মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে আগস্ট মাসে অন্তত ছয় হাজার ৭০০ রোহিঙ্গা হত্যা করেছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে ফরাসি দাতব্য সংস্থা মেডেসিনস স্যান্স ফ্রন্টিয়েরস বা ডক্টরস উইথআউট বর্ডার (এমএসএফ)।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের ওপরে করা এক জরিপ শেষে এই তথ্য জানায় দাতা সংস্থাটি। এমএসএফ বলেছে, মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ পরিচালিত ‘ব্যাপক সহিংসতার স্পষ্ট ইঙ্গিত’ এটি।
দাতা সংস্থাটির জরিপে বলা হয়েছে, ২৫ আগস্ট থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তত ৯ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে মারা যায়। এর মধ্যে অন্তত ৬ হাজার ৭’শ মৃত্যুর কারণ সহিংসতা, যার মধ্যে পাঁচ অথবা তার চেয়ে কম বয়সের শিশু ছিল ৭৩০ জন।
একমাস ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দুই হাজার ৪৩৪ জনের উপর এই জরিপ চালানো হয়। জরিপে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ৬৯ শতাংশ মারা গেছে গুলিতে। নয় শতাংশ মারা গেছে ঘরের ভেতরে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে এবং পাঁচ শতাংশকে হত্যা করা হয়েছে পিটিয়ে।
জরিপে আরো দেখা যায়, পাঁচ বছরের নিচে প্রায় ৬০ শতাংশ শিশুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
মিয়ানমার সেনাবাহিনী সন্ত্রাসীদের ওপর সহিংসতার দায় দিয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করছে। এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ছয় লাখ ৪৭ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
গ্রুপের মেডিকেল ডিরেক্টর সিডনি ওং বলেছেন, মিয়ানমারের সহিংতা থেকে বেঁচে যাওয়াদের সাথে আমরা সাক্ষাত করেছি ও কথা বলেছি। তারা বর্তমানে বাংলাদেশে জনাকীর্ণ ও অস্বাস্থাকর শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এসব নির্যাতনের খবর অস্বীকার করে বলেছে নিহতের সংখ্যা ৪০০। এদের মধ্যে ৩৭৬ জনই রোহিঙ্গা মুসলিম জঙ্গি এবং তাদেরকে অভিযান শুরুর প্রথম কয়েক সপ্তাহে হত্যা করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি ও ফ্রান্স২৪























