নওগাঁ জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত মালামালসহ তিনজন ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ০২ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ৮টায় ইজি বাইক চালক শফিকুল ইসলাম (২৮) নওগাঁ সদর থানাধীন বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রী অপেক্ষায় ছিলেন। রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে ব্যাগ ও বস্তাসহ ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পত্নীতলা থানাধীন মধইল যাওয়ার কথা বলে তার ইজি বাইক ভাড়া নেয়।
পথিমধ্যে পত্নীতলা থানাধীন বেলঘরিয়া মোড় থেকে প্রায় ১০০ গজ পশ্চিমে পাকা রাস্তায় পৌঁছালে হঠাৎ দুইজন যাত্রী ইজি বাইক থেকে নেমে চালককে মারধর করে রাস্তার নিচে নামিয়ে দেয়। পরে মশারির রশি দিয়ে তার হাত-পা বেঁধে ও তোয়ালে দিয়ে মুখ চেপে ধরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একটি ব্যাটারি চালিত অটো চার্জার (ইজি বাইক) এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ছিনতাইকৃত ইজি বাইকের চেসিস নম্বর YDKD21091918, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম, বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে পত্নীতলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম দ্রুত আসামি গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের নির্দেশ দেন। তার দিকনির্দেশনায় এবং পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে একটি চৌকস পুলিশ টিম গঠন করে জেলার বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ পোরশা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় সরাসরি জড়িত তিনজন মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত একটি ব্যাটারি চালিত অটো চার্জার (ইজি বাইক) উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে নওগাঁ জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নওগাঁ জেলা পুলিশ জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা তৎপর রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।
ডিএস./



















