১১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের সকল জেলায় ৯৫ শতাংশ পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে গেছে

দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় ৯৫ শতাংশ পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে গেছে। চলছে আগামী শিক্ষাবর্ষের নতুন পাঠ্যপুস্তক উৎসব উদ্বোধনের প্রস্তুতি। ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন এবং ১ জানুয়ারি দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে চার রঙের পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছর ভুলে ভরা বই সংশোধন, ১২টি পাঠ্যবই পরিমার্জন, বিলম্বে টেন্ডার আহ্বান, ঠিকাদারদের ধর্মঘটসহ বেশ কিছু সঙ্কট সৃষ্টি হয়। তবে আগামী বছরের জন্য কঠোর মনিটরিং ও পরিশ্রম করে নির্ধারিত সময়ের আগেই টেকসই ও মানসম্মত বই ছাপার কাজ প্রায় শেষ করা সম্ভব হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য ৩৬ কোটি ৩০ লাখ ১১ হাজার ৭৫৭টি বই প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত হয়। তার মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের দাখিলে তিন কোটি ৫৩ লাখ ২৭ হাজার ৪৮৩টি, মাধ্যমিকে (উচ্চ বিদ্যালয়) ১৮ কোটি ৭৩ লাখ ৮৫ হাজার ৯২১টি ও ইবতেদায়ির দুই কোটি ৯৭ লাখ এক হাজার ২৪টি, প্রাক-প্রাথমিকে ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৮টি, প্রাথমিকে ১০ কোটি ৩৬ লাখ ২৪ হাজার ৪০৫টি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক লাখ ৪৯ হাজার ২৭৬টি বই ছাপার দরপত্র দেয়া হয়।

এনসিটিবির কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিকের ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৮টি বইয়ের মধ্যে ৫২ লাখ ২৪ হাজার ৫৫৯টি বই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে। প্রাথমিকের ১০ কোটি ৩৬ লাখ ২৫ হাজার ৪৮০টি বইয়ের মধ্যে ১০ কোটি ২৫ লাখ ১৮ হাজার ১৬৩টি বই সরবরাহ করা হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষার এক লাখ ৪৯ হাজার ৭৭৬টি বইয়ের সবগুলো সরবরাহ করা হয়েছে।

এনসিটিবিরি সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক ড. মিয়া ইনামুল হক সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রায় শতভাগ (৯৫ ভাগ) বই সরবরাহ শেষ। এখন চলছে ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধনের প্রস্তুতি। যেসব বই সরবরাহ করা হয়নি সেগুলো আপদকালীন সঙ্কট মোকাবেলার জন্য সরকারি গুদামে রাখা হবে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, এবারের বইয়ের ছাপার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। মনিটরিং টিম যেখানেই সমস্যা পেয়েছে সঙ্গে সঙ্গে ছাপার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের ছাড়পত্র ছাড়া কেউই বই ছাপাতে পারেনি।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, মাধ্যমিক স্তরের কিছু ও ইবতেদায়ির বই ছাপার জন্য ২২০টি লটে আলাদা টেন্ডার দেয়া হয়। এ লটের ১৬ কোটি ৬৭ লাখ বইয়ের মধ্যে পিএ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১৮ লাখ বই ছাপার কাজ পায়। প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমানের কাগজে বই ছাপালে তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হয় এবং নতুন করে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে এসব কাজ দেয়া হয়। মাধ্যমিক স্তরের ৭ কোটি ৫৩ লাখ ৮ হাজার ৯৫৩টি বই ৩৪০ লটে টেন্ডার দেয়া হয়। এ লটের মাত্র এক লাখ ৯৮ হাজার ২৮০টি বই সরবরাহ বাকি রয়েছে।

এনসিটিবির উৎপাদক নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. আব্দুল মজিদ বলেন, ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের শতভাগ বই সরবরাহ শেষ হবে। গত বছর প্রাথমিকের বই ছাপার কাজ বিদেশি প্রতিষ্ঠান পাওয়ায় মার্চ মাসেও অনেক উপজেলায় বই দেয়া সম্ভব হয়নি। এবার ১ জানুয়ারি বই উৎসবের আগেই সকল শিক্ষার্থী নতুন বই পাবে।

তিনি আরো বলেন, বিগত বছর বইয়ের ছাপার মান নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এবার দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বইয়ের মান শতভাগ নিশ্চিত করেছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার চেষ্টা করলেও মনিটরিং টিমের হাতে ধরা পড়লে তা নষ্ট করে দেয়া হয়েছে।

এ বছর শিক্ষাবিদদের পরামর্শে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিকের নবম শ্রেণির (স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি) সাধারণ বিজ্ঞান, পদার্থ, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের (চারটি বিষয়) ১২টি বই সহজবোধ্য ও ভেতরে সব পাতা রঙিন করে ছাপানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরিমার্জিত ১২টি বইয়ের পাণ্ডুলিপি তৈরি করতে কিছুটা বিলম্ব হয়।

এক কোটি ৯৪ লাখ ৬৮ হাজার ৬৯১টি ‘সুখ পাঠ্য’ বই ১০২ লটে টেন্ডার দেয়া হয়। দেরিতে টেন্ডারসহ কার্যাদেশ দেয়ায় আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই সরবরাহ করার শর্ত রয়েছে। এরই মধ্যে ৭৮ লাখ বই সরবরাহ শেষ। আর দৃৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির ৮ হাজার ৪০৫টি বই সরবরাহ শেষ হয়েছে।

এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ফারহাদুল ইসলাম বলেন, ‘সুখ পাঠ্য’ বই সরবরাহে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছি। এসব বই ছাপার কাজ পাওয়া ঠিকাদারদের অনুরোধ করেছি ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ বই সরবরাহ করতে। তারা আমাদের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। এ ছাড়া বই ছাপিয়ে ১ জানুয়ারির আগে সরবরাহে কোনো শঙ্কা নেই। এবার শতভাগ বই ব্লু বাইন্ডিং (মেশিনে সেলাই) করা হয়েছে। সহজেই বই ছিড়ে যাবে না। পানিতে ভিজলেও নষ্ট হবে না।

তিনি বলেন, অনেকে প্রশ্ন তুলেছিল ৩৬ কোটি বই ছাপার ব্লু বাইন্ডিং মেশিন কি দেশে আছে? ১ জানুয়ারির আগে শতভাগ বই ছাপানো সম্ভব হবে না। আমরা রাতদিন পরিশ্রম করে তাদের সে শঙ্কা মিথ্যা প্রমাণ করেছি।

পাঠ্যপুস্তক সংক্রান্ত বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা জাগো নিউজকে বলেন, আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সারাদেশে শতভাগ বই পৌঁছে দেয়া হবে। এ পর্যন্ত প্রায় ৯৫ শতাংশ বই বিতারণ করা হয়েছে। নবম-দশম শ্রেণির সুখ পাঠ্যের ৬০ শতাংশ বই বাকি রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা পৌঁছে যাবে।

তিনি আরো বলেন, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ জাতির জন্য একটি গৌরবময় বিষয়, যা একটি মহা কর্মযজ্ঞ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে সেসব বই তুলে দিতে হয়। কাজ করতে নানা ভুল-ভ্রান্তি ঘটে। সেই চ্যালেঞ্জকে মাথায় নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হয়।

উল্লেখ্য, চলতি শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বেশকিছু ভুল ও বিকৃতি করে ছাপা হয়। এরপর শেষব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। একপর্যায়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। এ ছাড়া বিভিন্ন দাবিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বই ছাপার কাজ বন্ধ করে ধর্মঘট করে বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির নেতারা।

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

দেশের সকল জেলায় ৯৫ শতাংশ পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে গেছে

প্রকাশিত : ১০:৪১:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় ৯৫ শতাংশ পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে গেছে। চলছে আগামী শিক্ষাবর্ষের নতুন পাঠ্যপুস্তক উৎসব উদ্বোধনের প্রস্তুতি। ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন এবং ১ জানুয়ারি দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে চার রঙের পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছর ভুলে ভরা বই সংশোধন, ১২টি পাঠ্যবই পরিমার্জন, বিলম্বে টেন্ডার আহ্বান, ঠিকাদারদের ধর্মঘটসহ বেশ কিছু সঙ্কট সৃষ্টি হয়। তবে আগামী বছরের জন্য কঠোর মনিটরিং ও পরিশ্রম করে নির্ধারিত সময়ের আগেই টেকসই ও মানসম্মত বই ছাপার কাজ প্রায় শেষ করা সম্ভব হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য ৩৬ কোটি ৩০ লাখ ১১ হাজার ৭৫৭টি বই প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত হয়। তার মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের দাখিলে তিন কোটি ৫৩ লাখ ২৭ হাজার ৪৮৩টি, মাধ্যমিকে (উচ্চ বিদ্যালয়) ১৮ কোটি ৭৩ লাখ ৮৫ হাজার ৯২১টি ও ইবতেদায়ির দুই কোটি ৯৭ লাখ এক হাজার ২৪টি, প্রাক-প্রাথমিকে ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৮টি, প্রাথমিকে ১০ কোটি ৩৬ লাখ ২৪ হাজার ৪০৫টি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক লাখ ৪৯ হাজার ২৭৬টি বই ছাপার দরপত্র দেয়া হয়।

এনসিটিবির কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিকের ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৮টি বইয়ের মধ্যে ৫২ লাখ ২৪ হাজার ৫৫৯টি বই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে। প্রাথমিকের ১০ কোটি ৩৬ লাখ ২৫ হাজার ৪৮০টি বইয়ের মধ্যে ১০ কোটি ২৫ লাখ ১৮ হাজার ১৬৩টি বই সরবরাহ করা হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষার এক লাখ ৪৯ হাজার ৭৭৬টি বইয়ের সবগুলো সরবরাহ করা হয়েছে।

এনসিটিবিরি সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক ড. মিয়া ইনামুল হক সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রায় শতভাগ (৯৫ ভাগ) বই সরবরাহ শেষ। এখন চলছে ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধনের প্রস্তুতি। যেসব বই সরবরাহ করা হয়নি সেগুলো আপদকালীন সঙ্কট মোকাবেলার জন্য সরকারি গুদামে রাখা হবে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, এবারের বইয়ের ছাপার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। মনিটরিং টিম যেখানেই সমস্যা পেয়েছে সঙ্গে সঙ্গে ছাপার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের ছাড়পত্র ছাড়া কেউই বই ছাপাতে পারেনি।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, মাধ্যমিক স্তরের কিছু ও ইবতেদায়ির বই ছাপার জন্য ২২০টি লটে আলাদা টেন্ডার দেয়া হয়। এ লটের ১৬ কোটি ৬৭ লাখ বইয়ের মধ্যে পিএ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১৮ লাখ বই ছাপার কাজ পায়। প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমানের কাগজে বই ছাপালে তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হয় এবং নতুন করে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে এসব কাজ দেয়া হয়। মাধ্যমিক স্তরের ৭ কোটি ৫৩ লাখ ৮ হাজার ৯৫৩টি বই ৩৪০ লটে টেন্ডার দেয়া হয়। এ লটের মাত্র এক লাখ ৯৮ হাজার ২৮০টি বই সরবরাহ বাকি রয়েছে।

এনসিটিবির উৎপাদক নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. আব্দুল মজিদ বলেন, ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের শতভাগ বই সরবরাহ শেষ হবে। গত বছর প্রাথমিকের বই ছাপার কাজ বিদেশি প্রতিষ্ঠান পাওয়ায় মার্চ মাসেও অনেক উপজেলায় বই দেয়া সম্ভব হয়নি। এবার ১ জানুয়ারি বই উৎসবের আগেই সকল শিক্ষার্থী নতুন বই পাবে।

তিনি আরো বলেন, বিগত বছর বইয়ের ছাপার মান নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এবার দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বইয়ের মান শতভাগ নিশ্চিত করেছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার চেষ্টা করলেও মনিটরিং টিমের হাতে ধরা পড়লে তা নষ্ট করে দেয়া হয়েছে।

এ বছর শিক্ষাবিদদের পরামর্শে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিকের নবম শ্রেণির (স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি) সাধারণ বিজ্ঞান, পদার্থ, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের (চারটি বিষয়) ১২টি বই সহজবোধ্য ও ভেতরে সব পাতা রঙিন করে ছাপানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরিমার্জিত ১২টি বইয়ের পাণ্ডুলিপি তৈরি করতে কিছুটা বিলম্ব হয়।

এক কোটি ৯৪ লাখ ৬৮ হাজার ৬৯১টি ‘সুখ পাঠ্য’ বই ১০২ লটে টেন্ডার দেয়া হয়। দেরিতে টেন্ডারসহ কার্যাদেশ দেয়ায় আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই সরবরাহ করার শর্ত রয়েছে। এরই মধ্যে ৭৮ লাখ বই সরবরাহ শেষ। আর দৃৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির ৮ হাজার ৪০৫টি বই সরবরাহ শেষ হয়েছে।

এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ফারহাদুল ইসলাম বলেন, ‘সুখ পাঠ্য’ বই সরবরাহে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছি। এসব বই ছাপার কাজ পাওয়া ঠিকাদারদের অনুরোধ করেছি ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ বই সরবরাহ করতে। তারা আমাদের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। এ ছাড়া বই ছাপিয়ে ১ জানুয়ারির আগে সরবরাহে কোনো শঙ্কা নেই। এবার শতভাগ বই ব্লু বাইন্ডিং (মেশিনে সেলাই) করা হয়েছে। সহজেই বই ছিড়ে যাবে না। পানিতে ভিজলেও নষ্ট হবে না।

তিনি বলেন, অনেকে প্রশ্ন তুলেছিল ৩৬ কোটি বই ছাপার ব্লু বাইন্ডিং মেশিন কি দেশে আছে? ১ জানুয়ারির আগে শতভাগ বই ছাপানো সম্ভব হবে না। আমরা রাতদিন পরিশ্রম করে তাদের সে শঙ্কা মিথ্যা প্রমাণ করেছি।

পাঠ্যপুস্তক সংক্রান্ত বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা জাগো নিউজকে বলেন, আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সারাদেশে শতভাগ বই পৌঁছে দেয়া হবে। এ পর্যন্ত প্রায় ৯৫ শতাংশ বই বিতারণ করা হয়েছে। নবম-দশম শ্রেণির সুখ পাঠ্যের ৬০ শতাংশ বই বাকি রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা পৌঁছে যাবে।

তিনি আরো বলেন, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ জাতির জন্য একটি গৌরবময় বিষয়, যা একটি মহা কর্মযজ্ঞ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে সেসব বই তুলে দিতে হয়। কাজ করতে নানা ভুল-ভ্রান্তি ঘটে। সেই চ্যালেঞ্জকে মাথায় নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হয়।

উল্লেখ্য, চলতি শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বেশকিছু ভুল ও বিকৃতি করে ছাপা হয়। এরপর শেষব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। একপর্যায়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। এ ছাড়া বিভিন্ন দাবিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বই ছাপার কাজ বন্ধ করে ধর্মঘট করে বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির নেতারা।