করোনাভাইরাস ‘কোভিড-১৯’ ইস্যুতে আগামী ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ভিন্ন আঙ্গিকে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যতটা সম্ভব জনসমাগম এড়িয়ে প্রযুক্তিনির্ভর অনুষ্ঠানের দিকে জোর দেওয়া হবে।
রোববার (৮ মার্চ) রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানার সঙ্গে মুজিববর্ষ বাস্তবায়ন কমিটি ও মুজিববর্ষ জাতীয় কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। পরে তিনি সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মুজিববর্ষ বাস্তবায়ন কমিটি ও মুজিববর্ষ জাতীয় কমিটির যৌথ সভা ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং ওনার বোনের সঙ্গে আমরা একসঙ্গে বসেছি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাস ইস্যুতে করনীয় সম্পর্কে মতামত চাইলেন। আমরা সবাই ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শতবর্ষ উদযাপন করব বলে মত দেই।’ তবে এই অনুষ্ঠান হবে সীমিত পরিসরে। আর তা হবে ভিডিও, ফেসবুকসহ প্রযুক্তিনির্ভর।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছাড়া বাকি যতগুলো অনুষ্ঠান রয়েছে আমরা সেগুলোও উদযাপন করব। তবে আঙ্গিকটা একটু ভিন্ন হবে। জনসমাবেশটা হবে না। কারণ জনসমাবেশে ঝুঁকির আশঙ্কা থাকে। প্রধানমন্ত্রী ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা এটা নিয়ে খুব চিন্তিত, যেন জনগণের কোনো ঝামেলা না হয়।
বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের পরিকল্পনা সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন জনসমাবেশ করব না। কিন্তু আমরা অনুষ্ঠান করব। আমাদের অনুষ্ঠান করব ভিডিও, ফেইসবুক, ইন্টারনেটসহ নানান কিছুর মাধ্যমে। অল মর্ডান টেকনোলজি ব্যবহার করার মাধ্যমে। টেকনোলজির ওপর জোর দেব বেশি।’
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন শুরু হবে আগামী ১৭ মার্চ। এই অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন নেতা ও বিশিষ্টজনদের আমন্ত্রণ করেছে সরকার। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ আরো কয়েকজন বিশ্বনেতার উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
এই পরিস্থিতিতে বিদেশি অতিথিদের ঢাকা সফর নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি অতিথিদের বাংলাদেশ সফর নিয়ে কাল আলোচনা করা হবে। আলোচনার পর পরবর্তী ব্যবস্থা জানবেন।’
মুজিববর্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ মোহাম্মদ বিন যায়েদ আল নাহিয়ান, ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধি, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুনসহ আরো অনেক অতিথি তালিকায় আছেন।
এর আগে গতকাল সিলেটের ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুজিববর্ষ উদযাপন করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস সারাবিশ্বে আতঙ্ক তৈরি করেছে আর এটি মুজিব বর্ষ উদযাপনে বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে।’
এদিকে আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এক অনুষ্ঠানে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশের পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইনশাল্লাহ, আমাদের পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে (করোনাভাইরাস মোকাবিলায়) এবং আমরা যথাযথ ব্যবস্থা করব। এখানে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু নেই।’
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ





















