আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার কথা বলেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তাঁর ভাষায়, নির্বাচন আদৌ হবে কি না, হলে তা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে কি না-এই মৌলিক প্রশ্নগুলোর কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনো নেই। এমন বাস্তবতায় দল কতটি আসন পাবে বা তিনি নিজে নির্বাচিত হবেন কি না-সে বিষয়ে আগাম কোনো মন্তব্য করাও অসম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।
গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জিএম কাদের বলেন,আগামীকাল কী হবে, সেটাই বুঝতে পারছি না। দেশের মানুষ গভীর সংশয়ের মধ্যে আছে-নির্বাচন আদৌ হবে কি না।ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে পারবে কি না, ভোট গণনা হবে কি না-সবই অনিশ্চিত।”
নির্বাচন ব্যবস্থার বর্তমান কাঠামো নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন জাপা চেয়ারম্যান। তাঁর দাবি, সরকার পরিচালনা করছে সরকারি দল, আবার তারাই নির্বাচন আয়োজন করছে-ইতিহাস প্রমাণ করে, এমন ব্যবস্থায় কখনোই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।
জি এম কাদের বলেন, “অতীতের প্রায় সব নির্বাচন দেশি-বিদেশি মহলে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। জনগণও সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।এই কারণেই একসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়েছিল।কিন্তু এখন সেই ব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে আবার দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে।”
নির্বাচনী ফলাফল প্রসঙ্গে জিএম কাদের বলেন, “এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আমি কীভাবে বলব আমরা কয়টি আসন পাব? এমনকি আমি নিজে জিতব কি না, আমাকে জিততে দেওয়া হবে কি না-সবই অনিশ্চিত। ভোটের দিন পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।”
তবে নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে আশাবাদী তিনি।“আমার জনসমর্থন রয়েছে অনেক। কিন্তু সেই সমর্থকরা ভোট দিতে পারবেন কি না-এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।”
হ্যাঁ–না গণভোট ‘ম্যাটিকুলাসলি ডিজাইনড ষড়যন্ত্র’
হ্যাঁ–না গণভোট নিয়েও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন জিএম কাদের।তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষ বিষয়টি পুরোপুরি না বুঝতেই এই গণভোট আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এটা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন নয়। এটি একটি ‘ম্যাটিকুলাসলি ডিজাইন্ট পরিকল্পনা। শুরু থেকেই স্বীকার করা হয়েছে-এটি জনগণের আন্দোলন নয়। বরং জনগণকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।”
জাপা চেয়ারম্যানের দাবি, হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে জোর করে একটি বিশেষ শাসন ব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা চলছে, যা দেশকে উগ্রপন্থা ও সাম্প্রদায়িকতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জিএম কাদের। তিনি বলেন,একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।বলা হচ্ছে স্বাধীনতার আগে নাকি ভালো ছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা অপ্রয়োজনীয় ছিল-এমন বার্তা দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা গণহত্যা চালিয়েছে, নারী নির্যাতন করেছে, লাখো মানুষ হত্যা করেছে-তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। ভারতের সহায়তাকেও ভুল হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এটি জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”
জিএম কাদের বলেন, “সরকারি দল যখন নিজেরাই নির্বাচক হয়, তখন সেই নির্বাচন কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ইতিহাস থেকেই আমরা শিক্ষা পেয়েছি। তাই জাতীয় পার্টির অবস্থান পরিষ্কার-নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া দেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।”
ডিএস./



















