০৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ পথে গ্যাস যাচ্ছে বাসা-বাড়ি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বাকাইল গ্রামে আকাশ পথে বাসা-বাড়ি ও কারখানায় যাচ্ছে গ্যাস। বিপজ্জনক উপায়ে গ্যাসের পাইপ গাছে ঝুলিয়ে দেয়া হচ্ছে গ্যাস সংযোগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির নলকূপ ও জমি থেকে ওঠা এসব গ্যাস প্লাস্টিকের পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাইপগুলো গাছের উপর দিয়ে বিভিন্ন কারখানা-বাড়িতে নেয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রামের একটি সিন্ডিকেট অবৈধ গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ টাকা। কয়েকবার অভিযান চালিয়ে অসংখ্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও সিন্ডিকেটের হোতাদের ধরতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সিরাজুল ইসলাম ও বিল্লাল আহমেদের নেতৃত্বে বাকাইল গ্রামে ১৫-১৬টি চুন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠেছে। এসব ফ্যাক্টরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে নলকূপ-জমি থেকে ওঠা পকেট গ্যাস।

এছাড়া নূর মিয়া, মাঈনুদ্দিনসহ ৬-৭জন একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মজলিশপুর, সুহিলপুর, বুধল ইউপির কয়েক হাজার বাড়িতে অবৈধভাবে সংযোগ দেয়া হয়েছে। এর জন্য প্রতি মাসে পাঁচশ টাকা করে নিচ্ছে তারা।

মজলিশপুর ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য হাসান মিয়া বলেন, সিন্ডিকেটের সদস্যরা আমাদের চেয়ে শক্তিশালী। এ কারণে আমরা প্রতিবাদ করার সাহস পাই না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, বাকাইল গ্রামসহ যেসব এলাকায় পকেট গ্যাস অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেখানে মাইকিং করে সর্তক করা হচ্ছে। এর পরও কেউ অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ইউএনও পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, সিন্ডিকেটটি চলছে কয়েকজন প্রভাবশালীর নেতৃত্বে। তাদের ভয়ে মুখ খুলছে না গ্রামের মানুষ। এ কারণে তাদের ধরা যাচ্ছে না।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ডিজিএম (বিতরণ) জাহিদুর রেজা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাকাইল গ্রামে নলকূপ-জমি থেকে যে গ্যাস উঠছে তা পকেট গ্যাস। দুয়েক বছরের মধ্যেই এ গ্যাস ওঠা বন্ধ হয়ে যাবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শিক্ষাঙ্গনে অনৈতিকতার অভিযোগ: নওগাঁয় প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন স্ত্রী

আকাশ পথে গ্যাস যাচ্ছে বাসা-বাড়ি

প্রকাশিত : ০১:১৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বাকাইল গ্রামে আকাশ পথে বাসা-বাড়ি ও কারখানায় যাচ্ছে গ্যাস। বিপজ্জনক উপায়ে গ্যাসের পাইপ গাছে ঝুলিয়ে দেয়া হচ্ছে গ্যাস সংযোগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির নলকূপ ও জমি থেকে ওঠা এসব গ্যাস প্লাস্টিকের পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাইপগুলো গাছের উপর দিয়ে বিভিন্ন কারখানা-বাড়িতে নেয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রামের একটি সিন্ডিকেট অবৈধ গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ টাকা। কয়েকবার অভিযান চালিয়ে অসংখ্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও সিন্ডিকেটের হোতাদের ধরতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সিরাজুল ইসলাম ও বিল্লাল আহমেদের নেতৃত্বে বাকাইল গ্রামে ১৫-১৬টি চুন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠেছে। এসব ফ্যাক্টরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে নলকূপ-জমি থেকে ওঠা পকেট গ্যাস।

এছাড়া নূর মিয়া, মাঈনুদ্দিনসহ ৬-৭জন একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মজলিশপুর, সুহিলপুর, বুধল ইউপির কয়েক হাজার বাড়িতে অবৈধভাবে সংযোগ দেয়া হয়েছে। এর জন্য প্রতি মাসে পাঁচশ টাকা করে নিচ্ছে তারা।

মজলিশপুর ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য হাসান মিয়া বলেন, সিন্ডিকেটের সদস্যরা আমাদের চেয়ে শক্তিশালী। এ কারণে আমরা প্রতিবাদ করার সাহস পাই না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, বাকাইল গ্রামসহ যেসব এলাকায় পকেট গ্যাস অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেখানে মাইকিং করে সর্তক করা হচ্ছে। এর পরও কেউ অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ইউএনও পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, সিন্ডিকেটটি চলছে কয়েকজন প্রভাবশালীর নেতৃত্বে। তাদের ভয়ে মুখ খুলছে না গ্রামের মানুষ। এ কারণে তাদের ধরা যাচ্ছে না।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ডিজিএম (বিতরণ) জাহিদুর রেজা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাকাইল গ্রামে নলকূপ-জমি থেকে যে গ্যাস উঠছে তা পকেট গ্যাস। দুয়েক বছরের মধ্যেই এ গ্যাস ওঠা বন্ধ হয়ে যাবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর