১০:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

টাঙ্গাইলে দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি

টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও সখীপুর উপজেলার দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও কোন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, সখীপুর উপজেলার কালিয়া আড়াইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং নাগরপুর উপজেলার ইসলামাবাদ দারুচ্ছুন্নাহ আলিম মাদরাসা।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সখীপুরের কালিয়া আড়াইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল ৫জন এবং নাগরপুরের ইসলামাবাদ দারুচ্ছুন্নাহ আলিম মাদরাসা ২৭জন শিক্ষার্থী। তবে পরীক্ষায় অংশ নেয়া এসব শিক্ষার্থী কেউ পাস করতে পারেনি।

জানা গেছে, ২০০০ সালে সখীপুরে কালিয়া আড়াইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ ১১ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী রয়েছে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৬ জন। বিদ্যালয়টি ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি পায়।

স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়টিতে তেমন পড়াশুনা হয় না। শিক্ষকরা এসেই চলে যায়। শিক্ষার্থীও নেই তেমন। শুধুমাত্র এমপিওভুক্ত পাবার জন্য বিদ্যালয়টি চালু রাখা হয়েছে। বিগত সময়েও ওই বিদ্যালয়ে ফলাফল ভাল ছিল না।

জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৮২.৩৫ শতাংশ এবং শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০টি। মাদরাসায় ৭৪.৩৭ শতাংশ এবং শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২২টি। এছাড়া টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার নরিল্যা আ. খা মহিলা দাখিল মাদরাসা এবং গাড়াখালি বালিকা দাখিল মাদরাসার একজন শিক্ষার্থীও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।

কালিয়া আড়াইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেনের দাবী এবার এসএসসিতে ভাল ফলাফল করেছে শিক্ষার্থীরা। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের কেউ পাস করেনি আপনাকে এই তথ্য কে দিয়েছে এটা সঠিক তথ্য না। আপনি ওয়েব সাইটে গিয়ে রেজাল্ট দেখেন। আপনাকে বলতে পারবো না কয়জন পাস করেছে।

সখীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, উপজেলায় এবার পরীক্ষার রেজাল্ট ভাল হয়েছে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যতিত। কালিয়া আড়াইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত না। তারপরও কেন তাদের পরীক্ষায় কোন শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি বা ফলাফল খারাপ হয়েছে সেই বিষয়ে ব্যাখা চাওয়া হয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সামনের পরীক্ষাগুলোতে ফলাফল খারাপ হলে ওই বিদ্যালয়ের ক্লাশ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে।

নাগরপুর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদির আহমদ বলেন, ইসলামাবাদ দারুচ্ছুন্নাহ আলিম মাদরাসার ২৭ শিক্ষার্থীর একজনও কেন পাস করলো না এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। যেহেতু নতুন এইখানে যোগদান করেছে ওই প্রতিষ্ঠানের বিগত ফলাফলের বিষয়ে অবগত না। প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাখা পাওয়ার পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

টাঙ্গাইলে দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি

প্রকাশিত : ০৩:৩৮:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪

টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও সখীপুর উপজেলার দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও কোন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, সখীপুর উপজেলার কালিয়া আড়াইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং নাগরপুর উপজেলার ইসলামাবাদ দারুচ্ছুন্নাহ আলিম মাদরাসা।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সখীপুরের কালিয়া আড়াইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল ৫জন এবং নাগরপুরের ইসলামাবাদ দারুচ্ছুন্নাহ আলিম মাদরাসা ২৭জন শিক্ষার্থী। তবে পরীক্ষায় অংশ নেয়া এসব শিক্ষার্থী কেউ পাস করতে পারেনি।

জানা গেছে, ২০০০ সালে সখীপুরে কালিয়া আড়াইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ ১১ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী রয়েছে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৬ জন। বিদ্যালয়টি ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি পায়।

স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়টিতে তেমন পড়াশুনা হয় না। শিক্ষকরা এসেই চলে যায়। শিক্ষার্থীও নেই তেমন। শুধুমাত্র এমপিওভুক্ত পাবার জন্য বিদ্যালয়টি চালু রাখা হয়েছে। বিগত সময়েও ওই বিদ্যালয়ে ফলাফল ভাল ছিল না।

জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৮২.৩৫ শতাংশ এবং শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০টি। মাদরাসায় ৭৪.৩৭ শতাংশ এবং শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২২টি। এছাড়া টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার নরিল্যা আ. খা মহিলা দাখিল মাদরাসা এবং গাড়াখালি বালিকা দাখিল মাদরাসার একজন শিক্ষার্থীও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।

কালিয়া আড়াইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেনের দাবী এবার এসএসসিতে ভাল ফলাফল করেছে শিক্ষার্থীরা। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের কেউ পাস করেনি আপনাকে এই তথ্য কে দিয়েছে এটা সঠিক তথ্য না। আপনি ওয়েব সাইটে গিয়ে রেজাল্ট দেখেন। আপনাকে বলতে পারবো না কয়জন পাস করেছে।

সখীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, উপজেলায় এবার পরীক্ষার রেজাল্ট ভাল হয়েছে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যতিত। কালিয়া আড়াইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত না। তারপরও কেন তাদের পরীক্ষায় কোন শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি বা ফলাফল খারাপ হয়েছে সেই বিষয়ে ব্যাখা চাওয়া হয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সামনের পরীক্ষাগুলোতে ফলাফল খারাপ হলে ওই বিদ্যালয়ের ক্লাশ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে।

নাগরপুর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদির আহমদ বলেন, ইসলামাবাদ দারুচ্ছুন্নাহ আলিম মাদরাসার ২৭ শিক্ষার্থীর একজনও কেন পাস করলো না এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। যেহেতু নতুন এইখানে যোগদান করেছে ওই প্রতিষ্ঠানের বিগত ফলাফলের বিষয়ে অবগত না। প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাখা পাওয়ার পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে