১০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

আরব বিশ্বের নিস্ক্রিয় অবস্থান নিয়ে জনগণ কি ভাবছে?

 

ট্রাম্প কর্তৃক জেরুজালেম বা আল-কুদসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে মুসলিম বিশ্ব। কিন্তু মুসলিম দেশগুলো বিশেষ করে আরব দেশগুলোর শাসকরা ট্রাম্পের ঘোষণার ব্যাপারে শক্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন না।

আরব দেশগুলোর বিক্ষোভকারীরা শুধুমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন না সেইসঙ্গে আরব বিশ্বের আপোষকামী শাসকরাও জনগণের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য সমালোচনা ও নিন্দার মুখে পড়েছেন।

বাস্তবতা হচ্ছে জেরুজালেম আল-কুদসকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মহাবিতর্কিত ঘোষণার পর আরব বিশ্ব স্পষ্টভাবে দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। যেসব আরব শাসক ইসরাইলের সঙ্গে আপোষ করতে চান সেসব দেশের জনগণ মোটেই আপোষকামী নন। এ কারণে এসব শাসকের সঙ্গে জনগণের বিশাল দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর যখন আরব দেশগুলোর জনগণ প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তখন তাদের শাসকরা খুবই সামান্য প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। এর ফলে সৌদি আরবের মতো আপোষকামী দেশগুলোর শাসকরা জনগণের পাশাপাশি অনেক আরব সরকারের পক্ষ থেকেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন। জর্দানের রাজধানী আম্মানে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর পাশাপাশি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের বিরুদ্ধেও স্লোগান দিয়েছেন। এ ছাড়া, গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের পাশাপাশি সৌদি রাজা সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মাদের ছবিতে আগুন দিয়েছেন।

শনিবার মিশরের রাজধানী কায়রোয় আরব লীগের বৈঠক থেকে ট্রাম্পের ঘোষণার ব্যাপারে যে নিস্ক্রিয় অবস্থান ঘোষণা করা হয় তার সমালোচনা করেছেন কোনো কোনো আরব দেশেরই সরকার। ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম জাফারি আরব লীগের অবস্থানকে অত্যন্ত দুর্বল এবং জেরুজালেম যে হুমকির সম্মুখীন তার তুলনায় নগণ্য বলে মন্তব্য করেছেন। লেবানন সরকারও এক বিবৃতিতে আরব লীগের বৈঠকের ঘোষণাপত্রকে অনুপযুক্ত বলে অভিহিত করেছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করার আগে থেকেই জানতেন, এই ঘোষণা দেয়ার পরও আরব শাসকরা তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না; বরং মুসলিম বিশ্বের নেতা সাজা শাসকগোষ্ঠী এই ঘোষণায় মনে মনে খুশিও হবেন।

আরব শাসকদের যখন অবস্থা এই, তখন ফিলিস্তিনি জনগণ ইসরাইল বিরোধী চতুর্থ ইন্তিফাদা গণআন্দোলন শুরু করেছেন যার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে আরব বিশ্বের আপামর জনসাধারণ। এ সম্পর্কে মার্কিন নিউজ চ্যানেল সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আরব দেশগুলোর জনগণ তাদের শাসকদের আচরণে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে গেছে। এ কারণে তারা তাদের দেশগুলোতে এমন নতুন শাসক চায় যারা তাদের মনের কথা বুঝবেন এবং আল-কুদস’সহ দখলীকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড মুক্ত করার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নেবেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তশালী হলে জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী হবে: ফারজানা শারমিন পুতুল

আরব বিশ্বের নিস্ক্রিয় অবস্থান নিয়ে জনগণ কি ভাবছে?

প্রকাশিত : ০৬:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭

 

ট্রাম্প কর্তৃক জেরুজালেম বা আল-কুদসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে মুসলিম বিশ্ব। কিন্তু মুসলিম দেশগুলো বিশেষ করে আরব দেশগুলোর শাসকরা ট্রাম্পের ঘোষণার ব্যাপারে শক্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন না।

আরব দেশগুলোর বিক্ষোভকারীরা শুধুমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন না সেইসঙ্গে আরব বিশ্বের আপোষকামী শাসকরাও জনগণের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য সমালোচনা ও নিন্দার মুখে পড়েছেন।

বাস্তবতা হচ্ছে জেরুজালেম আল-কুদসকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মহাবিতর্কিত ঘোষণার পর আরব বিশ্ব স্পষ্টভাবে দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। যেসব আরব শাসক ইসরাইলের সঙ্গে আপোষ করতে চান সেসব দেশের জনগণ মোটেই আপোষকামী নন। এ কারণে এসব শাসকের সঙ্গে জনগণের বিশাল দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর যখন আরব দেশগুলোর জনগণ প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তখন তাদের শাসকরা খুবই সামান্য প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। এর ফলে সৌদি আরবের মতো আপোষকামী দেশগুলোর শাসকরা জনগণের পাশাপাশি অনেক আরব সরকারের পক্ষ থেকেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন। জর্দানের রাজধানী আম্মানে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর পাশাপাশি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের বিরুদ্ধেও স্লোগান দিয়েছেন। এ ছাড়া, গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের পাশাপাশি সৌদি রাজা সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মাদের ছবিতে আগুন দিয়েছেন।

শনিবার মিশরের রাজধানী কায়রোয় আরব লীগের বৈঠক থেকে ট্রাম্পের ঘোষণার ব্যাপারে যে নিস্ক্রিয় অবস্থান ঘোষণা করা হয় তার সমালোচনা করেছেন কোনো কোনো আরব দেশেরই সরকার। ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম জাফারি আরব লীগের অবস্থানকে অত্যন্ত দুর্বল এবং জেরুজালেম যে হুমকির সম্মুখীন তার তুলনায় নগণ্য বলে মন্তব্য করেছেন। লেবানন সরকারও এক বিবৃতিতে আরব লীগের বৈঠকের ঘোষণাপত্রকে অনুপযুক্ত বলে অভিহিত করেছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করার আগে থেকেই জানতেন, এই ঘোষণা দেয়ার পরও আরব শাসকরা তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না; বরং মুসলিম বিশ্বের নেতা সাজা শাসকগোষ্ঠী এই ঘোষণায় মনে মনে খুশিও হবেন।

আরব শাসকদের যখন অবস্থা এই, তখন ফিলিস্তিনি জনগণ ইসরাইল বিরোধী চতুর্থ ইন্তিফাদা গণআন্দোলন শুরু করেছেন যার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে আরব বিশ্বের আপামর জনসাধারণ। এ সম্পর্কে মার্কিন নিউজ চ্যানেল সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আরব দেশগুলোর জনগণ তাদের শাসকদের আচরণে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে গেছে। এ কারণে তারা তাদের দেশগুলোতে এমন নতুন শাসক চায় যারা তাদের মনের কথা বুঝবেন এবং আল-কুদস’সহ দখলীকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড মুক্ত করার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নেবেন।