০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া সেই বৃদ্ধের চিকিৎসা চলছে

অভাবের সংসার। পরিবারে খাওয়ার লোক সাতজন। আয়ের লোক একজন।

‘নিজে তো কিছু করতে পারি না। প্রতিবন্ধী ছেলের আয় বসে খাই। তাও কোনোভাবে দিন চলছিল। বিপদ ঘটল দুর্ঘটনার পর।’ কথাগুলো বলছিলেন কুদ্দুস আলী (৮০)। যিনি টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা পায়ে লোহার রড বয়ে বেড়াচ্ছিলেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ বিষয়ে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। যা ময়মনসিংহ মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার নাসির উদ্দিন আহমেদের নজরেও পড়ে। তিনি কুদ্দুস আলীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।

কুদ্দুস আলীর বাড়ি নেত্রকোনা শহরের ছোটগাড়া এলাকায়। গত মে মাসের শেষ দিকে একটি দুর্ঘটনায় তার পায়ের হাড় ভেঙে যায়।

সে সময় ময়ময়নসিংহ মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা ভাঙা পায়ের ভেতরে ও বাইরে রড লাগিয়ে দেন। দুই মাস পর রডগুলো খুলতে বলেন। কিন্তু টাকার অভাবে তিনি আর হাসপাতালে যাননি। তাই পায়ে রড নিয়েই ছিলেন।

১৫ ডিসেম্বর সকালে কুদ্দুস আলীকে বাড়ি থেকে ময়মনসিংহ মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। ওই দিন বিকেলে হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মতিউর রহমানের তত্ত্বাবধানে কুদ্দুস আলীর পায়ের রডগুলো খোলা হয়। এখন তিনি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১৪ নম্বর বেডে আছেন।

কুদ্দুছ আলী বলেন, ‘আমার এক ছেলে এক মেয়ে। মেয়ে মনোয়ারাকে বিয়ে দিয়েছি। ছেলের চার সন্তান। ছেলে সাইফুল প্রতিবন্ধী। তার আয়ে আমাদের সংসার চলে। নেত্রকোনা শহরের পাশেই একটি ছোট দোকানে অসুস্থ শরীর নিয়ে কাপড় ইস্ত্রি করে সে।’

তিনি বলেন, ‘সমাজে অনেক ভালো মানুষ আছে। তা না হলে ইন্টারনেটে ছবি দেখে কেউ আমার চিকিৎসা করত না। যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন তাদের জন্য দোয়া করি।’

কুদ্দুছ আলীর পুত্রবধূ রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘আমরা অনেক গরিব। শুনি, সরকার গরিবদের অনেক সহযোগিতা করে। আমারা কোনো সুবিধা পাই না। কিছু সহযোগিতা পেলে কষ্ট কমে যেত।’ তবে বিনা টাকায় শ্বশুরের পায়ের চিকিৎসা হওয়ায় তিনি খুব খুশি।

ছেলে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার চার সন্তান ও বাবাকে নিয়ে সাত জনের সংসার। কারো কাছে হাত পাততে লজ্জা লাগে। তাই নিজের শারীরিক অক্ষমতা থাকা সত্বেও কাপড় ইস্ত্রি করে খুব কষ্টে সংসার চালাই।

চিকিৎসক মতিউর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালের পরিচালক স্যারের নির্দেশে কুদ্দুছ আলীর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন পায়ে রড থাকার কারণে পা সামান্য বেঁকে গেছে। চিকিৎসা চলছে। সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে রাখা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শুনেছি তার চিকিৎসার জন্য বেশ কয়েকজন টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। আমরা চিকিৎসার জন‌্য কোনো খরচ নিইনি, যাতে পরবর্তীতে টাকাগুলো তার কাজে লাগে।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া সেই বৃদ্ধের চিকিৎসা চলছে

প্রকাশিত : ০৯:৫৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯

অভাবের সংসার। পরিবারে খাওয়ার লোক সাতজন। আয়ের লোক একজন।

‘নিজে তো কিছু করতে পারি না। প্রতিবন্ধী ছেলের আয় বসে খাই। তাও কোনোভাবে দিন চলছিল। বিপদ ঘটল দুর্ঘটনার পর।’ কথাগুলো বলছিলেন কুদ্দুস আলী (৮০)। যিনি টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা পায়ে লোহার রড বয়ে বেড়াচ্ছিলেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ বিষয়ে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। যা ময়মনসিংহ মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার নাসির উদ্দিন আহমেদের নজরেও পড়ে। তিনি কুদ্দুস আলীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।

কুদ্দুস আলীর বাড়ি নেত্রকোনা শহরের ছোটগাড়া এলাকায়। গত মে মাসের শেষ দিকে একটি দুর্ঘটনায় তার পায়ের হাড় ভেঙে যায়।

সে সময় ময়ময়নসিংহ মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা ভাঙা পায়ের ভেতরে ও বাইরে রড লাগিয়ে দেন। দুই মাস পর রডগুলো খুলতে বলেন। কিন্তু টাকার অভাবে তিনি আর হাসপাতালে যাননি। তাই পায়ে রড নিয়েই ছিলেন।

১৫ ডিসেম্বর সকালে কুদ্দুস আলীকে বাড়ি থেকে ময়মনসিংহ মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। ওই দিন বিকেলে হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মতিউর রহমানের তত্ত্বাবধানে কুদ্দুস আলীর পায়ের রডগুলো খোলা হয়। এখন তিনি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১৪ নম্বর বেডে আছেন।

কুদ্দুছ আলী বলেন, ‘আমার এক ছেলে এক মেয়ে। মেয়ে মনোয়ারাকে বিয়ে দিয়েছি। ছেলের চার সন্তান। ছেলে সাইফুল প্রতিবন্ধী। তার আয়ে আমাদের সংসার চলে। নেত্রকোনা শহরের পাশেই একটি ছোট দোকানে অসুস্থ শরীর নিয়ে কাপড় ইস্ত্রি করে সে।’

তিনি বলেন, ‘সমাজে অনেক ভালো মানুষ আছে। তা না হলে ইন্টারনেটে ছবি দেখে কেউ আমার চিকিৎসা করত না। যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন তাদের জন্য দোয়া করি।’

কুদ্দুছ আলীর পুত্রবধূ রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘আমরা অনেক গরিব। শুনি, সরকার গরিবদের অনেক সহযোগিতা করে। আমারা কোনো সুবিধা পাই না। কিছু সহযোগিতা পেলে কষ্ট কমে যেত।’ তবে বিনা টাকায় শ্বশুরের পায়ের চিকিৎসা হওয়ায় তিনি খুব খুশি।

ছেলে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার চার সন্তান ও বাবাকে নিয়ে সাত জনের সংসার। কারো কাছে হাত পাততে লজ্জা লাগে। তাই নিজের শারীরিক অক্ষমতা থাকা সত্বেও কাপড় ইস্ত্রি করে খুব কষ্টে সংসার চালাই।

চিকিৎসক মতিউর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালের পরিচালক স্যারের নির্দেশে কুদ্দুছ আলীর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন পায়ে রড থাকার কারণে পা সামান্য বেঁকে গেছে। চিকিৎসা চলছে। সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে রাখা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শুনেছি তার চিকিৎসার জন্য বেশ কয়েকজন টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। আমরা চিকিৎসার জন‌্য কোনো খরচ নিইনি, যাতে পরবর্তীতে টাকাগুলো তার কাজে লাগে।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান