১২:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কভারবিহীন তারে ঝলসে যাচ্ছে বানর, দেখেও চুপ পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ

বনের ভেতরে কভারবিহীন তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ায় বিদ্যুতস্পর্শে বানরের মুখ, হাত,পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যাচ্ছে। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় মধুপুর বনাঞ্চলঘেঁষা সন্তোষপুর বনাঞ্চলে গত এক সপ্তাহে অন্তত ৮-১০টি বানর বিদ্যুতস্পর্শে আহত হয়েছে। এ বনে প্রায় তিন শতাধিক বানর রয়েছে।

ফুলবাড়িয়ার সন্তোষপুর বনাঞ্চলে এক সময় হরিণ, ভাল্লুক, মেছোবাঘ, বাঘডাস, হনুমান, বানর, শিয়াল, সজারু ও খরগোশসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ ছিল।

বন বিভাগের নীতিমালা অনুসরণ না করে কভারবিহীন তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক বন্য প্রাণী।
অন্যদিকে সুযোগ বুঝে বনদস্যুরা গাছ কেটে বন উজাড় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বানর বংশগত ভাবে দলবদ্ধ হয়ে থাকে। কোন বানর বিদ্যুতায়িত হলে দল বেঁধে তাকে রক্ষার চেষ্টা চালায় দলের অন্য বানরগুলো। ফলে একসঙ্গে একাধিক বানর আহত হয়। এতে করে ফুলবাড়িয়ার সন্তোষপুর বনাঞ্চলে হুমকির মুখে পড়েছে বানরসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী।

বানর, বান্দর বা বাঁদর স্তন্যপায়ী প্রাণী। মূলত সিমিয়ান প্রাইমেট গণের তিনটি দলের মধ্যে দুইটির সদস্যরা সাধারণ ভাবে বানর নামে পরিচিত। এই দলগুলো হলো, নতুন পৃথিবীর বানর, পুরাতন পৃথিবীর বানর এবং নরবানর। অধিকাংশ প্রজাতিই গাছে বাস করে। নিরামিষভোজী হলেও এদের বাসস্থান ও খাদ্যে পর্যাপ্ত বৈচিত্র্য আছে। বাংলাদেশে ১০ প্রজাতির প্রাইমেটের মধ্যে রয়েছে ৫ প্রজাতির বানর। পৃথিবীতে বর্তমানে বিদ্যমান ১৯ প্রজাতির বানরের মধ্যে এক প্রজাতি ছাড়া অন্য সবগুলি ছড়িয়ে আছে এশিয়ায় আফগানিস্তান থেকে জাপান, ফিলিপাইন থেকে বোর্নিও পর্যন্ত।

খোজ খবর নিয়ে জানা যায়, সন্তোষপুর শালবনে বানরের খাবার নিয়ে বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকান বসে। খাবারের দোকানগুলো ঘিরে থাকে প্রায় দেড় শতাধিক বানর। বানর দেখতে আসা দর্শনার্থী দোকানগুলো থেকে কলা, মুড়ি, বাদাম, চানাচুর, বিস্কুটসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার কিনে দেয়।

বন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ একজন দোকানদার বলেন, গড়ে প্রতিদিন একেক জন দোকানদার পাঁচ-সাতশ টাকার বানরদের খাবার বিক্রি করেন। তার মধ্যে মুড়ি, চানাচুর, কলা, বাদাম বিক্রি হয় আড়াইশ থেকে তিনশ টাকা। তবে দর্শনার্থীদের দেওয়া খাবার বানরদের চাহিদা অনুযায়ী পরিমাণে অনেক কম। তাছাড়া কিছুদিন আগে বনের ভেতর দিয়ে কভারবিহীন তারে বিদ্যুৎ নেয়ায় ৮ থেকে ১০টি বানর ঝলসানো অবস্থায় দেখা যায়। খাবার নিয়ে বনের ভিতরে ডুকলে দেখা যায়, অন্তত ছোট-বড় পাঁচটি বানর ঝলসানো অবস্থায় রয়েছে । একটি বানরের হাত, আরেকটির পা পুড়ে ঝুলে রয়েছে। বানরগুলোর মুখ, হাত, পা ও শরীরের ক্ষত স্থানে পচন ধরেছে। সন্তোষপুর বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জোড়ালো ভূমিকা পালন করবে এমটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

ফুলবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) অনিতা বর্ধন বলেন, বানরগুলো তারে জড়িয়ে আহত হচ্ছে বলে শুনেছি। বিট কর্মকর্তাও কভারিং তার দিয়ে সংযোগের জন্য আবেদন করেছেন। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সন্তোষপুর বিট কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান খান বলেন, বনের বানরসহ অন্যান্য বন্য প্রাণী তারে জড়িয়ে ঝলসে যাওয়ার পর বিষয়টি লিখিতভাবে তাদেরকে বলেছি। কিন্তু এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ তাদের নিতে দেখিনি।

এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর সন্তোষপুর বনাঞ্চলের আশপাশে ও বিট অফিসে পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য মোসলেম উদ্দিন। ওই সময় তিনি পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের বন এলাকার ভেতরে সিলভারের তারের পরিবর্তে দ্রুত কভারিং কেবল দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন টানার নির্দেশ প্রদান করেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

অমর একুশের ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও পুষ্প অর্পন করেছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন

কভারবিহীন তারে ঝলসে যাচ্ছে বানর, দেখেও চুপ পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ

প্রকাশিত : ০৪:১১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জানুয়ারী ২০২০

বনের ভেতরে কভারবিহীন তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ায় বিদ্যুতস্পর্শে বানরের মুখ, হাত,পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যাচ্ছে। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় মধুপুর বনাঞ্চলঘেঁষা সন্তোষপুর বনাঞ্চলে গত এক সপ্তাহে অন্তত ৮-১০টি বানর বিদ্যুতস্পর্শে আহত হয়েছে। এ বনে প্রায় তিন শতাধিক বানর রয়েছে।

ফুলবাড়িয়ার সন্তোষপুর বনাঞ্চলে এক সময় হরিণ, ভাল্লুক, মেছোবাঘ, বাঘডাস, হনুমান, বানর, শিয়াল, সজারু ও খরগোশসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ ছিল।

বন বিভাগের নীতিমালা অনুসরণ না করে কভারবিহীন তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক বন্য প্রাণী।
অন্যদিকে সুযোগ বুঝে বনদস্যুরা গাছ কেটে বন উজাড় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বানর বংশগত ভাবে দলবদ্ধ হয়ে থাকে। কোন বানর বিদ্যুতায়িত হলে দল বেঁধে তাকে রক্ষার চেষ্টা চালায় দলের অন্য বানরগুলো। ফলে একসঙ্গে একাধিক বানর আহত হয়। এতে করে ফুলবাড়িয়ার সন্তোষপুর বনাঞ্চলে হুমকির মুখে পড়েছে বানরসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী।

বানর, বান্দর বা বাঁদর স্তন্যপায়ী প্রাণী। মূলত সিমিয়ান প্রাইমেট গণের তিনটি দলের মধ্যে দুইটির সদস্যরা সাধারণ ভাবে বানর নামে পরিচিত। এই দলগুলো হলো, নতুন পৃথিবীর বানর, পুরাতন পৃথিবীর বানর এবং নরবানর। অধিকাংশ প্রজাতিই গাছে বাস করে। নিরামিষভোজী হলেও এদের বাসস্থান ও খাদ্যে পর্যাপ্ত বৈচিত্র্য আছে। বাংলাদেশে ১০ প্রজাতির প্রাইমেটের মধ্যে রয়েছে ৫ প্রজাতির বানর। পৃথিবীতে বর্তমানে বিদ্যমান ১৯ প্রজাতির বানরের মধ্যে এক প্রজাতি ছাড়া অন্য সবগুলি ছড়িয়ে আছে এশিয়ায় আফগানিস্তান থেকে জাপান, ফিলিপাইন থেকে বোর্নিও পর্যন্ত।

খোজ খবর নিয়ে জানা যায়, সন্তোষপুর শালবনে বানরের খাবার নিয়ে বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকান বসে। খাবারের দোকানগুলো ঘিরে থাকে প্রায় দেড় শতাধিক বানর। বানর দেখতে আসা দর্শনার্থী দোকানগুলো থেকে কলা, মুড়ি, বাদাম, চানাচুর, বিস্কুটসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার কিনে দেয়।

বন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ একজন দোকানদার বলেন, গড়ে প্রতিদিন একেক জন দোকানদার পাঁচ-সাতশ টাকার বানরদের খাবার বিক্রি করেন। তার মধ্যে মুড়ি, চানাচুর, কলা, বাদাম বিক্রি হয় আড়াইশ থেকে তিনশ টাকা। তবে দর্শনার্থীদের দেওয়া খাবার বানরদের চাহিদা অনুযায়ী পরিমাণে অনেক কম। তাছাড়া কিছুদিন আগে বনের ভেতর দিয়ে কভারবিহীন তারে বিদ্যুৎ নেয়ায় ৮ থেকে ১০টি বানর ঝলসানো অবস্থায় দেখা যায়। খাবার নিয়ে বনের ভিতরে ডুকলে দেখা যায়, অন্তত ছোট-বড় পাঁচটি বানর ঝলসানো অবস্থায় রয়েছে । একটি বানরের হাত, আরেকটির পা পুড়ে ঝুলে রয়েছে। বানরগুলোর মুখ, হাত, পা ও শরীরের ক্ষত স্থানে পচন ধরেছে। সন্তোষপুর বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জোড়ালো ভূমিকা পালন করবে এমটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

ফুলবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) অনিতা বর্ধন বলেন, বানরগুলো তারে জড়িয়ে আহত হচ্ছে বলে শুনেছি। বিট কর্মকর্তাও কভারিং তার দিয়ে সংযোগের জন্য আবেদন করেছেন। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সন্তোষপুর বিট কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান খান বলেন, বনের বানরসহ অন্যান্য বন্য প্রাণী তারে জড়িয়ে ঝলসে যাওয়ার পর বিষয়টি লিখিতভাবে তাদেরকে বলেছি। কিন্তু এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ তাদের নিতে দেখিনি।

এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর সন্তোষপুর বনাঞ্চলের আশপাশে ও বিট অফিসে পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য মোসলেম উদ্দিন। ওই সময় তিনি পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের বন এলাকার ভেতরে সিলভারের তারের পরিবর্তে দ্রুত কভারিং কেবল দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন টানার নির্দেশ প্রদান করেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ