০৪:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

টেকনাফ সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফার ২৭ দিন পর মৃত্যু

মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত টেকনাফের সেই শিশু হুজাইফা আফনান (১২) দীর্ঘ ২৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হুজাইফার চাচা শওকত আলী বলেন, সকালে চিকিৎসকরা হুজাইফাকে মৃত ঘোষণা করেছেন, মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে। আপনারা সবাই আমার ভাতিজির জন্য দোয়া করবেন।

হুজাইফার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে হাসপাতালটির ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু বলেন, চিকিৎসার এক পর্যায়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তাকে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। শুরুতে সে নিজে নিজে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারলেও পরে তার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার আবার হুজাইফাকে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। এর মধ্যেই তার রক্তে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিকগুলো কাজ করছিল না, অর্থাৎ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স দেখা দেয়। সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে গেলে হুজাইফা শকে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য ওষুধেও সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।

গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় মিয়ানমারের ওপার থেকে আসা গুলিতে গুরুতর আহত হয় স্থানীয় জসিম উদ্দিনের মেয়ে হুজাইফা আফনান।

তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় পরে অবস্থার অবনতি হলে একই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর ১৩ জানুয়ারি বিকেলে মাথায় বিদ্ধ গুলিটি অপসারণ করা সম্ভব না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হুজাইফাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ সেসময় গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, হুজাইফার অস্ত্রোপচার করা হলেও ঝুঁকি থাকায় মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি তবে মস্তিষ্কের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হয়।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টার শেল ও বোমা বিস্ফোরণ বেড়েছে, মংডু টাউনশিপের আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থানে সরকারি জান্তা বাহিনী বিমান হামলা জোরদার করেছে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, ওপারের গোলাগুলির প্রভাব পড়ছে এপারের বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদে।

টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় গোলার শব্দে ঘরবাড়ি কেঁপে উঠছে এছাড়া ছোঁড়া গুলি এসে পড়ছে লোকজনের বসতঘর, চিংড়িঘের ও নাফ নদীতে। হুজাইফার মৃত্যুতে সীমান্তে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শিশুটির মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পৃথক বার্তায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী গভীর শোক ও হুজাইফার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্তে নিরস্ত্র মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

 

ডিএস./

 

জনপ্রিয়

হিন্দুদের নিরাপত্তা কোনো দল নয়, রাষ্ট্র দেবে: ড. আতিক মুজাহিদ

টেকনাফ সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফার ২৭ দিন পর মৃত্যু

প্রকাশিত : ০১:৫৩:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত টেকনাফের সেই শিশু হুজাইফা আফনান (১২) দীর্ঘ ২৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হুজাইফার চাচা শওকত আলী বলেন, সকালে চিকিৎসকরা হুজাইফাকে মৃত ঘোষণা করেছেন, মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে। আপনারা সবাই আমার ভাতিজির জন্য দোয়া করবেন।

হুজাইফার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে হাসপাতালটির ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু বলেন, চিকিৎসার এক পর্যায়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তাকে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। শুরুতে সে নিজে নিজে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারলেও পরে তার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার আবার হুজাইফাকে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। এর মধ্যেই তার রক্তে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিকগুলো কাজ করছিল না, অর্থাৎ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স দেখা দেয়। সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে গেলে হুজাইফা শকে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য ওষুধেও সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।

গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় মিয়ানমারের ওপার থেকে আসা গুলিতে গুরুতর আহত হয় স্থানীয় জসিম উদ্দিনের মেয়ে হুজাইফা আফনান।

তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় পরে অবস্থার অবনতি হলে একই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর ১৩ জানুয়ারি বিকেলে মাথায় বিদ্ধ গুলিটি অপসারণ করা সম্ভব না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হুজাইফাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ সেসময় গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, হুজাইফার অস্ত্রোপচার করা হলেও ঝুঁকি থাকায় মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি তবে মস্তিষ্কের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হয়।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টার শেল ও বোমা বিস্ফোরণ বেড়েছে, মংডু টাউনশিপের আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থানে সরকারি জান্তা বাহিনী বিমান হামলা জোরদার করেছে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, ওপারের গোলাগুলির প্রভাব পড়ছে এপারের বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদে।

টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় গোলার শব্দে ঘরবাড়ি কেঁপে উঠছে এছাড়া ছোঁড়া গুলি এসে পড়ছে লোকজনের বসতঘর, চিংড়িঘের ও নাফ নদীতে। হুজাইফার মৃত্যুতে সীমান্তে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শিশুটির মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পৃথক বার্তায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী গভীর শোক ও হুজাইফার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্তে নিরস্ত্র মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

 

ডিএস./