০২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জে অধ্যক্ষের কোদালের আঘাতে দুই শিক্ষার্থী আহত

সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার মঈনুল হক ডিগ্রি কলেজর অধ্যক্ষ কোদালের আঘাতে ২ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে।
শনিবার সকালে সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নে এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতাকার্য হওয়া সদর উপজেলায় সাখাইতি গ্রামের মৃত মহর উদ্দিনের মেয়ে দ্বাদশ শ্রেনীর শিক্ষার্থী তাছলিমা খানম (১৯) এবং মাগরুা গ্রামের প্রবাসী মইনউদ্দিনের মেয়ে নাইমা বেগম(১৮)কে কোদাল দিয়ে আঘাত করেন কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

জানাযায়, আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার জন্য মঈনুল হক ডিগ্রি কলেজে টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। সেই পরীক্ষায় প্রায় ৬০ জনের মতো শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। এতে করে ওই ৬০ জন শিক্ষার্থীকে কলেজের অধ্যক্ষ ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারবে না বলে জানালে শিক্ষার্থীরা কলেজের অধ্যক্ষের কাছে অকৃতকার্যের বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ করে দেওয়ার অনুরোধ করলে কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান মাঠে থাকা কোদাল ও শাবল দিয়ে দুই শিক্ষার্থী পিঠিয়ে গুরুতর আহত করেন।

এসময় তাদের সাথে থাকার আরো ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের ভয়ে কলেজ প্রাঙ্গন থেকে চলে যায়। পরে আহত দুই শিক্ষার্থীকে প্রথমে স্থানীয় একটি ফার্মেসীতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে ফার্মেসীর কর্তব্যরতরা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। পরে আহত শিক্ষার্থী দুইজন সুনামগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের হাসপাতালে ভর্তি করান।

এব্যাপারে আহত শিক্ষার্থী নাইমা বেগম বলেন, আমরা এইচএসসি পরীক্ষার জন্য কলেজ থেকে একটি টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হয়। সেই পরীক্ষায় আমাদের ভালো ফলাফল আসার কথা থাকলেও অধ্যক্ষ আমাদের ফেল করে দিয়েছেন। এজন্য আজকে আমরা অধ্যক্ষের কাছে আমাদের খাতা দেখার জন্য অনুরোধ করলে এবং অকৃতকার্যের বিষয়টি বিবেচনার জন্য বললে স্যার মাঠে কাজ করা অবস্থায় শাবল ও কোদাল দিয়ে আমাকে ও আমার এক বান্ধবী কোমরে ও পায়ে খুব মারেন। আমরা এর শাস্তি চাই।

মইনুল হক ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর শিক্ষার্থী সাখেরা আক্তার বলেন, আমরা অধ্যক্ষ স্যারকে টেস্ট পরীক্ষার অকৃকার্যের বিষয়টি দেখার জন্য ও আমাদের খাতা দেখা দেখানো অনুরোধ করলে তিনি আমাদের উপর ক্ষেপে যান। এসময় তিনি মাঠ করার অবস্থায় ছিলেন সেজন্য মাঠে রাখা শাবল ও কোদাল দিয়ে তাছলিমা ও নাইমাকে মারধর করেন। শিক্ষক আমাদের বাবা মতো আমরাতো বাবা কাছে অনুরোধ করতেই পারি কিন্তু তিনি আমাদের সাথে যে আচরণ করেছেন আমরা তার বিচার চাই।

সুনামগঞ্জ সদর হাসাপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কামরুল হাসান বলেন, নাইমার বাম পায়ের হাটুতে এবং ডান থাইয়ে রক্ত জমে গিয়েছে এবং তাছলিমার ডান থাই একটু ফেটে গিয়েছে। আমরা তাদের চিকিৎসা শুরু করেছি এবং তাদের ভর্তি রেখেছি।

মঈনুল হক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সাথে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তুলার প্রশ্নই আসে না।

তারা এইচএসসি পরীক্ষার জন্য অনুষ্ঠিত হওয়া টেস্ট পরীক্ষায় কেউ ৩ বিষয়ে বা ৪ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এখন আমাদের বিধান রয়েছে ৩-৪ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারবে না। তারা আমার কাছে অনুরোধ করেছিলো বিষয়টা দেখার জন্য এখন আমি নিয়মের বাহিরে যেতে পারি না।

তাই তারা মোহনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে নিয়ে আসে আমার কাছে এবং বিষয়টি বিবেচনার জন্য বললে আমরা বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ৫০-৫০ মার্কে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। সেখানেও একজন শিক্ষার্থী ছাড়া বাকিরা ১২-১৩ পেয়েছে।

সেজন্য আজকে তারা আমার কাছে আবার আসলে আমি বলি এখন আমার কিছু করার নেই। সেই সময় সাব্বির নামে এক শিক্ষার্থী আমার গায়ে হাত তুলে এবং সেই সময় আমি মাঠে কাজ করা অবস্থায় থাকায় মাঠের কর্মচারীরা তাদের বাধা দেয়। কিন্তু আমি কারো গায়ে হাত তুলি নাই।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সুনামগঞ্জে অধ্যক্ষের কোদালের আঘাতে দুই শিক্ষার্থী আহত

প্রকাশিত : ০৫:১১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯

সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার মঈনুল হক ডিগ্রি কলেজর অধ্যক্ষ কোদালের আঘাতে ২ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে।
শনিবার সকালে সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নে এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতাকার্য হওয়া সদর উপজেলায় সাখাইতি গ্রামের মৃত মহর উদ্দিনের মেয়ে দ্বাদশ শ্রেনীর শিক্ষার্থী তাছলিমা খানম (১৯) এবং মাগরুা গ্রামের প্রবাসী মইনউদ্দিনের মেয়ে নাইমা বেগম(১৮)কে কোদাল দিয়ে আঘাত করেন কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

জানাযায়, আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার জন্য মঈনুল হক ডিগ্রি কলেজে টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। সেই পরীক্ষায় প্রায় ৬০ জনের মতো শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। এতে করে ওই ৬০ জন শিক্ষার্থীকে কলেজের অধ্যক্ষ ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারবে না বলে জানালে শিক্ষার্থীরা কলেজের অধ্যক্ষের কাছে অকৃতকার্যের বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ করে দেওয়ার অনুরোধ করলে কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান মাঠে থাকা কোদাল ও শাবল দিয়ে দুই শিক্ষার্থী পিঠিয়ে গুরুতর আহত করেন।

এসময় তাদের সাথে থাকার আরো ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের ভয়ে কলেজ প্রাঙ্গন থেকে চলে যায়। পরে আহত দুই শিক্ষার্থীকে প্রথমে স্থানীয় একটি ফার্মেসীতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে ফার্মেসীর কর্তব্যরতরা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। পরে আহত শিক্ষার্থী দুইজন সুনামগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের হাসপাতালে ভর্তি করান।

এব্যাপারে আহত শিক্ষার্থী নাইমা বেগম বলেন, আমরা এইচএসসি পরীক্ষার জন্য কলেজ থেকে একটি টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হয়। সেই পরীক্ষায় আমাদের ভালো ফলাফল আসার কথা থাকলেও অধ্যক্ষ আমাদের ফেল করে দিয়েছেন। এজন্য আজকে আমরা অধ্যক্ষের কাছে আমাদের খাতা দেখার জন্য অনুরোধ করলে এবং অকৃতকার্যের বিষয়টি বিবেচনার জন্য বললে স্যার মাঠে কাজ করা অবস্থায় শাবল ও কোদাল দিয়ে আমাকে ও আমার এক বান্ধবী কোমরে ও পায়ে খুব মারেন। আমরা এর শাস্তি চাই।

মইনুল হক ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর শিক্ষার্থী সাখেরা আক্তার বলেন, আমরা অধ্যক্ষ স্যারকে টেস্ট পরীক্ষার অকৃকার্যের বিষয়টি দেখার জন্য ও আমাদের খাতা দেখা দেখানো অনুরোধ করলে তিনি আমাদের উপর ক্ষেপে যান। এসময় তিনি মাঠ করার অবস্থায় ছিলেন সেজন্য মাঠে রাখা শাবল ও কোদাল দিয়ে তাছলিমা ও নাইমাকে মারধর করেন। শিক্ষক আমাদের বাবা মতো আমরাতো বাবা কাছে অনুরোধ করতেই পারি কিন্তু তিনি আমাদের সাথে যে আচরণ করেছেন আমরা তার বিচার চাই।

সুনামগঞ্জ সদর হাসাপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কামরুল হাসান বলেন, নাইমার বাম পায়ের হাটুতে এবং ডান থাইয়ে রক্ত জমে গিয়েছে এবং তাছলিমার ডান থাই একটু ফেটে গিয়েছে। আমরা তাদের চিকিৎসা শুরু করেছি এবং তাদের ভর্তি রেখেছি।

মঈনুল হক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সাথে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তুলার প্রশ্নই আসে না।

তারা এইচএসসি পরীক্ষার জন্য অনুষ্ঠিত হওয়া টেস্ট পরীক্ষায় কেউ ৩ বিষয়ে বা ৪ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এখন আমাদের বিধান রয়েছে ৩-৪ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারবে না। তারা আমার কাছে অনুরোধ করেছিলো বিষয়টা দেখার জন্য এখন আমি নিয়মের বাহিরে যেতে পারি না।

তাই তারা মোহনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে নিয়ে আসে আমার কাছে এবং বিষয়টি বিবেচনার জন্য বললে আমরা বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ৫০-৫০ মার্কে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। সেখানেও একজন শিক্ষার্থী ছাড়া বাকিরা ১২-১৩ পেয়েছে।

সেজন্য আজকে তারা আমার কাছে আবার আসলে আমি বলি এখন আমার কিছু করার নেই। সেই সময় সাব্বির নামে এক শিক্ষার্থী আমার গায়ে হাত তুলে এবং সেই সময় আমি মাঠে কাজ করা অবস্থায় থাকায় মাঠের কর্মচারীরা তাদের বাধা দেয়। কিন্তু আমি কারো গায়ে হাত তুলি নাই।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান