১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কিশোরগঞ্জ মুক্ত দিবসে কুবিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কিশোরগঞ্জ জেলা স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ১৭ই ডিসেম্বর‘কিশোরগঞ্জ মুক্ত’ দিবস পালন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ই ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন এবং শহীদদের প্রতি স্মৃতিচারণ করা হয়। এতে অংশ নেয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কিশোরগঞ্জ জেলা স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

সংগঠনটির সভাপতি সজীব বণিকের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ও বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শামসুজ্জামান মিলকী,সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজল হোসাইন,আফজাল হোসেন,সাংগঠনিক সম্পাদক জয় সরকার,সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ম.রকিবুল হাসান রকিসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর মাস।সারাদেশের মানুষ বিজয়ের আনন্দ উপভোগ করলেও কিশোরগঞ্জের মানুষ বঞ্চিত ছিল সে আনন্দ থেকে। সেদিনও কিশোরগঞ্জের আকাশে উড়ছিল পাকিস্তানের পতাকা, হানাদার বাহিনীর দোসরদের সঙ্গে চলেছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পুরো সময় জুড়ে কিশোরগঞ্জ ছিল স্বাধীনতা বিরোধীদের শক্ত ঘাঁটি। ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পনের খবরে উজ্জীবিত মুক্তিযোদ্ধারা কিশোরগঞ্জকে মুক্ত করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। ওইদিন রাতে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দল কিশোরগঞ্জ শহরের চারপাশে সশস্ত্র অবস্থান নেন। পরদিন ১৭ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের পূর্ব দিক দিয়ে কমান্ডার কবীর উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে প্রথমে একদল মুক্তিযোদ্ধা কিশোরগঞ্জে প্রবেশ করেন। এর পরপরই অন্যান্য প্রবেশ পথ দিয়েও মুক্তিযোদ্ধারা দলে দলে শহরে প্রবেশ করতে থাকেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযানের খবরে মুক্তিকামী জনতাও উল্লাস করে স্বাধীনতার স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। সামান্য প্রতিরোধের পরই পাকিস্তানি বাহিনীর এদেশীয় দোসররা আত্মসমর্পন করে। শহরের শহীদী মসজিদ প্রাঙ্গনে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্রসমর্পণ করে হানাদার বাহিনীর দোসররা। এভাবেই বিজয় দিবসের একদিন পর ১৭ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের আকাশে উঠে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কিশোরগঞ্জ মুক্ত দিবসে কুবিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন

প্রকাশিত : ০৭:২৬:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কিশোরগঞ্জ জেলা স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ১৭ই ডিসেম্বর‘কিশোরগঞ্জ মুক্ত’ দিবস পালন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ই ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন এবং শহীদদের প্রতি স্মৃতিচারণ করা হয়। এতে অংশ নেয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কিশোরগঞ্জ জেলা স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

সংগঠনটির সভাপতি সজীব বণিকের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ও বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শামসুজ্জামান মিলকী,সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজল হোসাইন,আফজাল হোসেন,সাংগঠনিক সম্পাদক জয় সরকার,সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ম.রকিবুল হাসান রকিসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর মাস।সারাদেশের মানুষ বিজয়ের আনন্দ উপভোগ করলেও কিশোরগঞ্জের মানুষ বঞ্চিত ছিল সে আনন্দ থেকে। সেদিনও কিশোরগঞ্জের আকাশে উড়ছিল পাকিস্তানের পতাকা, হানাদার বাহিনীর দোসরদের সঙ্গে চলেছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পুরো সময় জুড়ে কিশোরগঞ্জ ছিল স্বাধীনতা বিরোধীদের শক্ত ঘাঁটি। ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পনের খবরে উজ্জীবিত মুক্তিযোদ্ধারা কিশোরগঞ্জকে মুক্ত করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। ওইদিন রাতে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দল কিশোরগঞ্জ শহরের চারপাশে সশস্ত্র অবস্থান নেন। পরদিন ১৭ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের পূর্ব দিক দিয়ে কমান্ডার কবীর উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে প্রথমে একদল মুক্তিযোদ্ধা কিশোরগঞ্জে প্রবেশ করেন। এর পরপরই অন্যান্য প্রবেশ পথ দিয়েও মুক্তিযোদ্ধারা দলে দলে শহরে প্রবেশ করতে থাকেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযানের খবরে মুক্তিকামী জনতাও উল্লাস করে স্বাধীনতার স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। সামান্য প্রতিরোধের পরই পাকিস্তানি বাহিনীর এদেশীয় দোসররা আত্মসমর্পন করে। শহরের শহীদী মসজিদ প্রাঙ্গনে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্রসমর্পণ করে হানাদার বাহিনীর দোসররা। এভাবেই বিজয় দিবসের একদিন পর ১৭ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের আকাশে উঠে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ