০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

কুড়িগ্রাম হানাদার মুক্ত দিবস আজ

কুড়িগ্রাম হানাদার মুক্ত দিবস আজ। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর, এই দিনে কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পাক সেনাদের হটিয়ে কুড়িগ্রামকে মুক্ত করে। স্বাধীনতা যুদ্ধের চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হলেও এ অঞ্চলে সেদিন উদিত হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরে সেই বিজয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন সেদিনের বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ৬ ও ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল গোটা কুড়িগ্রাম অঞ্চল। শুধুমাত্র ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন রৌমারী ছিল মুক্তাঞ্চল। এখানেই ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। ৬ নং সেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে একে একে পতন হতে থাকে পাক সেনাদের শক্ত ঘাঁটিগুলো। মুক্ত হয় ভুরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, চিলমারী, উলিপুরসহ বিভিন্ন এলাকা।

এরপর পাক সেনারা শক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলে কুড়িগ্রাম শহরে। হাই বাহিনী কুড়িগ্রাম শহরকে মুক্ত করতে ৫ ডিসেম্বর পাক সেনাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের পাশাপাশি মিত্র বাহিনীর বিমান হামলায় বেসামাল হয়ে পালিয়ে যায় পাক সেনারা। মুক্ত হয় কুড়িগ্রাম। মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাগত জানাতে হাজারো মুক্তিকামী মানুষ সেদিন মিলিত হয় বিজয় মিছিলে।

জোরালো আক্রমণে পাক হানাদার বাহিনীকে পিছু হটাতে পারার আনন্দ ও মুক্তিকামী মানুষের বিজয় উল্লাসের সে দিনটির কথা মনে পড়লে আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েন মুক্তিযোদ্ধারা।

মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক আব্দুল হাই সরকার এর বীরত্বপূর্ণ সাহসিকতায় তার নেতৃত্বে গঠিত হয় হাই বাহিনী। রনাঙ্গনে একাধিক সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে একে একে দখল করে নেয় পাক সেনার শক্ত ঘাটিগুলো।

৬ নং সাব সেক্টরের কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল হাই বীর প্রতীক জানান, ৫ ডিসেম্বর থেকে কুড়িগ্রাম মুক্ত করতে পাক হানাদার বাহিনীকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলি। মুক্তিযোদ্ধাদের সারাসি আক্রমণে হানাদার বাহিনী পিছু হটতে থাকে। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে প্রথমে শহরের ওভারহেট পানির ট্যাংকে প্রথম পতাকা উত্তোলন করি।

এদিকে কুড়িগ্রাম মুক্ত দিবস পালন করতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দলগুলো নানা কর্মসূচী গ্রহন করেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তশালী হলে জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী হবে: ফারজানা শারমিন পুতুল

কুড়িগ্রাম হানাদার মুক্ত দিবস আজ

প্রকাশিত : ০৩:০৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৭

কুড়িগ্রাম হানাদার মুক্ত দিবস আজ। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর, এই দিনে কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পাক সেনাদের হটিয়ে কুড়িগ্রামকে মুক্ত করে। স্বাধীনতা যুদ্ধের চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হলেও এ অঞ্চলে সেদিন উদিত হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরে সেই বিজয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন সেদিনের বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ৬ ও ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল গোটা কুড়িগ্রাম অঞ্চল। শুধুমাত্র ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন রৌমারী ছিল মুক্তাঞ্চল। এখানেই ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। ৬ নং সেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে একে একে পতন হতে থাকে পাক সেনাদের শক্ত ঘাঁটিগুলো। মুক্ত হয় ভুরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, চিলমারী, উলিপুরসহ বিভিন্ন এলাকা।

এরপর পাক সেনারা শক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলে কুড়িগ্রাম শহরে। হাই বাহিনী কুড়িগ্রাম শহরকে মুক্ত করতে ৫ ডিসেম্বর পাক সেনাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের পাশাপাশি মিত্র বাহিনীর বিমান হামলায় বেসামাল হয়ে পালিয়ে যায় পাক সেনারা। মুক্ত হয় কুড়িগ্রাম। মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাগত জানাতে হাজারো মুক্তিকামী মানুষ সেদিন মিলিত হয় বিজয় মিছিলে।

জোরালো আক্রমণে পাক হানাদার বাহিনীকে পিছু হটাতে পারার আনন্দ ও মুক্তিকামী মানুষের বিজয় উল্লাসের সে দিনটির কথা মনে পড়লে আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েন মুক্তিযোদ্ধারা।

মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক আব্দুল হাই সরকার এর বীরত্বপূর্ণ সাহসিকতায় তার নেতৃত্বে গঠিত হয় হাই বাহিনী। রনাঙ্গনে একাধিক সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে একে একে দখল করে নেয় পাক সেনার শক্ত ঘাটিগুলো।

৬ নং সাব সেক্টরের কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল হাই বীর প্রতীক জানান, ৫ ডিসেম্বর থেকে কুড়িগ্রাম মুক্ত করতে পাক হানাদার বাহিনীকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলি। মুক্তিযোদ্ধাদের সারাসি আক্রমণে হানাদার বাহিনী পিছু হটতে থাকে। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে প্রথমে শহরের ওভারহেট পানির ট্যাংকে প্রথম পতাকা উত্তোলন করি।

এদিকে কুড়িগ্রাম মুক্ত দিবস পালন করতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দলগুলো নানা কর্মসূচী গ্রহন করেছে।