১০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত: ইসরাইলের পতন ঘণ্টা

লেবাননে গতকাল বিকেলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ জেরুজালেম খ্যাত কুদস শহর রক্ষার পক্ষে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কুদসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত ওই বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেয়ার জন্য হিজবুল্লাহর মহাসচিব জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

মিছিলকারীরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয় এবং নিন্দা ও ক্ষোভের বাণীবাহী বিচিত্র প্ল্যাকার্ড বহন করে। তারা কুদস শহরকে ফিলিস্তিনের স্থায়ী রাজধানী বলে শ্লোগান দেয়।

গতকালের ওই বিশাল জনসমাবেশে সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন। লেবাননসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনীদের পক্ষে সংঘটিত সাম্প্রতিক বিক্ষাভে অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিক্ষোভ প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে হবে।

হিজবুল্লাহ মহাসচিব বলেন, ট্রাম্প ভেবেছিল “কুদস”কে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিলে সারা বিশ্ব তার পাশে এসে দাঁড়াবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো বিশ্বব্যাপী সংঘটিত প্রতিবাদ বিক্ষোভের ঘটনায় ট্রাম্প কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের চূড়ান্ত পতনের সূচনা বলে হাসান নাসরুল্লাহ মন্তব্য করেন।

এতো অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভের যে ঝড় উঠেছে তাতে সমগ্র ফিলিস্তিনে নতুন করে ইন্তিফাদা গণজাগরণ সৃষ্টি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা। হিজবুল্লাহ মহাসচিবের বক্তব্যে ইসরাইলের ধ্বংসের কথা দৃঢ়তার সঙ্গে উচ্চারিত হয়েছে। কুদস সম্পর্কে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ইসরাইলের সেই “পতনের ঘণ্টা” বেজে উঠেছে।

কুদসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেয়া এবং তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস কুদস শরীফে স্থানান্তরের ঘোষণা নজিরবিহীন একটি ঘটনা। আমেরিকা এই ঘোষণা দিয়ে ইসরাইলকে স্থায়িত্ব দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ফলাফল হলো বিপরীত। বুদ্ধিজীবী এবং চিন্তাবিদ মহলেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্বয়ং মার্কিন রাজনীতি বিজ্ঞানী প্রফেসর জন মেরশেইমার বলেছেন, মার্কিন সরকার কুদসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেয়ার সিদ্ধান্তটা ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতির মারাত্মক একটি ভুল।

আমেরিকা যেভাবে একচেটিয়া ইসরাইলের পক্ষ নিয়েছে তা প্রমাণ করেছে মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে ফলিস্তিন সংকট সমাধানে মধ্যস্থতার জন্য ওয়াশিংটন মোটেই বিশ্বস্ত বা গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের পতনের প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত হলো।

কিছুদিন আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ বলেছিল: ইসরাইল আর বেশিদিন টিকবে না। মার্কিন বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাতেও এই সত্যটি উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তারই সূচনা ঘটেছে লেবাননসহ বিশ্বব্যাপী মার্কিন ও ইসরাইল বিরোধী প্রতিবাদ বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে। এই বিক্ষোভ বুঝিয়ে দিয়েছে বিশ্ববাসী আর মার্কিন আধিপত্যবাদী নীতি মেনে নিতে রাজি নয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তশালী হলে জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী হবে: ফারজানা শারমিন পুতুল

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত: ইসরাইলের পতন ঘণ্টা

প্রকাশিত : ০৬:২৫:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭

লেবাননে গতকাল বিকেলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ জেরুজালেম খ্যাত কুদস শহর রক্ষার পক্ষে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কুদসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত ওই বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেয়ার জন্য হিজবুল্লাহর মহাসচিব জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

মিছিলকারীরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয় এবং নিন্দা ও ক্ষোভের বাণীবাহী বিচিত্র প্ল্যাকার্ড বহন করে। তারা কুদস শহরকে ফিলিস্তিনের স্থায়ী রাজধানী বলে শ্লোগান দেয়।

গতকালের ওই বিশাল জনসমাবেশে সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন। লেবাননসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনীদের পক্ষে সংঘটিত সাম্প্রতিক বিক্ষাভে অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিক্ষোভ প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে হবে।

হিজবুল্লাহ মহাসচিব বলেন, ট্রাম্প ভেবেছিল “কুদস”কে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিলে সারা বিশ্ব তার পাশে এসে দাঁড়াবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো বিশ্বব্যাপী সংঘটিত প্রতিবাদ বিক্ষোভের ঘটনায় ট্রাম্প কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের চূড়ান্ত পতনের সূচনা বলে হাসান নাসরুল্লাহ মন্তব্য করেন।

এতো অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভের যে ঝড় উঠেছে তাতে সমগ্র ফিলিস্তিনে নতুন করে ইন্তিফাদা গণজাগরণ সৃষ্টি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা। হিজবুল্লাহ মহাসচিবের বক্তব্যে ইসরাইলের ধ্বংসের কথা দৃঢ়তার সঙ্গে উচ্চারিত হয়েছে। কুদস সম্পর্কে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ইসরাইলের সেই “পতনের ঘণ্টা” বেজে উঠেছে।

কুদসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেয়া এবং তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস কুদস শরীফে স্থানান্তরের ঘোষণা নজিরবিহীন একটি ঘটনা। আমেরিকা এই ঘোষণা দিয়ে ইসরাইলকে স্থায়িত্ব দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ফলাফল হলো বিপরীত। বুদ্ধিজীবী এবং চিন্তাবিদ মহলেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্বয়ং মার্কিন রাজনীতি বিজ্ঞানী প্রফেসর জন মেরশেইমার বলেছেন, মার্কিন সরকার কুদসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেয়ার সিদ্ধান্তটা ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতির মারাত্মক একটি ভুল।

আমেরিকা যেভাবে একচেটিয়া ইসরাইলের পক্ষ নিয়েছে তা প্রমাণ করেছে মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে ফলিস্তিন সংকট সমাধানে মধ্যস্থতার জন্য ওয়াশিংটন মোটেই বিশ্বস্ত বা গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের পতনের প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত হলো।

কিছুদিন আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ বলেছিল: ইসরাইল আর বেশিদিন টিকবে না। মার্কিন বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাতেও এই সত্যটি উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তারই সূচনা ঘটেছে লেবাননসহ বিশ্বব্যাপী মার্কিন ও ইসরাইল বিরোধী প্রতিবাদ বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে। এই বিক্ষোভ বুঝিয়ে দিয়েছে বিশ্ববাসী আর মার্কিন আধিপত্যবাদী নীতি মেনে নিতে রাজি নয়।