০৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

সাংবাদিক কামরুজ্জামান চৌধুরী’র মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা

সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সুনামগঞ্জ প্রতিদিনের উপদেষ্টা সম্পাদক কামরুজ্জামান চৌধুরী সাফি’র প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। শুক্রবার  (১০ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের শহীদ জগৎ জ্যোতি পাঠাগারে সুনামগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পংকজ কান্তি দে’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক একেএম মুহিমের পরিচালনায় স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট অ্যাড. হোসেন তওফিক, শহীদ জগৎ জ্যোতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সালেহ আহমদ, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা কেয়া, সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু, দৈনিক সুনামগঞ্জ প্রতিদিনের সম্পাদক আহমদুজ্জামান চৌধুরী হাসান, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সেলিম আহমেদ, সাংবাদিক খলিল রহমান প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জের সাংবাদিক অঙ্গনের এক আলোকিত নাম কামরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি তার লেখনির মাধ্যমে সবসময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। সাহসিকতার মধ্য দিয়ে কাজ করে গিয়েছেন সবসময়। সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি থাকাকালে তিনি সাংবাদিকদের দাবি আদায়ে লড়েছেন সবসময়।

কোথাও সাংবাদিকরা নির্যাতিত হলে সবার আগে কামরুজ্জামান চৌধুরী সবার আগে ছুটে আসতেন।

সুনামগঞ্জের সাংবাদিক অঙ্গনে তার অবদান অনেক। সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের যে ভবন রয়েছে সেটি কামরজ্জামান চৌধুরী’র অবদান এবং যা অস্বীকার করার মতো নয়।

যখন প্রেসক্লাব বিভক্ত হয়ে যায় তখন আমরা মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীকে নিয়ে কামরুজ্জামান চৌধুরী অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করেন। তিনি শুধু সাংবাদিকই নন তিনি আমাদের সাংবাদিকতার অভিভাবক ছিলেন।

কামরুজ্জামান চৌধুরী সাফি ১৯৪৯ সালের ২৫ জুন সুনামগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহন করেন। লেখাপড়া শেষে তিনি প্রথমে ইউনাইটেড ব্যাংক পরবর্তীতে জনতা ব্যাংকে চাকুরী করেন। একপর্যায়ে চাকুরীতে ইস্তফা দিয়ে শুরু করেন স্বাধীন পেশা সাংবাদিকতা।

সুনামগঞ্জের সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃত আপন মামা সাংবাদিক আব্দুল হাইয়ের হাত ধরে তার সাংবাদিকতার হাতেখড়ি। তিনি দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার সুনামগঞ্জ মহকূমা প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতায় পদার্পন করেন।

পরে দৈনিক আজাদী পত্রিকার মহকূমা প্রতিনিধি, দৈনিক দেশ, দৈনিক যুগভেরী ও দৈনিক খবর পত্রিকার সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি পদে দায়িত্ব পালন করেন। জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন।

সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের বর্তমান ভবন প্রতিষ্ঠায় তার নিরলস ভূমিকা ছিল প্রসংশনীয়। কামরুজ্জামান চৌধুরী জীবদ্ধশায় জেলার প্রথম জনপ্রিয় ও পাঠক সমাদৃত পত্রিকা সাপ্তাহিক সুনামগঞ্জ বার্তা পত্রিকার সম্পাদক প্রকাশক ছিলেন। সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন ৫ বার।

তার সুপারিশে জেলা সদরে অনেক সংবাদকর্মীরা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় চাকুরী পান। সাংবাদিকদের সফল নেতা ও অভিভাবক হিসেবে তিনি বটবৃক্ষের মতো সকলকে ছায়া দিয়ে রাখতেন। গেল বছরের ৯ জানুয়ারি রাত ১০টায় ঢাকার পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিক কামরুজ্জামান চৌধুরী’র মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা

প্রকাশিত : ০৬:১২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জানুয়ারী ২০২০

সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সুনামগঞ্জ প্রতিদিনের উপদেষ্টা সম্পাদক কামরুজ্জামান চৌধুরী সাফি’র প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। শুক্রবার  (১০ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের শহীদ জগৎ জ্যোতি পাঠাগারে সুনামগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পংকজ কান্তি দে’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক একেএম মুহিমের পরিচালনায় স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট অ্যাড. হোসেন তওফিক, শহীদ জগৎ জ্যোতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সালেহ আহমদ, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা কেয়া, সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু, দৈনিক সুনামগঞ্জ প্রতিদিনের সম্পাদক আহমদুজ্জামান চৌধুরী হাসান, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সেলিম আহমেদ, সাংবাদিক খলিল রহমান প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জের সাংবাদিক অঙ্গনের এক আলোকিত নাম কামরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি তার লেখনির মাধ্যমে সবসময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। সাহসিকতার মধ্য দিয়ে কাজ করে গিয়েছেন সবসময়। সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি থাকাকালে তিনি সাংবাদিকদের দাবি আদায়ে লড়েছেন সবসময়।

কোথাও সাংবাদিকরা নির্যাতিত হলে সবার আগে কামরুজ্জামান চৌধুরী সবার আগে ছুটে আসতেন।

সুনামগঞ্জের সাংবাদিক অঙ্গনে তার অবদান অনেক। সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের যে ভবন রয়েছে সেটি কামরজ্জামান চৌধুরী’র অবদান এবং যা অস্বীকার করার মতো নয়।

যখন প্রেসক্লাব বিভক্ত হয়ে যায় তখন আমরা মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীকে নিয়ে কামরুজ্জামান চৌধুরী অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করেন। তিনি শুধু সাংবাদিকই নন তিনি আমাদের সাংবাদিকতার অভিভাবক ছিলেন।

কামরুজ্জামান চৌধুরী সাফি ১৯৪৯ সালের ২৫ জুন সুনামগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহন করেন। লেখাপড়া শেষে তিনি প্রথমে ইউনাইটেড ব্যাংক পরবর্তীতে জনতা ব্যাংকে চাকুরী করেন। একপর্যায়ে চাকুরীতে ইস্তফা দিয়ে শুরু করেন স্বাধীন পেশা সাংবাদিকতা।

সুনামগঞ্জের সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃত আপন মামা সাংবাদিক আব্দুল হাইয়ের হাত ধরে তার সাংবাদিকতার হাতেখড়ি। তিনি দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার সুনামগঞ্জ মহকূমা প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতায় পদার্পন করেন।

পরে দৈনিক আজাদী পত্রিকার মহকূমা প্রতিনিধি, দৈনিক দেশ, দৈনিক যুগভেরী ও দৈনিক খবর পত্রিকার সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি পদে দায়িত্ব পালন করেন। জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন।

সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের বর্তমান ভবন প্রতিষ্ঠায় তার নিরলস ভূমিকা ছিল প্রসংশনীয়। কামরুজ্জামান চৌধুরী জীবদ্ধশায় জেলার প্রথম জনপ্রিয় ও পাঠক সমাদৃত পত্রিকা সাপ্তাহিক সুনামগঞ্জ বার্তা পত্রিকার সম্পাদক প্রকাশক ছিলেন। সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন ৫ বার।

তার সুপারিশে জেলা সদরে অনেক সংবাদকর্মীরা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় চাকুরী পান। সাংবাদিকদের সফল নেতা ও অভিভাবক হিসেবে তিনি বটবৃক্ষের মতো সকলকে ছায়া দিয়ে রাখতেন। গেল বছরের ৯ জানুয়ারি রাত ১০টায় ঢাকার পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান