চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদী তীরবর্তী দিয়াড় ও বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠ এখন ছেয়ে গেছে হলুদে-হলুদে। কোনো কোনো মাঠের যে দিকে চোখ যায়, শুধু সরিষা আর সরিষা। চাষি ও কৃষি বিভাগ বলছে জেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ সরিষা আবাদ হয়েছে।
পদ্মা নদী তীরবর্তী দিয়াড় অঞ্চল। এই অঞ্চলের মাটি দোঁআশ প্রকৃতির। অন্যদিকে বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি রুক্ষ প্রকৃতির। তাই দুই অঞ্চলের দুই ধরণের ফসলের আবাদ হয়ে থাকে। কিন্তু ব্যতিক্রমী হচ্ছে সরিষা। দুই অঞ্চলেই এবার রেকর্ড পরিমাণ সরিষার আবাদ হয়েছে। গগণবিস্তৃত মাঠে যে দিকে চোখ যায় শুধু সরিষা আর সরিষা।
চাষিরা বলছেন, একে তো সরিষা চাষে খরচ ও পরিশ্রম দুটোই কম হয়, অন্যদিকে এবার বন্যা দেরিতে হওয়ায়, পানি নেমে যাওয়ার পর অন্য ফসল চাষের আর সময় ছিলো না। তাই চাষিরা সরিষা চাষের দিকেই ঝুঁকেছেন।
সদর উপজেলার মরাপাগলা এলাকার সরিষা চাষি মাসুদ রানা, আজম আলী জানান, একবিঘা জমিতে সরিষা চাষ করতে খরচ হয় সর্বোচ্চ ১৫০০ টাকা। শুধুমাত্র বীজ ও আর সামান্য সার খরচ দিয়েই সরিষা আবাদ করা যায়। কিন্তু ফলন পাওয়া যায় বিঘাপ্রতি ৬ থেকে ৭ মণ, যার বাজারমূল্য ১১ হাজার থেকে সাড়ে ১২ হাজার টাকা।
আর সরিষা বাড়িতে রেখে দিয়ে পরবর্তীতে বিক্রি করলেও কোনো সমস্যা হয় না। তাই অন্য ফসলের চেয়ে সরিষা চাষে বেশি আগ্রহী তারা।
শিবিরেরহাট এলাকার চাষি সেলিম হাসান জানান, এখন পর্যন্ত সরিষা অবস্থা ভালোই। সরিষা গাছ ফুলে ফুলে ছেঁয়ে গেছে। আর কিছুদিন পরেই ফুল থেকে দানা বের হবে। কুয়াশার কারণে ফলনের একটি ক্ষতি হয় কিন্তু আশা করছি এবার বাম্পার ফলন হবে সরিষার।
কৃষি বিভাগ বলছে- এ বছর ১৩ হাজার ৯৫৮ হেক্টর জরিতে সরিষা চাষের লক্ষমাত্রার বিপরীতে চাষাবাদ হয়েছে ১৫ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দেড় হাজার হেক্টর বেশি।
সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে নাচোল উপজেলায়, ৫ হাজার হেক্টর জমিতে। এছাড়া সদর উপজেলায় ৪ হাজার ৪৮৬ হেক্টর, শিবগঞ্জে ৩১২০ হেক্টর, গোমস্তাপুরে ২ হাজার ১৬০ হেক্টর ও ভোলাহাটে ৭৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করেই এ বছর সরিষা চাষ বেড়ে গেছে। এটা একটা রেকর্ড। আমাদের বড় একটা সাফল্যও। আর সরকারও চাচ্ছে বিদেশ থেকে তেল জাতীয় ও মশলা জাতীয় খাবার আমদানি না করতে। এ জন্য দেশীয় সরিষা চাষ সম্প্রসারিত করতে আমরা তৎপর।
বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান




















