দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বিল না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন বিভাগের ঠিকাদাররা। কাজ সম্পন্ন করেও সময়মতো বিল না পাওয়ায় তাদের পক্ষে চলমান প্রকল্প পরিচালনা এবং দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশের অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা, যা স্বল্প খরচে প্রতিদিন লাখো যাত্রী ও বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগে রেলখাতে আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করা হলেও, বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদাররা পাচ্ছেন না সময়মতো প্রাপ্য বিল।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, এক অর্থবছরের কাজের বিল সেই অর্থবছরেই পরিশোধ না হওয়ায় ব্যাংক ঋণের সুদের চাপ বাড়ছে, ফলে তারা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছে, আবার কেউ কেউ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শুধু মালিকই নয়—শ্রমিক, সরবরাহকারী, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবিকা জড়িত থাকে। ফলে বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে এর প্রভাব পড়ে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ওপর, যারা দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ রেলওয়ে কন্ট্রাকটরস অ্যাসোসিয়েশন (বিআরসিএ) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে। আবেদনে সংগঠনের আহ্বায়ক শফিকুর রহমান স্বপন ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ শাহ আলম উল্লেখ করেন, রেলওয়ের কার্যক্রম সচল রাখতে ঠিকাদাররা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং তারা রেলওয়ে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তারা আরও জানান, বকেয়া বিল পরিশোধে দীর্ঘসূত্রতার কারণে রেলের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না হওয়ায় প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অনেক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেলওয়ের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি ঠিকাদারদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধ এবং একটি কার্যকর অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে, ঠিকাদারদের সংগঠন দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে, যাতে রেলখাতের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি ফিরে আসে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবহন খাত আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
ডিএস./






















