সেনাপ্রধানের পদ থেকে অবসরের একদিন আগে ভারতের প্রথম প্রতিরক্ষা প্রধান (চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জেনারেল বিপিন রাওয়াত। সোমবার বর্তমান সেনাপ্রধানকে প্রতিরক্ষা প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে মোদি সরকার। এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর তিন সশস্ত্র বাহিনীর কাজে সমন্বয়ের লক্ষ্যে এই পদ সৃষ্টির ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
মঙ্গলবার জেনারেল বিপিন রাওয়াত বলেন, প্রতিরক্ষা প্রধানের পদে আসীন হওয়ার পরই তিনি নিজের কৌশলের পরিকল্পনা করবেন।
সকালে দিল্লিতে ‘ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল’-এ শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে বিপিন রাওয়াত বলেন, ‘প্রতিরক্ষী বাহিনীর প্রধানের পদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। এখনও পর্যন্ত সেনাপ্রধান হিসেবে আমার দায়িত্বের প্রতি মনোযোগী ছিলাম। এবার আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। আমি বসে ভবিষ্যতের জন্য নতুন কৌশলের পরিকল্পনা করব।’
চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ হিসাবে জেনারেল রাওয়াত দেশের যাবতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক ইস্যু নিয়ে সরাসরি যোগাযোগ রাখবেন প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে। আর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরা নিয়মিত ভাবে রিপোর্ট দেবেন দেশের প্রথম চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল রাওয়াতকে।
ইতোমধ্যেই চিফ অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান পদে কাজ শুরু করেছেন তিনি। নতুন পদে নিয়োগ পাওয়ায় স্বশস্ত্র বাহিনীর সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সম্পর্কিত নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।
নতুন পদে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য জেনারেল রাওয়তকে ইতিমধ্যেই অভিনন্দন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও মালদ্বীপ।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধের পরেই বাহিনীর দেখাশোনার জন্য প্রতিরক্ষাবাহিনীর প্রধান পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। সেবার ভারতে ঢুকে পড়েছিল পাকিস্তানী সেনারা, তারপরেই নিরাপত্তার ঘাটতি চিহ্নিত করতে একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং কার্গিলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে বলা হয়।
ওই সুপারিশের পর এবারের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রতিরক্ষাবাহিনীর প্রধান পদের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার পর থেকেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎপরতা শুরু হয়। অবশেষে ২৪ ডিসেম্বর এই পদাধিকারীর দায়িত্ব-কর্তব্য নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। এতে বলা হয়েছিল, সেনার যে কোনও বাহিনীর ‘ফোর স্টার’ ক্যাটেগরির অফিসারকে নিয়োগ করা হবে। এরপরই জেনারেল বিপিন রাওয়াতকে নিয়োগ দেওয়া হলো।
বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান


























