পাবনাবাসীর সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন সত্যি হয়ে আজ শুরু হয়েছে ট্রেন চলাচল। পাবনার মানুষ ঝকঝকে রেলগাড়িতে ভ্রমণের অপেক্ষায় ছিল বহুদিন। তাদের বহুদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পা রাখবে স্বপ্নের সেই ঝকঝক শব্দের প্রিয়বাহন ট্রেন ভ্রমণে।। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় পাবনা-ঈশ্বরদী পর্যন্ত পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু করেছে।
এ ব্যাপারে পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা শওকত জামিল জানান, ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে ৩০ সদস্যের একটি টিম নিয়ে ট্রেনটি পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু করেছে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে রাজশাহী থেকে পাবনা পর্যন্ত ভ্রমণপ্রিয় ট্রেন যাত্রীদের সুবিধার জন্য কমিউটার ট্রেন চলাচল হবে। এতে কম খরচে ও কম সময়ে বিভাগীয় শহর রাজশাহীর সঙ্গে সংযোগ ঘটবে। চিকিৎসা, শিক্ষাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষ যাতায়াত সুবিধা পাবে।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী-২ আসাদুল হক মুঠোফোনে জানান, বর্তমান সরকার রেলবান্ধব সরকার। চলতি বছরের শেষে রাজশাহী এবং ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা-পাবনা রুটে ঝকঝকে রেল চলবে।
বহুল প্রতীক্ষিত ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেলপথের পাবনা পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার রেললাইনে প্রথম ধাপে ট্রেন চলবে। মোট ৭৮ কিলোমিটার নতুন রেলরুটের বাকি ৫৩ কিলোমিটারের নির্মাণ দ্বিতীয় ধাপে শেষ হবে আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে।
১৯১৪ সালে পদ্মানদীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ চালু হলে সে সময়েই ঈশ্বরদী থেকে পাবনা পর্যন্ত লিংক রোড রেললাইনের দাবি ওঠে। ব্রিটিশ শাসকরা এ দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে বাস্তবায়িত হয়নি।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকার ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে নগরবাড়ী পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করে। সে সময় জমিও অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে পাবনা শহরের টাউন হল মুক্তমঞ্চ মাঠে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা পাবনার মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেন যে, আগামীতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে এ রেলালাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
২০১০ সালে নকশার কিছুটা পরিবর্তন এনে রেলপথটি ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে বেড়া উপজেলার ঢালারচর পর্যন্ত নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগসরকার। ওই বছরের ০৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৯৮২ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা।
২০১৩ সালের ০২ ফেব্রুয়ারি পাবনা সরকারি অ্যাডওয়ার্ড কলেজ মাঠের জনসভায় এ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ রুটে পূর্ণাঙ্গ ট্রেন চলাচল শুরু হলে উত্তর জনপদের আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ব্যবসা-বাণিজ্যে গুণগত মানের পরিবর্তন ঘটবে। রেলপথে পণ্য পরিবহনে স্বল্প খরচের কারণে এই এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।




















