রাজধানীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ কেন্দ্র করে রাজপথে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সমাবেশকে কেন্দ্র করে নাশকতার শঙ্কায় তারা এ অবস্থান নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।
একই সঙ্গে উপজেলা থেকে ছেড়ে যাচ্ছে না কোনো গণপরিবহন। বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
শনিবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সব গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। যাত্রী সংকট ও নাশকতার আশঙ্কায় পরিবহন বন্ধ রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। বিএনপির সমাবেশ ঘিরে কয়েকদিন ধরেই তারা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অব্যাহত রেখেছেন। ঢাকার প্রবেশমুখ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা, গোলাকান্দাইল, আধুরিয়া, বরপা, বিশ্বরোড, এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কের মায়ারবাড়ি, জিন্দা, রূপগঞ্জ, পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়ক, মুড়াপাড়া, দাউদপুরসহ অন্তত ৩০টি স্থানে সতর্ক অবস্থান রয়েছেন তারা।
সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, স্থানীয় সংসদ সদস্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। বিএনপির নৈরাজ্যে ও অগ্নিসন্ত্রাস প্রতিহত করতে নেতাকর্মীদের সব সময় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, ‘বিএনপির নৈরাজ্য ও অগ্নিসন্ত্রাস আর করতে দেওয়া হবে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আর সেই উন্নয়নে কেউ বাধা দিলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এখন থেকে প্রতিহত করা হবে। শক্ত হাতে জবাব দেওয়া হবে।
বিএনপি কর্মসূচি ঘোষণা করলেই পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় বলে দাবি রূপগঞ্জের ভুলতা রেন্ট-এ-কার মালিক সমিতির সভাপতি বাচ্ছু মিয়ার। তিনি বলেন, ‘বিএনপি কোনো ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা দিলেই পরিবহন মালিকরা আতঙ্কে থাকেন। তারা ঢাকায় সমাবেশ করছে। এটি মাথায় রেখে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তাদের সমাবেশ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি দেখে বাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গাউছিয়া এনপি বাস কাউন্টারের ম্যানেজার সোহেল মিয়া বলেন, ‘ঢাকায় বিএনপির সমাবেশ চলছে। এ পরিস্থিতিতে নাশকতার শঙ্কায় চালকরা বাস নিয়ে রাস্তায় বের হতে ইচ্ছুক না। তারা গাড়ি চালাতে না চাওয়ায় অনেক বাস কোম্পানি কাউন্টার বন্ধ রেখেছে। আজ বিকালের পর পরিস্থিতি দেখে বাস চলাচল শুরু হবে।
এদিকে গ্রেপ্তার এড়াতে ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চাপের মুখে পড়ে কৌশল পাল্টে বিএনপির নেতাকর্মীরা আগেই সমাবেশে যোগদান করতে ঢাকায় প্রবেশ করেছেন বলে জানা গেছে। সমাবেশে যোগ দিতে রূপগঞ্জ থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মী ঢাকা পৌঁছেছে বলে দাবি বিএনপি নেতাদের।
গত ২৭ নভেম্বর রাতে বিএনপি ও ছাত্রদলের মশাল মিছিল থেকে মোটরসাইকেলে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন ও রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনসহ ৩৮ জনের নামে এবং ৭০-৮০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা করেন ছাত্রলীগ কর্মী মো. রাশিদুল। ওই মামলায় গত এক সপ্তাহে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ২৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন বলেন, ‘আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশে যোগদান করতে আগে থেকেই ঢাকায় পৌঁছেছেন। আমরা ইতোমধ্যে গোলাপবাগের সমাবেশে যোগদান করেছি। গণপরিবহন বন্ধ করেও আমাদের আটকাতে পারেনি। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন,এক ছাত্রলীগ কর্মীর দেওয়া মিথ্যা মামলায় আমাদের ২৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গায়েবী মামলা দিয়ে আমাদের দমাতে পারবে না আওয়ামী লীগ সরকার। আমাদের চলছে, চলবে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সাহেদ বলেন,পুলিশ নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। অন্য সময়ের মত আমরা নিয়মিত টহলে রয়েছি।





















