যথাযোগ্য মর্যাদা ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের পালনের মধ্য দিয়ে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে উদযাপিত হয়েছে গৌরবের বিজয় দিবস ২০১৯। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ব্যাপক কর্মসূচি পালন করেছে।
বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়েছে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে কোর্ট হিলে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে। একই সময়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্চাসেবী সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনসাধারণ এ সময় মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিনম্র চিত্তে শ্রদ্ধা জানায়।

দিবসের মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে। একই সময়ে সেখানে বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক কূচকাওয়াজ প্রদর্শন করা হয়। বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, প্যারেড পরিদর্শন ও কূচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। কূচকাওয়াজে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা আনসার দল, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বাংলাদেশ জেল কন্টিনজেন্ট দল, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, মেরিন ফিসারিজ, বিএনসিসি, নৌ-রোভার স্কাউটস দল, নৌ-গার্লস গাইড দল, নৌ-কাব স্কাউটস দল, জেলা স্কাউটস দল, মেট্রোপলিটন স্কাউটস দল, রোভার স্কাউটস দল, জেলা গার্লস গাইড দল, ফায়ার সার্ভিস স্বেচ্চাসেবক দল, যুব রেড ক্রিসেন্ট দলসহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, সরকারি শিশু পরিবার, অন্ধ, মূক ও বধির বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবুর রহমান, জেলা প্রশাসক মো. ইলিহাছ হোসেন, পুলিশ সুুপার নুরে আলম মিনাসহ উর্ধ্বতন কর্মকতাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ৭ মার্চের মহান স্বাধীনতার ডাক – বঙ্গবন্ধুর অমর বাণীতে সাড়া দিয়ে আপামর জনসাধারণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। স্বাধীনতা অর্জিত হওয়ার পর অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু কাজও শুরু করেছিলেন। কিন্তু ঘাতকদের নির্মম আঘাতে তা শেষ করতে পারেন নি।

বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করেছেন। এখন তিনি ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়ন ও ডেল্টা প্লান বাস্তবায়নের কাজ করে যাচ্ছেন। সকলের উচিত ন্যায়ভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করা। প্রত্যেকে নিজ অবস্থান থেকে স্ব দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে বলে এ সময় তিনি উল্লেখ করেন।
দিবসের অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল সকাল ১১ টায় বীরমুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, সিনেমা হলসমূহে বিনা টিকিটে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী কার্যক্রমে জনমত সৃষ্টির জন্য আলোচনা ও জাতির শান্তি সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়সমূহে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা। কর্মসূচির মধ্যে আরো ছিল হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধনিবাস, এতিমখানা, শিশুপরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা, নৌকাবাইচ, কাবাডি ও হাডুডু খেলার আয়োজন এবং ‘‘সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বজনীন ব্যবহার এবং মুক্তিযুদ্ধ’’ শীর্ষক আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















