জেরুজালেম নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণায় ইসলামি প্রতিক্রিয়ায় সমন্বয়কের ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান।
কিন্তু বিভক্ত হয়ে পড়া মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একটি অর্থপূর্ণ প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চতার সৃষ্টি হয়েছে।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে তুর্কি নেতা বরাবরই সরব ভূমিকা পালন করে আসছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এরদোগান।
জেরুজালেমের অবস্থাকে তিনি মুসলিমদের জন্য ‘রেড লাইন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। শহরটির পূর্ব অংশকে ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যত রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখে থাকে।
ট্রাম্পের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের এরদোগান ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এর জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন। সংস্থাটির বর্তমান চেয়ারম্যান তিনি।
বিষয়টি নিয়ে মুসলিম মিত্র ও অ-ইসলামিক নেতাদের সঙ্গে এরদোগানের কথার বিষয় উল্লেখ করে ব্রিটিশ আর্মি সেন্টার ফর হিস্টোরিয়াল এনালাইসিস অ্যান্ড কনফ্লিক্স রিসার্চের সহকর্মী জিয়া মেরাল বলেন, তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াকে একত্র করতে চাইছেন।
তিনি এএফপিকে বলেন, পরবর্তীতে তুরস্ক কী করতে পারে তা স্পষ্টতই পরিষ্কার এবং এর প্রতিক্রিয়ায় এরদোগান ও তুরস্ক ঝুঁকিতে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার গ্রিস সফরের উদ্দেশ্যে রাজধানী আঙ্কারা ত্যাগ করার পূর্বে এসেবোগা বিমানবন্দরে এরদোগান বলেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যকে আগুনের গোলায় মধ্যে ঠেলে দেবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন,হে ট্রাম্প, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আপনি কী করতে চাচ্ছেন? এই ধরনের পদক্ষেপ এই অঞ্চলকে একটি আগুনের গোলার মধ্যে নিক্ষেপ করবে।
গত কয়েক দশকের মার্কিন নীতির প্রথা ভঙ্গ করে বুধবার হোয়াইট হাউজের কূটনৈতিক অভ্যর্থনা কক্ষে দেয়া ভাষণে জেরুজালেমকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন ট্রাম্প।
একইসঙ্গে তিনি তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাসকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণায় ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠতে পারে।
বুশ ও ক্লিনটন প্রশাসনের সাবেক উপদেষ্টা এবং উড্রো উইলসন সেন্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যারন ডেবিড মিলার বলেন, জেরুজালেমের স্থিতাবস্থায় কোনো আঘাত করলে এটির জ্বলে ওঠার প্রবণতা রয়েছে।
এরদোগান বলেন, রাজনীতিবিদদের উচিত শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, আগুন জ্বালিয়ে দেয়া নয়।
জেরুজালেমকে খ্রিস্টানদের জন্যও একটি পবিত্র স্থান উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি নিয়ে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানান।
এর আগে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন এরদোগান। তিনি জেরুজিালেমকে মুসলিমদের জন্য একটি রেডলাইন বলে তিনি সর্তক করে দিয়েছিলেন।
এদিকে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ নিয়ে করণীয় নির্ধারণে আগামী ১৩ ডিসেম্বর ওআইসির জরুরি বৈঠক ডেকেছে তুরস্ক।
তুর্কি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বুধবার বলেছেন, জেরুজালেম ইস্যুতে স্পর্শকাতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় আগামী ১৩ ডিসেম্বর ওআইসি’র সদস্য দেশগুলোর নেতারা ইস্তাম্বুলে বৈঠকে বসবেন।
মুসলিম দেশগুলো জেরুজালেমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের ঘোষণা দিতে পারেন বলে জানা গেছে।

























