এতই বেশি যে, মাদক সেবীর আশেপাশে থাকা মানুষও এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। শিশু-কিশোর, যুব বা যে কোন বয়সী নারী বা পুরুষ মাদক আসক্ত হতে পারে। মাদকের ভয়াবহতা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ব্যপক ক্ষতি সাধন করে। মাদকাসক্ত পরিবারে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেছেন, ‘মাদক মামলার মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে টেকনাফের সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদির দুই ভাই আমিনুর রহমান ও আব্দুর শুক্কুরের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি। বদির বিরুদ্ধেও যদি আমরা সাক্ষ্য-প্রমাণ পাই, তাহলে ছাড় দেওয়া হবে না। যার বিরুদ্ধেই তথ্য-প্রমাণ পাব, ধরা হবে, ছাড় দেওয়া হবে না। রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির কার্যালয়ে বুধবার দুপুরে ‘সিআইডির জালে মাদকের গডফাদাররা : বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া। মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ,র্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিজিবি,আরএনবি, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন সংস্থা। সমীক্ষায় দেখা যায় যে,২০২১ সালে ৭৯,৬৭৫ টি, ২০২২ সালে ৮২,৬৭২ টি এবং ২০২৩ সালে ৭৬,৪০৩ টি মাদক মামলা রুজু হয়েছে। বাংলাদেশে গড়ে প্রতিবছর প্রায় ৮০ হাজার মাদক উদ্ধার সংক্রান্ত মামলা রুজু হয়ে থাকে। মাদক নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা মাদকের বাহক ও মাদক সেবীদের গ্রেফতার এবং তাদের নিকট হতে মাদক উদ্ধার করে বিচারের আওতায় আনলেও মাদকের মূল হোতা গড-ফাদারদের বিরুদ্ধে কার্যতঃ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়না। তারা সব সময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। মাদক নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়েছে। ১৯৯০ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ণের মধ্য দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখতে শুরু করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ প্রণয়নের মাধ্যমে শুধুমাত্র মাদক সেবী বা বাহকদের বিরুদ্ধে নয়, মাদকের মূল হোতা গড ফাদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার আইনী সুযোগ সৃষ্টি হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির প্রেক্ষিতে সিআইডি মাদকের মামলা তদন্তে নতুন ডাইমেনশন এনেছে। সিআইডিই প্রথম মাদক সম্পৃক্ত মানিলন্ডারিং মামলার তদন্তে গভীরে প্রবেশ করে মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে এবং তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংকে থাকা অর্থ ফ্রিজ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রাথমকিভাবে সিআইডি ৩৫ টি মামলা তদন্ত করে মামলার মূলহোতা তথা গডফাদারদের মাদক ব্যবসা হতে অবৈধভাবে অর্জিত ব্যাংক একাউন্টে জমাকৃত অর্থ, ক্রয়কৃত জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাটসহ লন্ডারকৃত বিভিন্ন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির সন্ধান পায়। এ সকল মামলায় অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের পরিমান প্রায় ১৭৮.৪৪ কোটি টাকা। সিআইডি ইতোমধ্যে উল্লিখিত মামলা সমূহের মধ্যে ০৩ টি মামলায় গডফাদারদের ৯.১৪ একর জমি ও ২টি বাড়ি যার মূল্য অনুমান ৮.১১ কোটি টাকা ক্রোক এবং মাদক সংক্রান্ত মানিলন্ডারিং বিভিন্ন মামলায় ব্যাংকে গচ্ছিত ১,০১,২৩,৪২৫ (এক কোটি এক লক্ষ তেইশ হাজার চারশত পঁচিশ) টাকা ফ্রিজ করেছে। আরো ৩৫.১৭৩ একর জমি, ১২ টি বাড়ি ও ১ টি গাড়ি যার মূল্য অনুমান ৩৬.৮২ কোটি টাকা ক্রোকের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে মাদকের সকল গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা হবে। মাদক ব্যবসায় যারা অবৈধভাবে সম্পদ ও অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছে তাদের অবৈধ সম্পদ আইনী প্রক্রিয়ায় সরকারী কোষাগারে চলে যাবে। দেশ প্রেমিক সকল মানুষের প্রতি মাদক গড ফাদারদের তথ্য সিআইডিকে প্রদান করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।উল্লেখযোগ্য ১০ টি মামলার বিবরণ নিম্নে উপস্থাপন করা হল। অপর এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, কক্সবাজারে পর্যায়ক্রমে মাদকের গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা হবে। মাদক ব্যবসায় যাঁরা অবৈধভাবে সম্পদ ও অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন, তাঁদের অবৈধ সম্পদ আইনি প্রক্রিয়ায় সরকারি কোষাগারে চলে যাবে।

ট্যাগ :

স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক !

১০ মাদক গডফাদারের সম্পত্তি ক্রোক

প্রকাশিত : ০৯:৪১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪

তরুণ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর বিষয় হচ্ছে মাদক আসক্তি। মাদকের ভয়াবহতা এতই বেশি যে, মাদক সেবীর আশেপাশে থাকা মানুষও এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। শিশু-কিশোর, যুব বা যে কোন বয়সী নারী বা পুরুষ মাদক আসক্ত হতে পারে। মাদকের ভয়াবহতা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ব্যপক ক্ষতি সাধন করে। মাদকাসক্ত পরিবারে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেছেন, ‘মাদক মামলার মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে টেকনাফের সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদির দুই ভাই আমিনুর রহমান ও আব্দুর শুক্কুরের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি। বদির বিরুদ্ধেও যদি আমরা সাক্ষ্য-প্রমাণ পাই, তাহলে ছাড় দেওয়া হবে না। যার বিরুদ্ধেই তথ্য-প্রমাণ পাব, ধরা হবে, ছাড় দেওয়া হবে না। রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির কার্যালয়ে বুধবার দুপুরে ‘সিআইডির জালে মাদকের গডফাদাররা : বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া। মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ,র্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিজিবি,আরএনবি, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন সংস্থা। সমীক্ষায় দেখা যায় যে,২০২১ সালে ৭৯,৬৭৫ টি, ২০২২ সালে ৮২,৬৭২ টি এবং ২০২৩ সালে ৭৬,৪০৩ টি মাদক মামলা রুজু হয়েছে। বাংলাদেশে গড়ে প্রতিবছর প্রায় ৮০ হাজার মাদক উদ্ধার সংক্রান্ত মামলা রুজু হয়ে থাকে। মাদক নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা মাদকের বাহক ও মাদক সেবীদের গ্রেফতার এবং তাদের নিকট হতে মাদক উদ্ধার করে বিচারের আওতায় আনলেও মাদকের মূল হোতা গড-ফাদারদের বিরুদ্ধে কার্যতঃ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়না। তারা সব সময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। মাদক নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়েছে। ১৯৯০ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ণের মধ্য দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখতে শুরু করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ প্রণয়নের মাধ্যমে শুধুমাত্র মাদক সেবী বা বাহকদের বিরুদ্ধে নয়, মাদকের মূল হোতা গড ফাদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার আইনী সুযোগ সৃষ্টি হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির প্রেক্ষিতে সিআইডি মাদকের মামলা তদন্তে নতুন ডাইমেনশন এনেছে। সিআইডিই প্রথম মাদক সম্পৃক্ত মানিলন্ডারিং মামলার তদন্তে গভীরে প্রবেশ করে মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে এবং তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংকে থাকা অর্থ ফ্রিজ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রাথমকিভাবে সিআইডি ৩৫ টি মামলা তদন্ত করে মামলার মূলহোতা তথা গডফাদারদের মাদক ব্যবসা হতে অবৈধভাবে অর্জিত ব্যাংক একাউন্টে জমাকৃত অর্থ, ক্রয়কৃত জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাটসহ লন্ডারকৃত বিভিন্ন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির সন্ধান পায়। এ সকল মামলায় অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের পরিমান প্রায় ১৭৮.৪৪ কোটি টাকা। সিআইডি ইতোমধ্যে উল্লিখিত মামলা সমূহের মধ্যে ০৩ টি মামলায় গডফাদারদের ৯.১৪ একর জমি ও ২টি বাড়ি যার মূল্য অনুমান ৮.১১ কোটি টাকা ক্রোক এবং মাদক সংক্রান্ত মানিলন্ডারিং বিভিন্ন মামলায় ব্যাংকে গচ্ছিত ১,০১,২৩,৪২৫ (এক কোটি এক লক্ষ তেইশ হাজার চারশত পঁচিশ) টাকা ফ্রিজ করেছে। আরো ৩৫.১৭৩ একর জমি, ১২ টি বাড়ি ও ১ টি গাড়ি যার মূল্য অনুমান ৩৬.৮২ কোটি টাকা ক্রোকের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে মাদকের সকল গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা হবে। মাদক ব্যবসায় যারা অবৈধভাবে সম্পদ ও অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছে তাদের অবৈধ সম্পদ আইনী প্রক্রিয়ায় সরকারী কোষাগারে চলে যাবে। দেশ প্রেমিক সকল মানুষের প্রতি মাদক গড ফাদারদের তথ্য সিআইডিকে প্রদান করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।উল্লেখযোগ্য ১০ টি মামলার বিবরণ নিম্নে উপস্থাপন করা হল। অপর এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, কক্সবাজারে পর্যায়ক্রমে মাদকের গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা হবে। মাদক ব্যবসায় যাঁরা অবৈধভাবে সম্পদ ও অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন, তাঁদের অবৈধ সম্পদ আইনি প্রক্রিয়ায় সরকারি কোষাগারে চলে যাবে।