করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে থেমে গেছে গোটা পৃথিবী। বাংলাদেশেও ক্রমশ বেড়েই চলেছে কোভিড-১৯ এর বিস্তার। প্রতিদিনই লাফিয়ে বাড়ছে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ইতিমধ্যেই দেশের জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পরেছে এই ভয়াবহ করোনা ভাইরাস। তাই এই ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার ঠেকাতে সারাদেশে লকডাউন ও নিয়মিত বিভিন্ন সতর্কতা জারি করছেন বাংলাদেশ সরকার। এখন পর্যন্ত সারাদেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২৪ জন। পাশাপাশি মৃতের সংখ্যা ২৭ জন।
এদিকে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মৌপুকুর গ্রামে স্বেচ্ছায় লকডাউন ঘোষণা করেছেন গ্রামের স্বেচ্ছাসেবী যুবসমাজ ও গ্রামবাসী। ‘নিজের গ্রামে নিজেই থাকি, নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখি’ স্লোগানকে সামনে রেখে চলছে এই লকডাউন। গ্রামের প্রবেশদ্বারে জনসাধারণের জন্য সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং গোটা শরীর স্প্রে করে গ্রামে প্রবেশ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া গোটা গ্রামেই প্রতিদিন জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করার পাশাপাশি সবাইকে করোনা ভাইরাসের বিষয়ে সচেতন ও সতর্ক করছেন গ্রামের স্বেচ্ছাসেবী তরুণরা।
মৌপুকুর গ্রামে প্রায় ১৪০ টির মতো পরিবারের বসবাস। এই পরিবারগুলোর অধিকাংশই ভ্যান, রিক্সা বা অটো চালক, মটরশ্রমিক, রাজমিস্ত্রী, অপরের বাড়িতে খেটে খাওয়া দিনমজুর হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। দেশের চলমান এই পরিস্থিতিতে একটানা গৃহবন্দী হয়ে পরায় দারুণ বেকায়দায় পরেছেন নিম্ন আয়ের এই পরিবারগুলো। যাদের অনেকের ঘরেই ফুরিয়ে গেছে খাদ্যের সবটুকু সঞ্চয়। সারাদেশে ঘরে ঘরে সরকারিভাবে ত্রান দেয়ার ঘোষণা হলেও মৌপুকুর গ্রামে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের মাধ্যমে সরকারি ত্রান-সাহায্য পেয়েছে মাত্র ১৪-১৫ টি পরিবার। অত্র উপজেলার অন্যান্য বিভিন্ন জায়গায় অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও নিজস্ব ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকেই দরিদ্রদের মাঝে ত্রান বিতরণ করলেও মৌপুকুর গ্রামের এখন পর্যন্ত খোঁজ নেয়নি কেউ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কতোদিনে সেটা নিয়ে খুব আতংকে রয়েছেন গোটা গ্রামবাসী। এমন সংকটে একটু সাহায্যের আশায় অসহায় এই পরিবারগুলো স্থানীয় এমপি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
এ বিষয়ে অত্র গ্রামের দরিদ্র ভ্যান চালক একরামুল অভিযোগ করে বললেন- বিরামপুর বাজারত গেলে পুলিশ আর্মিয়ে মারে, আর বাড়িত থাকলে ভাত নাই, বউ ছল না খায়ে থাকে। তালে হামার ঐ অসুখ হোক আর না হোক, হারা তো না খায়েই মরে যামো বাহে। শোনা গেলো হামাক ভ্যান রিক্সা আলাঘরক সব্বাকি নাকি সরকার সাহায্য দিবে? তা কোটে? ঐ চেয়ারম্যান মেম্বারতো দেখে দেখে অমার কাছের কটা মানুষক খালি দিলো, আর হারা জি না খায়ে আছি সেটা অমার চোখতই পরোছেনা। কিছু চাবা গেলেই হামাক খালি দিমো দিমো কয় কিন্তু হামাক তো কিচ্ছু দেয়না। যারা পায় তামাকই খালি ঘুরে ফিরে দেয়। তালে হারা কার কাছে যামো?
বিজনেস বাংলাদেশ/বাবুল






















