বাংলাদেশের জনসংখ্যার বয়সগত গঠন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। জন্মহার হ্রাস পাওয়া, গড় আয়ু বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা, উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির বিস্তার এবং নগরীকরণের ত্বরান্বিত প্রভাব বাংলাদেশকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে যেখানে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আগামী কয়েক দশকে বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত। জাতিসংঘের বিভিন্ন পূর্বাভাসে দেখা যায়, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটি বিশ্বের দ্রুততম বয়স্ক জনগোষ্ঠীবৃদ্ধির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে। এই পরিবর্তন শুধু জনমিতির হিসাব নয়, বরং সামাজিক কাঠামো, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শ্রমবাজার এবং জাতীয় উন্নয়ন কৌশলকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। এমন বাস্তবতায় একটি সমন্বিত, বৈজ্ঞানিক, মানবিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর নগর মডেল “প্রবীণবান্ধব স্মার্ট নগর” বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতের অন্যতম অপরিহার্য সমাধান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অভিন্ন প্রয়োজনভিত্তিক সেবার অভাব, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার অপ্রতুলতা, বয়স্ক-বান্ধব অবকাঠামোর অনুপস্থিতি এবং জটিল রোগের উচ্চহার বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। গবেষণালব্ধ তথ্য অনুযায়ী, ৬০ বছরের ঊর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই বহুবিধ রোগে আক্রান্ত হয়, যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রজনিত সমস্যা। পাশাপাশি বয়সজনিত মানসিক সমস্যাও ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে; বিশেষ করে ডিমেনশিয়া ও আলঝাইমার্স রোগে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ হাসপাতালগুলোতে এই জটিলতা ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা কাঠামো পর্যাপ্ত নয়। ফলে বয়স্করা প্রায়ই সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। “প্রবীণবান্ধব স্মার্ট নগর” এই ঘাটতি দূরীকরণে একটি বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে, যেখানে জেরিয়াট্রিক চিকিৎসা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা, পুনর্বাসন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্য নজরদারি একই পরিসরে সহজলভ্য হবে।
বাংলাদেশে পরিবার কাঠামো পরিবর্তিত হওয়ায় বয়স্কদের নির্ভরতার ধরনও বদলেছে। একসময় যৌথ পরিবার ছিল তাদের প্রধান আশ্রয়। কিন্তু ক্রমবর্ধমান নিউক্লিয়ার পরিবার, বিদেশমুখী শিক্ষা-চাকরির প্রবণতা, নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ এবং শহরমুখী জীবনধারার কারণে বয়স্কদের একাকিত্ব, অবহেলা ও সেবা-সংকট দিন দিনই বাড়ছে। যেহেতু তরুণ প্রজন্মের সময় ও সামর্থ্য সীমিত, তাই বয়স্কদের দৈনন্দিন পরিচর্যা অনেক সময় অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এক্ষেত্রে ‘দীর্ঘায়ূ নগরী’ মডেল বয়স্কদের জন্য শুধু নিরাপদ আবাস নয়; বরং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, আত্মমর্যাদা ও মানসিক প্রশান্তির পরিবেশ গঠন করবে। এখানে বয়স্করা কেবল বসবাসই করবেন না তারা অংশগ্রহণ করবেন, শিখবেন, অবদান রাখবেন এবং সমাজের সক্রিয় অংশ হিসেবে জীবনযাপন করবেন।
দীর্ঘায়ু জীবনের প্রশ্নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো “সুস্থ জীবনকাল” বজায় রাখা। গড় আয়ু বাড়লেও, মানুষের সুস্থ থাকার সময়সীমা একই হারে বাড়ছে না। স্বাস্থ্যগত, মানসিক ও সামাজিক সীমাবদ্ধতা বৃদ্ধ বয়সে বিপদ ডেকে আনে। তাই এই সময়কে স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ এবং মানসিকভাবে স্থিতিশীল করতে প্রয়োজন প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, যথাসময়ে চিকিৎসা, থেরাপি ও সেবা সমন্বয়ের। “প্রবীণবান্ধব স্মার্ট নগর” এই বাস্তবতায় একটি সুদূরপ্রসারী মডেল যেখানে এআই-ভিত্তিক মনিটরিং, টেলিমেডিসিন, স্মার্ট সেন্সর, পতন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, স্মৃতি-ভিত্তিক যত্নকেন্দ্র এবং হোম-বেসড কেয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
এই মডেলের নগর কাঠামো বয়স্কদের জীবনযাপনকে সহজ ও নিরাপদ করে। জিরো স্টেপ এন্ট্রি, হুইলচেয়ার-সাপোর্টেড ফুটপাত, স্লিপ-প্রুফ রাস্তা, র্যাম্প, সহজ-ব্যবহারযোগ্য লিফট, অটোমেটিক ট্রাফিক সংকেত এবং “পথচারী-অগ্রাধিকার নকশা” তাদের চলাচলকে স্বাধীন ও ঝুঁকিমুক্ত করে। শহরের এমন নকশা শুধু বয়স্কদের নয়, প্রতিবন্ধী, শিশু ও নারীদের জন্যও আরও বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করে। প্রতিটি আবাসন ইউনিটেই থাকবে নিরাপত্তা সেন্সর, স্মার্ট মেডিকেশন রিমাইন্ডার এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাযা একাকী বসবাসকারী বয়স্কদের জন্য বিশেষ সহায়ক।
স্বাস্থ্যসেবায় উন্নত মান নিশ্চিত করতে একটি ‘দীর্ঘায়ূ নগরী’ তে থাকবে জেরিয়াট্রিক সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল, স্মৃতি-যত্ন কেন্দ্র, পুনর্বাসন ইউনিট, ফিজিওথেরাপি ও অকুপেশনাল থেরাপি ব্লক, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা কেন্দ্র এবং আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার উদাহরণে দেখা গেছে, বয়স্কদের জন্য পৃথক স্বাস্থ্যপরিকাঠামো চিকিৎসা খরচ হ্রাস করে, দ্রুত সেবা নিশ্চিত করে এবং হাসপাতালভর্তি প্রবণতা কমিয়ে আনে। বাংলাদেশে যেখানে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেখানে বিশেষায়িত জেরিয়াট্রিক ব্যবস্থা জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই শহরের সামাজিক পরিবেশকে এমনভাবে গড়ে তোলা হয় যাতে বয়স্কদের একাকিত্ব কমে, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে এবং সমাজের সঙ্গে তাদের সংযোগ দৃঢ় হয়। গবেষণা বলছে, সামাজিক সংযোগ এবং সক্রিয় জীবনধারা সুস্থ জীবনকাল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। তাই ‘দীর্ঘায়ূ নগরী’তে থাকবে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লাব, লাইব্রেরি, মাইন্ডফুলনেস পার্ক, হার্বাল ও লংজেভিটি নিউট্রিশন ল্যাব, সিনিয়র জিমনেসিয়াম, যোগব্যায়াম কেন্দ্র, হাইড্রোথেরাপি পুল এবং লাইফলং লার্নিং প্ল্যাটফর্ম। এইসব ব্যবস্থা বয়স্কদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়।
অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবে বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে সম্পদে রূপান্তর করা একটি বড় সুযোগ। বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান ‘সেবামুখী অর্থনীতি’ র বাজার মূল্য প্রায় ১৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপীয় দেশগুলোতে দক্ষ কেয়ারগিভার, ফিজিওথেরাপিস্ট, জেরিয়াট্রিক নার্স, ডিমেনশিয়া কেয়ার বিশেষজ্ঞের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ যদি সঠিক প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেশন ও ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক ‘সেবামুখী অর্থনীতি’ তে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করতে পারবে। ‘দীর্ঘায়ূ নগরী’ তে একটি ‘কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণ ইস্টিটিউট, প্রবীণ পুনর্বাসন একাডেমি এবং প্রবীণবান্ধব প্রযুক্তি’ বিষয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র গড়ে উঠলে কেবল দেশীয় বাজার নয়, বৈশ্বিক বাজারেও দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানি সম্ভব হবে।
এ ধরনের শহর গঠনে নীতিগত সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “জাতীয় প্রবীণ নীতি” কে আধুনিকায়ন করে বয়স্ক-বান্ধব নগরায়ণ, পরিচর্যা কাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকনির্দেশনা সংযোজন করতে হবে। একইসঙ্গে একটি “বাংলাদেশ প্রবীণ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ” গঠন করে নীতি বাস্তবায়ন, গবেষণা, মাননির্ধারণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সমন্বয় করতে হবে। “দীর্ঘমেয়াদি সেবা ও যত্ন আইন” প্রণয়ন করলে ‘সহায়ক আবাসন, স্মৃতিবিভ্রাট নিরাময় যত্ন ইউনিট ও সেবা প্রদান’ এর মান নিশ্চিত হবে।
‘দীর্ঘায়ূ নগরী’ বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন অন্যতম বিবেচ্য বিষয়। সাভার, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ বা কুমিল্লা এই অঞ্চলগুলো অবকাঠামো, যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুনির্দিষ্ট সুবিধার কারণে সম্ভাবনাময়। একটি পূর্ণাঙ্গ ‘দীর্ঘায়ূ নগরী’ তে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা, পুনর্বাসন, সবুজ অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিকেন্দ্রিক প্রয়োজনীয় সমস্ত সুবিধা একত্রে গড়ে তোলা সম্ভব।
এই ধরনের বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়নে বহুমাত্রিক অর্থায়ন অপরিহার্য। সরকারী বেসরকারি অংশীদারিত্ব, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা, জীবনকাল বন্ড, প্রবীণ সঞ্চয় স্কিম এবং উদ্ভাবনী বিনিয়োগ তহবিল এ ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউ এইচ ও), এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) র অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সহায়তা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে।
বাংলাদেশে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর দ্রুত বৃদ্ধি শুধু জনসংখ্যাগত পরিবর্তনই নয়, বরং সামগ্রিক সামাজিক কাঠামো, অর্থনীতি এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য এক অভূতপূর্ব রূপান্তরের সংকেত। এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হলে কেবল হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র বাড়ালেই হবে না বরং এমন একটি সমন্বিত নগর কাঠামো প্রয়োজন, যেখানে বসবাস, চিকিৎসা, চলাফেরা, সামাজিক যোগাযোগ এবং মানসিক সুস্থতা সবকিছু একই পরিবেশে নিশ্চিত করা যায়। “প্রবীণবান্ধব স্মার্ট নগর” সেই দৃষ্টিভঙ্গিরই বাস্তব রূপ।
বর্তমান স্বাস্থ্যব্যবস্থা মূলত রোগ-নির্ভর চিকিৎসায় কেন্দ্রীভূত, যেখানে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার গুরুত্ব এখনও সীমিত। কিন্তু বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতিরোধমূলক সেবা, দৈনন্দিন যত্ন, মানসিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং পুষ্টি-পরামর্শ অত্যন্ত জরুরি। ‘দীর্ঘায়ূ নগরী’ তে এই সবগুলো সেবা একটি সুসংহত ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, পারকিনসনস, ডিমেনশিয়া এসবের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করলে চিকিৎসার মান উন্নত হবে এবং চিকিৎসা ব্যয়ও দীর্ঘমেয়াদে হ্রাস পাবে।
এছাড়া, বয়স্কদের জন্য সামাজিক অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। ‘দীর্ঘায়ূ নগরী’ শুধুমাত্র চিকিৎসা বা আবাসনের জায়গা নয়; এটি হবে এমন একটি সমাজ যেখানে বয়স্করা তাদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা ব্যবহার করে সমাজে অবদান রাখতে পারবেন। মেন্টরিং কেন্দ্র, জ্যেষ্ঠ উদ্যোক্তা ক্লাব, প্রজন্ম-আন্তর্বিনিময় কেন্দ্র এসব প্ল্যাটফর্ম বয়স্কদের জীবনের প্রতি নতুন আস্থা জন্মাবে এবং একাকিত্বজনিত বিষণ্নতা কমাবে। তরুণ প্রজন্মও এভাবে তাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী শিক্ষার সুযোগ পাবে। এ ধরনের শহর পরিবেশগতভাবে টেকসই হবে, যেখানে কম-কার্বন পরিবহন, হাঁটাপথে অগ্রাধিকার, সবুজ পার্ক, নীরব অঞ্চল এবং মানসিক স্বাস্থ্যবান্ধব স্থাপত্য ব্যবহার করা হবে। জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি, এবং বয়স্করা এই হুমকিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। সুতরাং ‘দীর্ঘায়ূ নগরী’ এর অবকাঠামো হবে বন্যা-সহনশীল, গরম-সহনশীল এবং তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা সম্পন্ন।
“প্রবীণবান্ধব স্মার্ট নগর” শুধু একটি নগরায়ণ প্রকল্প নয়; এটি একটি মানবিক উদ্যোগ, যা বয়সের ভারে ন্যুব্জ মানুষদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সুস্থ জীবনের নিশ্চয়তা দিবে। এটি সামাজিক মূল্যবোধকে পুনরুদ্ধার করে, যেখানে বয়স্করা কোনো বোঝা নয় তারা জ্ঞানের ধারক, অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার, প্রজন্মের পথপ্রদর্শক। একটি ‘দীর্ঘায়ূ নগরী’ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন একটি সমাজ রচনার প্রতিশ্রুতি বহন করে যেখানে বয়স কোনো দুর্বলতা নয় বরং জীবনবোধ, সৃজনশীলতা, অভিজ্ঞতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল অধ্যায়। সর্বোপরি, বাংলাদেশ যদি বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে একটি বোঝা নয় বরং মূল্যবান মানবসম্পদ হিসেবে দেখতে চায়, তবে “প্রবীণবান্ধব স্মার্ট নগর” হবে সেই রূপান্তরের কেন্দ্রস্থল যেখানে স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, মানবিক মূল্যবোধ এবং উন্নত নগরায়ণ একসাথে মিলিত হয়ে একটি ভবিষ্যৎ-উপযোগী সমাজ তৈরি করবে।
লেখক: মোঃ আবদুর রহমান মিঞা, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা),ঢাকা
ডিএস./

























