০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

অযোগ্য ২২০ কন্টেনারের মধ্যে ৮ দিনে ১৯৩ কন্টেনার পণ্য ধ্বংস

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকা নিলাম অযোগ্য ২২০ কন্টেনারের মধ্যে ৮ দিনে ১৯৩ কন্টেনার পণ্য ধ্বংস করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে ছিল–রসূন, ফলমূল, ক্যানোলা সিড, ফিস ফিড, মহিশের মাংস এবং মাছ। চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর আনন্দবাজার বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় গত ১১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় ধ্বংস কার্যক্রম। স্ক্যাভেটর দিয়ে বড় গর্ত খুড়ে এসব পণ্য পুঁতে ফেলে ধ্বংস করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

নিলাম শাখা সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারি করা স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী গঠিত চট্টগ্রাম বন্দরের মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস কমিটির গত ৪ জানুয়ারির অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২০ কন্টেনার নিলাম অযোগ্য পণ্য ধ্বংসের উদ্যোগ নেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ২৬ লটের এসব কন্টেনারে বন্দরের ভেতরে রেফার্ডসহ ড্রাই কন্টেনার আছে ২২টি। বিভিন্ন অফডকে ড্রাই পণ্যের কন্টেনার আছে ১৯৮টি।

নিলাম শাখার কর্মকর্তারা জানান, আমদানি করা পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে সরবরাহ নিতে হয়। এই সময়ের মধ্যে কোনো আমদানিকারক পণ্য সরবরাহ না নিলে তাকে নোটিশ দেয় কাস্টমস। নোটিশ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই পণ্য সরবরাহ না নিলে তা নিলামে তুলতে পারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সর্বমোট ৪৫ দিনের মধ্যে নিলামে তোলার এই নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর করতে পারেনি বন্দর ও কাস্টমস। এতে করে বন্দরের ইয়ার্ডে এসব কন্টেনার পড়ে থাকে। অন্যদিকে আমদানিকারক যথাসময়ে পণ্যভর্তি কন্টেনার খালাস না করলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ব্যাঘাত ঘটে। এক্ষেত্রে পচনশীল পণ্যভর্তি কন্টেনার একটি বড় সমস্যা। খালাস না হওয়া এসব কন্টেনার শিপিং কোম্পানির জন্যও বিপদের। কারণ এসব কন্টেনারে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে হয়। আমদানিকারক খালাস না নিলেও বৈদ্যুতিক সংযোগ চাইলেও বিচ্ছিন্ন করা যায় না।

বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, নিলাম অযোগ্য পণ্য বন্দরের জন্য একটি বিশাল সমস্যা। অনেক সময় আইনি জটিলতায় নিলাম অযোগ্য পণ্য ধ্বংস করতে পারে না কাস্টমস। ফলে বন্দর ইয়ার্ডে এসব কন্টেনারের জন্য জট লেগে যায়। নিলাম অযোগ্য পণ্য ধ্বংসের জন্য কাস্টমসে স্থায়ীভাবে একটা স্থান নির্ধারণ করা উচিত। চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপ–কমিশনার (প্রিভেন্টিভ শাখা) মো. মাহফুজ আলম জানান, এখন পর্যন্ত ১৯৩ কন্টেনার বিভিন্ন ধরনের পণ্য ধ্বংস করেছি আমরা। আশা করি আগামী এক দুইদিনের মধ্যে ধ্বংস কার্যক্রম শেষ করতে পারবো।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

জনপ্রিয়

বাসের ভেতরেই হেলপারের মৃত্যু, ময়নাতদন্তে কারণ জানার অপেক্ষা

অযোগ্য ২২০ কন্টেনারের মধ্যে ৮ দিনে ১৯৩ কন্টেনার পণ্য ধ্বংস

প্রকাশিত : ১১:২৬:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৩

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকা নিলাম অযোগ্য ২২০ কন্টেনারের মধ্যে ৮ দিনে ১৯৩ কন্টেনার পণ্য ধ্বংস করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে ছিল–রসূন, ফলমূল, ক্যানোলা সিড, ফিস ফিড, মহিশের মাংস এবং মাছ। চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর আনন্দবাজার বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় গত ১১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় ধ্বংস কার্যক্রম। স্ক্যাভেটর দিয়ে বড় গর্ত খুড়ে এসব পণ্য পুঁতে ফেলে ধ্বংস করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

নিলাম শাখা সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারি করা স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী গঠিত চট্টগ্রাম বন্দরের মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস কমিটির গত ৪ জানুয়ারির অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২০ কন্টেনার নিলাম অযোগ্য পণ্য ধ্বংসের উদ্যোগ নেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ২৬ লটের এসব কন্টেনারে বন্দরের ভেতরে রেফার্ডসহ ড্রাই কন্টেনার আছে ২২টি। বিভিন্ন অফডকে ড্রাই পণ্যের কন্টেনার আছে ১৯৮টি।

নিলাম শাখার কর্মকর্তারা জানান, আমদানি করা পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে সরবরাহ নিতে হয়। এই সময়ের মধ্যে কোনো আমদানিকারক পণ্য সরবরাহ না নিলে তাকে নোটিশ দেয় কাস্টমস। নোটিশ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই পণ্য সরবরাহ না নিলে তা নিলামে তুলতে পারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সর্বমোট ৪৫ দিনের মধ্যে নিলামে তোলার এই নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর করতে পারেনি বন্দর ও কাস্টমস। এতে করে বন্দরের ইয়ার্ডে এসব কন্টেনার পড়ে থাকে। অন্যদিকে আমদানিকারক যথাসময়ে পণ্যভর্তি কন্টেনার খালাস না করলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ব্যাঘাত ঘটে। এক্ষেত্রে পচনশীল পণ্যভর্তি কন্টেনার একটি বড় সমস্যা। খালাস না হওয়া এসব কন্টেনার শিপিং কোম্পানির জন্যও বিপদের। কারণ এসব কন্টেনারে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে হয়। আমদানিকারক খালাস না নিলেও বৈদ্যুতিক সংযোগ চাইলেও বিচ্ছিন্ন করা যায় না।

বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, নিলাম অযোগ্য পণ্য বন্দরের জন্য একটি বিশাল সমস্যা। অনেক সময় আইনি জটিলতায় নিলাম অযোগ্য পণ্য ধ্বংস করতে পারে না কাস্টমস। ফলে বন্দর ইয়ার্ডে এসব কন্টেনারের জন্য জট লেগে যায়। নিলাম অযোগ্য পণ্য ধ্বংসের জন্য কাস্টমসে স্থায়ীভাবে একটা স্থান নির্ধারণ করা উচিত। চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপ–কমিশনার (প্রিভেন্টিভ শাখা) মো. মাহফুজ আলম জানান, এখন পর্যন্ত ১৯৩ কন্টেনার বিভিন্ন ধরনের পণ্য ধ্বংস করেছি আমরা। আশা করি আগামী এক দুইদিনের মধ্যে ধ্বংস কার্যক্রম শেষ করতে পারবো।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব