০৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীসহ সারাদেশে আজও ঝরছে বৃষ্টি

ছবিটি আজ সকালে বাংলামোটর থেকে তোলা

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশে কোথাও দেখা নাই সূর্য্যের। এরই মধ্যে আবার শনিবার সূর্য্যের লুকোচুরির সাথে যোগ হলো বৃষ্টির নাচন। আর এ বৃষ্টির নাচন রবিবারেও থামেনিই। আর এ বৃষ্টির নাচনেই ধীরে ধীরে ভিজছে সারাদেশ।

ডিসেম্বর শুরু হলে হিমালয় পর্বতমালা হয়ে শীতের বাতাস দেশের উত্তরাঞ্চলে চলে আসে। পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও হয়ে শীত ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। ঋতুচক্রের নিয়মে এটাই প্রতিবছর ঘটে। কিন্তু এ বছর শীতের ওই বাতাস ঠেকিয়ে দিচ্ছে বঙ্গোপসাগর। তিন দিন আগে সেখানে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি শীতের ওই বাতাস তো আটকে দিচ্ছেই, সেই সঙ্গে সারা দেশে বৃষ্টি ঝরাচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস হচ্ছে, রবিবার এবং সোমবারও এই বৃষ্টি চলবে। আজ দেশের অধিকাংশ স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিরও সম্ভাবনা আছে। বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপটি সক্রিয় থাকায় আজও দেশের চারটি বন্দর ও কক্সবাজার উপকূলকে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে তারা। নিম্নচাপের কারণে ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বাতাস বয়ে যেতে পারে। ফলে বঙ্গোপসাগরের নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

rainn

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। তবে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হতে পারে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বৃষ্টিপাত বেশি থাকতে পারে। সন্ধ্যার দিকে বৃষ্টিপাত কমে আসতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মিজানুর রহমান বলেন, রবিবার সকাল নাগাদ বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ভারতের ওডিশা ও অন্ধ্র উপকূলে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এতে বিকেল থেকে বৃষ্টিপাত কমে সোমবারের মধ্যে আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। তবে সোমবারও দেশের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে পরিমাণ কম হলেও শনিবার সারা দিন রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীতে সারা দিনে মোট বৃষ্টি হয়েছে মাত্র চার মিলিমিটার। তবে রাজধানীবাসীর ভোগান্তি মোটেই কম ছিল না। সামান্য বৃষ্টিতে রাজধানীর পথ-অলিগলি কাদায় মাখামাখি হয়ে গেছে। শনিবার বন্ধের দিন সত্ত্বেও অনেকে নানা কাজে বাড়ির বাইরে বের হয়ে পড়েছিলেন রাস্তায় জমে থাকা পানি ও কাদার বিড়ম্বনায়।

দেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দুর্ভোগ ছিল আরও বেশি। সেন্ট মার্টিন দ্বীপে প্রায় ৬০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন। টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে টেকনাফেও সেন্ট মার্টিনের প্রায় ৩৫০ বাসিন্দা আটকা পড়েছেন। একই অবস্থা রয়েছে কক্সবাজার ও কুয়াকাটা এলাকায়ও। পর্যটকেরা বাইরে বের হতে পারেননি।

শনিবার দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে মোংলায়, ৩৪ মিলিমিটার। সবচেয়ে কম তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। কক্সবাজার ও টেকনাফে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে শনিবার।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

রাজধানীসহ সারাদেশে আজও ঝরছে বৃষ্টি

প্রকাশিত : ০৯:৩৮:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশে কোথাও দেখা নাই সূর্য্যের। এরই মধ্যে আবার শনিবার সূর্য্যের লুকোচুরির সাথে যোগ হলো বৃষ্টির নাচন। আর এ বৃষ্টির নাচন রবিবারেও থামেনিই। আর এ বৃষ্টির নাচনেই ধীরে ধীরে ভিজছে সারাদেশ।

ডিসেম্বর শুরু হলে হিমালয় পর্বতমালা হয়ে শীতের বাতাস দেশের উত্তরাঞ্চলে চলে আসে। পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও হয়ে শীত ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। ঋতুচক্রের নিয়মে এটাই প্রতিবছর ঘটে। কিন্তু এ বছর শীতের ওই বাতাস ঠেকিয়ে দিচ্ছে বঙ্গোপসাগর। তিন দিন আগে সেখানে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি শীতের ওই বাতাস তো আটকে দিচ্ছেই, সেই সঙ্গে সারা দেশে বৃষ্টি ঝরাচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস হচ্ছে, রবিবার এবং সোমবারও এই বৃষ্টি চলবে। আজ দেশের অধিকাংশ স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিরও সম্ভাবনা আছে। বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপটি সক্রিয় থাকায় আজও দেশের চারটি বন্দর ও কক্সবাজার উপকূলকে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে তারা। নিম্নচাপের কারণে ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বাতাস বয়ে যেতে পারে। ফলে বঙ্গোপসাগরের নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

rainn

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। তবে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হতে পারে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বৃষ্টিপাত বেশি থাকতে পারে। সন্ধ্যার দিকে বৃষ্টিপাত কমে আসতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মিজানুর রহমান বলেন, রবিবার সকাল নাগাদ বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ভারতের ওডিশা ও অন্ধ্র উপকূলে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এতে বিকেল থেকে বৃষ্টিপাত কমে সোমবারের মধ্যে আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। তবে সোমবারও দেশের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে পরিমাণ কম হলেও শনিবার সারা দিন রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীতে সারা দিনে মোট বৃষ্টি হয়েছে মাত্র চার মিলিমিটার। তবে রাজধানীবাসীর ভোগান্তি মোটেই কম ছিল না। সামান্য বৃষ্টিতে রাজধানীর পথ-অলিগলি কাদায় মাখামাখি হয়ে গেছে। শনিবার বন্ধের দিন সত্ত্বেও অনেকে নানা কাজে বাড়ির বাইরে বের হয়ে পড়েছিলেন রাস্তায় জমে থাকা পানি ও কাদার বিড়ম্বনায়।

দেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দুর্ভোগ ছিল আরও বেশি। সেন্ট মার্টিন দ্বীপে প্রায় ৬০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন। টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে টেকনাফেও সেন্ট মার্টিনের প্রায় ৩৫০ বাসিন্দা আটকা পড়েছেন। একই অবস্থা রয়েছে কক্সবাজার ও কুয়াকাটা এলাকায়ও। পর্যটকেরা বাইরে বের হতে পারেননি।

শনিবার দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে মোংলায়, ৩৪ মিলিমিটার। সবচেয়ে কম তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। কক্সবাজার ও টেকনাফে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে শনিবার।