১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

হাইকোর্টের রায়ে ভাগ্য খুলছে ৪৭ হাজার প্রাম পুলিশের

  • নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ০৪:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯
  • 135

দেশের গ্রাম পুলিশকে সরকারি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদমর্যাদা দিতে এবং সে অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করে তা প্রদান করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। রোববার এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এ রায়ের ফলে ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশের ভাগ্য খুলতে যাচ্ছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী।

আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোজাম্মেল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়েস আল হারুনী। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়েস আল হারুনী সাংবাদিকদের বলেন, আদালত এই রিট মামলায় আগামী মঙ্গলবার আরও কিছু পর্যবেক্ষণ দেবেন।

এদিকে দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে দফাদার ও মহলদার হিসেবে কর্মরত গ্রাম পুলিশের সংখ্যা প্রায় ৪৭ হাজার। এদের মধ্যে দফাদারদের মাসিক বেতন ৩ হাজার ৪০০ টাকা। আর মহলদারদের বেতন ৩০০০ টাকা। গ্রাম পুলিশের চাকরি সরকারের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এই বেতনের অর্ধেক দেয় ইউনিয়ন পরিষদ আর সরকারের কোষাগার থেকে আসে বাকিটা।

ব্রিটিশ আমল থেকে এ বাহিনী বিভিন্ন আইনের অধীনে কাজ করে আসছে। সর্বশেষ স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ সালের অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এ আইনের অধীনে ২০১৫ সালে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃংখলা ও চাকুরির শর্তাবলী সম্পর্কিত বিধিমালা তৈরি করা হয়।

কিন্তু এ বিধিতে তাদের কোনো শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়নি। এদিকে ২০০৮ সালের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গ্রাম পুলিশদের চতুর্থ শ্রেণির স্কেল নির্ধারণে অর্থ বিভাগকে চিঠি দেয়। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় হাইকোর্টে রিট করা হয়।

চাকরি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তি, সরকারি বেতন কাঠামোর চতুর্থ শ্রেণির সমমর্যাদা, মানসম্মত পোশাক, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো রেশন চালু ও ঝুঁকি ভাতা প্রদান, প্রত্যেক বিভাগে একটি করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং সন্তানের জন্য সরকারি চাকরিতে কোটা সংরক্ষণের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে আন্দোলনের পর গ্রাম পুলিশরা প্রতিকার পেতে উচ্চ আদালতে আসে।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

হাইকোর্টের রায়ে ভাগ্য খুলছে ৪৭ হাজার প্রাম পুলিশের

প্রকাশিত : ০৪:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

দেশের গ্রাম পুলিশকে সরকারি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদমর্যাদা দিতে এবং সে অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করে তা প্রদান করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। রোববার এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এ রায়ের ফলে ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশের ভাগ্য খুলতে যাচ্ছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী।

আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোজাম্মেল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়েস আল হারুনী। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়েস আল হারুনী সাংবাদিকদের বলেন, আদালত এই রিট মামলায় আগামী মঙ্গলবার আরও কিছু পর্যবেক্ষণ দেবেন।

এদিকে দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে দফাদার ও মহলদার হিসেবে কর্মরত গ্রাম পুলিশের সংখ্যা প্রায় ৪৭ হাজার। এদের মধ্যে দফাদারদের মাসিক বেতন ৩ হাজার ৪০০ টাকা। আর মহলদারদের বেতন ৩০০০ টাকা। গ্রাম পুলিশের চাকরি সরকারের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এই বেতনের অর্ধেক দেয় ইউনিয়ন পরিষদ আর সরকারের কোষাগার থেকে আসে বাকিটা।

ব্রিটিশ আমল থেকে এ বাহিনী বিভিন্ন আইনের অধীনে কাজ করে আসছে। সর্বশেষ স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ সালের অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এ আইনের অধীনে ২০১৫ সালে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃংখলা ও চাকুরির শর্তাবলী সম্পর্কিত বিধিমালা তৈরি করা হয়।

কিন্তু এ বিধিতে তাদের কোনো শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়নি। এদিকে ২০০৮ সালের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গ্রাম পুলিশদের চতুর্থ শ্রেণির স্কেল নির্ধারণে অর্থ বিভাগকে চিঠি দেয়। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় হাইকোর্টে রিট করা হয়।

চাকরি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তি, সরকারি বেতন কাঠামোর চতুর্থ শ্রেণির সমমর্যাদা, মানসম্মত পোশাক, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো রেশন চালু ও ঝুঁকি ভাতা প্রদান, প্রত্যেক বিভাগে একটি করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং সন্তানের জন্য সরকারি চাকরিতে কোটা সংরক্ষণের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে আন্দোলনের পর গ্রাম পুলিশরা প্রতিকার পেতে উচ্চ আদালতে আসে।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান